সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

'নেত্রী বেঁচে আছেন তো’ মৃত্যুর আগে জানতে চেয়েছিলেন রতন

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ১০:৪২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট৷ দেড় দশক আগে এই দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালায় হরকাতুল জিহাদের একদল জঙ্গি৷ সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জের রতন শিকদার৷ বিকেলে শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ দিকে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথেও বন্ধুদের কাছে বার বার জিজ্ঞেস করছিলেন ‘আমার নেত্রী বেঁচে আছেন তো’। একথা বলতে বলতেই এক সময়ে ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে।

আব্বাস উদ্দিন শিকদার ওরফে রতন শিকদারের বাড়ি ফতুল্লার গাবতলী এলাকায়৷ সে ফতুল্লার বিভিন্ন টেক্সটাইল মিল থেকে কাপড় কিনে দোকানে বিক্রি করতেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্ধ ভক্ত ছিলেন তিনি৷ ক্ষুদ্র ব্যবসার স্বল্প উপার্জনে সংসার চালানো দায় হলেও শেখ হাসিনার কোনো সমাবেশ হলেই নিজের টাকা খরচ করে সেখানে ছুটে যেতেন তিনি। শেখ হাসিনা কোনো সমাবেশে ভাষণ দেবেন খবরটি শুনলেই সব ভুলে চলে যেতেন সমাবেশস্থলে, মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতেন সে ভাষণ৷ রাতে বাড়ি ফিরে সেই গল্প শোনাতেন পরিবারের সকলকে৷ সেদিনের গল্প শোনানোর আগেই চুপ হয়ে যান তিনি৷ সেদিন সমাবেশে যাওয়ার আগে মমতাময়ী মাকে বলে গিয়েছিল ‘আজ তাড়াতাড়ি ফিরব’।

২১ আগস্টের নৃশংস সেই হামলায় রতনের মৃত্যুর পর পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। নিহত রতনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি বসবাস করলেও ২১ আগস্ট আসলে পরিবারের সদস্যদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠে৷ 

রতন শিকদারের ছোট ভাই কবিরউদ্দিন সিকদার টুটুল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্ধ ভক্ত ছিলেন রতন শিকদার। বাবা মৃত আব্দুল হক শিকদারও ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নেত্রীর টানে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছুটে গিয়েছিলেন রতন। বিকেলে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষের দিকে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান৷

তিনি জানান, রতনের মৃত্যুর পর প্রথমে এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়। ২০১৩ সালে রতনের দুই ছেলে মেয়েকে দুই লাখ টাকা করে ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়েছে বলে জানান টুটুল৷

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ