সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

এ কেমন আচরন! (ভিডিওসহ)

মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: পরীক্ষাপত্র রেখে পরীক্ষা দিতে না দেয়া ও শিক্ষকের অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে পরীক্ষার্থীরা। এ সময় পুরাতন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে পরীক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা অবরোধ তুলে নেয়।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) নারায়নগঞ্জ গভমেন্ট গার্লস স্কুলে অনুষ্ঠিত মার্স্টাসের পরীক্ষা শেষে এ বিক্ষোভ করে পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিনা কারণে ৪০জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাপত্র রেখে দেন পরীক্ষক নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ও কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম। পরীক্ষার ৩ ঘন্টা পর পরীক্ষাপত্র ফেরত চাইলে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন তিনি।

বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাষক রফিকুল ইসলাম সকল শিক্ষার্থীদের তাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন তার কাছে জমা দিতে বলেন। সে অনুযায়ী কক্ষের ৪০জন পরীক্ষার্থী তাদের ফোন জমা দেন। কিন্তু ফোন জমা দেবার পরও পরীক্ষক রফিকুল ইসলাম সেই ৪০ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাপত্র রেখে দেন এবং বলেন ২ ঘন্টা পর তা ফেরত দেয়া হবে। দুই ঘন্টা পেরিয়ে ৩ ঘন্টা হয়ে যায়। পরীক্ষাপত্র ফেরত না পেয়ে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকের কাছে মিনতি করেন। তবুও পরীক্ষাপত্র ফেরত না দিয়ে উল্টো তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন প্রভাষক রফিকুল ইসলাম।

মাস্টার্সের পরীক্ষার্থী রুমা অভিযোগ করে বলেন, ‘পরীক্ষার প্রথমেই রফিক স্যার আমাদের খাতা নিয়ে নেন। আমরা স্যারের কাছে গিয়ে মিনতি করে বলি, স্যার ৩ ঘন্টা হয়ে গেল। এবার আমাদের পরীক্ষার খাতাগুলো দিয়ে দিন। শুধু পাসিং মার্কটাই তুলবো। প্লিজ স্যার খাতাগুলো দিয়ে দিন। তার উত্তরে স্যার আমাকে বললেন, ‘ছাদ থেকে পরে মরে যাও। তোমাকেও টিভিতে দেখাবে আর আমাকেও টিভিতে দেখাবে।’

মাস্টার্সের আরেক পরীক্ষার্থী মহশীন বলেন, ‘পরীক্ষার খাতার জন্য আমি কাঁদতে কাঁদতে স্যারের পায়ে পড়ি। অনেকবার মিনতি করে বলি, স্যার আমার খাতা দিয়ে দিন। পাসিং মার্কটা তুলে চলে যাবো। স্যার তখন আমাকে লাথি মেরে সরিয়ে দেন। তারপরও যখন খাতা ফেরত চাইলাম রফিক স্যার আমার গালে কষিয়ে থাপ্পর মারেন। তখন সত্যিই ইচ্ছে করছিলো ছাদ থেকে লাফিয়ে মরে যাই।’

শিক্ষকের এমন অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষে নারায়ণগঞ্জ গভমেন্ট গার্লস স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। বিক্ষোভের এক পর্যায় স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দিলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়। তবু বিক্ষোভ অব্যাহত রানের তারা। এক পর্যায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় পুরাতন ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সড়কে নেমে আসেন পরীক্ষার্থীরা। সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং প্রায় ২০ মিনিট পুরাতন ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় সড়ক থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। তারা বানিয়ে বানিয়ে বলছে। পরীক্ষা কক্ষে পরীক্ষার্থী গোপনে এন্ড্রয়েট ফোন নিয়ে আসে। একাধিকবার চাওয়ার পরও যখন ফোন জমা দেয়নি। তখন আমরা তাদের সার্চ করি। এ সময় ২৮ জনের কাছে ফোন পাওয়ায় তাদের পরীক্ষাপত্র রেখে দেই। বেলা ৪টায় পরীক্ষার্থীরা আমাদের কাছে আসেন এবং বলেন, তাদের পরীক্ষাপত্র ফিরিয়ে দিতে। তখন একজন ছাত্রী বলে, পরীক্ষাপত্র ফেরত না দিলে সে আত্মহত্যা করবে। তার প্রতি উত্তরে আমরা তাদের তেমন কিছুই বলিনি।’

সব খবর
শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সর্বশেষ