শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮

তিন কারণে নগরবাসীর দূর্ভোগ

রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ঈদ ঘিরে নগরবাসীর ভোগান্তির শেষ নাই। তবে ময়লার স্তুপ, ফুটপাতে হকার ও যানজট গলাটিপে ধরেছে নগরবাসীর। ঈদ আসতে বাকি আর দুই দিন। ঈদের কেনাকাটায় মানুষের ভীড়ে নগর এখন জমে উঠেছে । কিন্তু নগরের সড়কে পথচারীদের ভোগান্তির যেন শেষ নাই। ভেপসা গরমে যানজট আর ময়লার দূর্গন্ধ নগর জীবনকে বিপর্যন্থ করে তুলেছে।

রবিবার (১৯ আগস্ট) সরজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তুপ। ফুটপাতে হকারদের রাজত্ব, স্বাচ্ছন্যে চলাচলের নাই কোন ব্যবস্থা। এক সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অসহনীয় যানজট ।

বৃহস্পতিবার থেকে সিটি কর্পোরেশন ময়লা পরিষ্কারের কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সেই ময়লা আজও (রোববার) একইভাবে পড়ে আছে। ময়লার দুর্গন্ধ আরো বেড়েছে। গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা রুমানা আঁখি। নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করছেন। তিনি বলেন, এটা কি শহরের পরিবেশ, নারায়ণগঞ্জের শহরের অবস্থা এমন কিভাবে থাকে। সামনে ঈদ, কারো কি চোখে পড়ে না সড়কের এই অবস্থা ।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এক সেকেন্ড দাড়িয়ে থাকার পরিবেশ নেই। বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আগত রোগীরা, যারা লিফটের জন্য সিরিয়ালে দাড়িয়ে আছে। তাদের প্রত্যেকের চেহারায় বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠে । ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাত তলায় যাবেন মায়রা রহমান শিমু । তিনি বলেন, এত গন্ধ, এখানে দাড়ানো যায়? যদি ৭ তলা না হত তাহলে সিড়ি দিয়েই যেতে পারতাম । কিন্তু আম্মু অসুস্থ, তাই এখানেই দাড়িয়ে আছি ।

আবার সেই সাথে ফুটপাত অর্ধের চেয়েও বেশি হকারদের দখলে। ফুটপাতের দুই পাশেই তারা পন্য নিয়ে বসে আছে। সাচ্ছন্দ্যবোধ পথচারীদের চলাচলে নাই কোন ব্যবস্থা। শফিক নামের একজন পথচারী বলেন, ফুটপাতে হাঁটার ব্যবস্থা নাই। একদিকে অনেক মানুষ, তারসাথে আবার অনেকে দোকান নিয়া বসছে। এজন্য রাস্তা দিয়া হাঁটতেছি।

ফুটপাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হকার বলেন, ঈদে বেচাকেনা ভাল হয়। দুইটা লাঠির বারি খাইলেও বসতে হইব। পুলিশরে টাকা কিছু দিলেও হয় না, মাঝে মইধ্যে সার্জেন্টরা আইসা মারা শুরু করে। কয়েকজন আবার কিছু কয় না।

আগস্ট মাসের প্রথম থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন , পরবর্তীতে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের সময় শহরে যানবাহন চলাচলে কিছুটা শৃঙ্খল থাকলেও পুনরায় চলছে নিয়ম নীতি বহির্ভূত যাতায়াত ব্যবস্থা। এর সাথে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পার্কিং । যার ফল সরূপ নগরে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক যানজট। মিশন পাড়া এলাকার সজীব বলেন, যানবাহন এক লাইন দিয়ে চলে না, তাড়াহুড়ো করে উল্টো পথে চলে। এই কারণেই এতো জ্যাম (যানজট) । সচেতন না হলে যানজটের সমাধান কখনোই হবে না।

তবে রোববার সন্ধার পর হঠাৎ করে দেখা গেছে শহরের খাজা মার্কেট, সমবায় , লুৎফা টাওয়ার. সায়াম প্লাজার সামনে সড়কের উপর থেকে হকারদের উঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তারা ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের উপর অবস্থান করায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাই পুলিশ যানজট নিরসনে তাদের সড়ক থেকে উঠিয়ে দেয়। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা অপসারনে কাউকে দেখা যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৮টা ময়লা-আবর্জনার স্তুপ যেই সেই।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ