বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

জটিল অংকে ওসমান পরিবার

শনিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৮, ২২:৩৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবার হচ্ছে ওসমান পরিবার। দুই প্রজন্মের পর এই পরিবার থেকে তৃতীয় প্রজন্মের রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শুরু থেকে শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে। তবে শামীম ওসমান আগাগোড়া রাজনৈতিক হলেও সেলিম ওসমানের রাজনীতি শুরু শেষ বয়সে। তার যৌবন আর মাঝ বয়স কেটেছে চাকরী আর ব্যবসায়। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে এমপি হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটে। ফলে তার সাংগঠনিক ঝুলিতে কর্মীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায়। চারপাশ ঘিরে আছে ব্যবসায়ী আর সুবিধাভোগী গুটিয়ে কয়েক নেতা। যার প্রমান মিলবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে নামার পর।

কারণ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টি বলতে মানুষ নাসিম ওসমানকেই বোঝে। মানে তার পরিবার। সেলিম ওসমান যত উন্নয়ন কাজই করুক না কেন নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর নাসিম ওসমানের সমর্থক নেতাকর্মীরা তার পরিবার বিশেষ করে পারভীন ওসমান ও আজমেরী ওসমানকে ঘিরেই তাদের স্বপ্ন দেখে। তাছাড়া শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সঙ্গে নাসিম ওসমান পরিবারের দুরুত্ব অনেক ইঙ্গিত বহন করছে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে একটি মতবিনিয় সভায় সেলিম ওসমান বলেছেন নাসিম ওসমানের জানাযা থেকেও তার সংবর্ধনায় বেশি লোক উপস্থিত হয়েছে। তার এই বক্তেব্যে চরমভাবে ক্ষুব্দ হয়েছে নাসিম ওসমানের পরিবার ও নাসিম ওসমানের অনুসারী নেতাকর্মীরা। এমন তথ্যই পাওয়া গেছে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে।

দলীয় নেতাকর্মীদের তথ্যমতে, সেলিম ওসমান শহর-বন্দর চষে বেড়ালেও প্রয়াত নাসিম ওসমানের সহধর্মীনি পারভীন ওসমান ও ছেলে আজমেরী ওসমান মাঠ ছাড়েন নি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে তারা মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় পারভীন ওসমান ও আজেমেরী ওসমানের ব্যানার-ফেস্টুনও শোভা পাচ্ছে। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয় পারভীন ওসমানকে। ওই সব অনুষ্ঠানে জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা পারভীন ওসমানকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চান বলে ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে এরশাদের কাছে তার মনোনয়নের দাবিও তোলেন।

এদিকে পারভীন ওসমানের প্রতি জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দাবি ও আজমেরী ওসমানের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ড এরশাদের দৃষ্টিগোচর হয়। যার ফলে নাসিম ওসমানের পরিবারের খোজ খবর নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই নাসিম ওসমানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে ১ জুন পারভীন ওসমান ও আজমেরী ওসমানকে তার বাস ভবনে ডেকে নেন। ওই সময় তাদের কাছে নাসিম ওসমানের স্মৃতিচারণ করেন এরশাদ। সেই সঙ্গে নাসিম ওসমানের পরিবারের সার্বিক খোজ খবর নেন তিনি। তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষন কথা বলেন এরশাদ। সাবেক এ রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের খুব আস্থাভাজন ছিলেন নাসিম ওসমান।

ওদিকে সেলিম ওসমান বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কয়েকজন মন্ত্রী এনে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠান করেছেন, ওই সকল অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও নাসিম ওসমান পরিবারের কাউকে দেখা যায়নি। যদিও কিছু অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমানের পাশে তার সহধর্মীনি নাসরিন ওসমানকে দেখা গেছে। আবার সাম্প্রতিক সময়ে শামীম ওসমানের কোন অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি পারভীন ওসমান ও আজমেরী ওসমানকে। এমনকি অয়ন ওসমানের বিয়েতেও না। মোট কথা সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের কাছ থেকে কঠিন দুরুত্বে অবস্থান করছেন নাসিম ওসমান পরিবার।

তবে থেমে নেই নাসিম ওসমান পরিবার। শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানকে ছাড়াই পারভীন ওসমান ও আজমেরী ওসমান বন্দর ও শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছেন। সবশেষ ১১ আগস্ট বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বন্দর প্রেসক্লাবের ওয়াইফাই ইন্টারনেট জোনের শুভ-উদ্বোধন ও অর্টিজমদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন পারভীন ওসমান। সেখানে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতার কাজ হচ্ছে কর্মীদের ভালোবাসা দেওয়া। তিনি (নাসিম ওসমান) সব সময় কর্মীদের কথা ভাবতেন। সকলের ভালাবাসা পেয়ে নাসিম ওসমান জননেতা হয়েছেন। সারা বন্দরে তার উন্নয়নের ছোঁয়া রয়েছে।

অন্যদিকে নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষনা না দিলেও সেলিম ওসমান নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নানাভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে, ঈদুল ফিতরে কয়েক হাজার প্যাকেট ঈদ সামগ্রী বিতরণ, নবীগঞ্জে ফেরী সার্ভিস, ৫নং ঘাটে ফেরী সার্ভিস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদানসহ নানা কাজ করছেন।

ওদিকে ডিসেম্বরে যদি জাতীয় নির্বাচন হয় তাহলে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষে দিকে ব্যাপক ভাবে মাঠে নামবেন পারভীন ওসমান ও আজেমেরী ওসমান। জাতীয় পার্টি থেকে পারভীন ওসমান মনোনয়ন চাইবেন। মায়ের পেছনে কর্মী-সমর্থক নিয়ে শক্তি যোগাবেন আজমেরী ওসমান। এবং দলীয় মনোনয়ন পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে আলোচনা রয়েছে মাঠে। কারণ শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে গেলে আওয়ামীলীগ জাতীয়পাটিকে সঙ্গে নিয়েই জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে। ফলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এরশাদ কোন ছাড় দিবেন না। এখানে লাঙ্গনের প্রার্থী নির্বাচন করবে। কারণ সারা নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক বলতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। আর এই আসনে শুরু থেকে নাসিম ওসমান এমপি ছিলেন। তাই নাসিম ওসমানের পরিবারের কেউ মনোনয়ন চাইলে এরশাদ সরাসরি নাও করতে পারবেন না। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে মনোনয়ন যুদ্ধে সেলিম ওসমানকে প্রথমেই পারভীন ওসমানকে মোকাবেলা করতে হবে। আর এর মধ্যে দিয়ে জটিল অংকে আটকে যাবে ওসমান পরিবার। এমনটাই মনে করছেন শহর-বন্দরের সচেতন মহল।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ। মহাজোট থাকায় আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে তিনি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। পরে জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মৃত্যুবরণ করলে ২৬ জুন উপ-নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সেলিম ওসমান এমপি নির্বাচন হন।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ