বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

হঠাৎ এলোমেলো সেলিম ওসমান

শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৩৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: এ কে এম সেলিম ওসমানের রাজনীতিতে অভিষেক বেশিদিন নয়। আগাগোড়া ব্যবসায়ী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। পরে ব্যবসায়ী নেতায় নাম লেখান। নীট গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনের (বিকেএমইএ) নেতা হন। দীর্ঘ দিন এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কিন্তু আকষ্মিকভাবে বড় ভাই নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর তার শূন্য আসনে উপ-নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান। ব্যবসায়ী নেতা থেকে রাজনৈতিক নেতা। শহর-বন্দরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান, উন্নয়ন, সাহায্য-সহযোগিতা করে দৃষ্টি কাড়েন অনেকের। ভালোই চলছিল সব কিছু। কিন্তু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের সহধর্মীনি পারভীন ওসমানের তৎপরতায় অনেকটাই এলোমেলো হয়ে উঠেছেন সেলিম ওসমান। তার মাঝে একটা অস্থিরতা শুরু হয়ে গেছে। হুমকি-ধামকি, মারধর, গালাগালি ও অশালীনভাবে নিজের ভাবীকে সমালোচনার ঘটনা নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে জাতীয়পার্টির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ওসমান পরিবারের শুভাকাংখিদের মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একাধিক নেতাকর্মী জানান, এমন পরিস্থিতিতে আমরা রীতিমত বিব্রত। 

এদিকে সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল (নম) পার্কে একাধিক নেতার সামনে জাতীয় পার্টির আরেক নেতা শামীম হায়দার ওরফে পিজা শামীমকে নিজেই চড় থাপ্পড় মারেন সেলিম ওসমান। শুধু তাই নয়, বিশ্রি ভাষায় গালমন্দও করেন। এমন ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে জাতীয় পার্টি তথা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে। কেউ কেউ বলছেন আগামী নির্বাচন ঘিরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সাথে পারভীন ওসমানের বৈঠক ও নির্বাচনী মাঠে তার তৎপরতার ঘটনায় ক্ষোভ ও অস্থিরতা দেখা দেয় সেলিম ওসমানের মধ্যে। এক পর্যায়ে ক্ষোভ সংযত করতে না পেরে ১৫ সেপ্টেম্বর বন্দরে একটি অনুষ্ঠানে পারভীন ওসমানের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দেন তিনি। কিন্তু পারভীন ওসমান এই সমালোচনা গায়ে মাখেননি। তিনি পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন কে কি বললো কিছু যায় আসে না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আমাকে কাজ করতে বলেছে আমি কাজ করছি। আশা করি আগামী নির্বাচনে আমাকেই দলীয় মনোনয়ন দিবে। এখানে আমার প্রতিপক্ষ কে বা কারা এ মুহূর্তে বলতে চাই না। তার এই কথার পর সেলিম ওসমানের সকল অংকের হিসেব এলোমেলো হয়ে গেছে।

সূত্রমতে, বিষয়টি কিছুটা আঁচ করতে পেরে সেলিম ওসমান নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার আগে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নিজের পক্ষে একজোট করার মিশনে নামেন। এবং ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল (নম) পার্কে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভার আয়োজন করেন। সেখানে তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আরেকবার সুযোগ চাই আপনাদের কাছে। সুযোগ আপনাদের কাছেই চাইতে হবে। উপরে চাইবো না। আপনারা আমার শক্তি। আপনারা ভবিষ্যত চলার পথ।

কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে পারভীন ওসমান জাতীয় পার্টির একাংশের নেতাকর্মীদের নিয়ে মত বিনিময় করেন। সেখানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আমাকে ডেকে বলেছেন সময় অনেক কম, তুমি মাঠে নামো, কাজ করো। আমি শুধু তার আদেশ পালন করছি, এর বেশি আমি কিছু করি নাই। আপনারা আমাকে বলবেন, আমাকে উপদেশ দেবেন। আমি সেই হিসেবে আপনাদের কাছে যাবো, কাজ করবো। আমি এখন আপনাদের নিয়ে উঠান বৈঠক করবো। আমি কারো বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে চাই না। আমি শুধু কাজ করতে চাই। আপনারা যারা নেতাকর্মীরা আছেন, যারা নাসিম ওসমানকে ভালোবাসেন তারা আসবেন আমার সঙ্গে কাজ করবেন।’

এরপর সেলিম ওসমান আবার ২০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল (নম) পার্কে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ে কমী সভা করেন সেলিম ওসমান। সেখানে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার সমর্থন আদায় করে নেন। শুধু তাই নয়, সেখানে তিনি বলেন, আমি নাসিম ওসমানের মৃতুবার্ষিকীতে বলেছিলাম, চতুর্থ পুরুষের আগমন হবে আমার পরে। কারা সেই শয়তান, কারা তাদেরকে ভুল বোঝাচ্ছে? ভাবী আমার মায়ের মতো, আজমেরী আমার জান। ভাবী আমার শ্রদ্ধেয়, আজমেরী আমার জান, প্রাণ। অতি দরদী সাবধান। মুখ বন্ধ করে রেখেছিলাম। আমার প্রাণের গায়ে আমি হাত তুলবো না। আমার ভাই সম্পর্কে আমি কটু কথা বলবো না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যথেষ্ট পরিমাণ সুযোগ দেই। কখনো ভাই হই, কখনো দুলা ভাই হই, কখনো নেতা হই। আপনারা এখনো সেলিম ওসমানকে দেখেন নাই। আমি ওসমান পরিবারের সবচেয়ে খারাপ ছেলে। রাজনীতি কি জিনিস আমি তা জানি। আমি অনেক মাফ করেছি আর করবো না। লেবু চিপে খেয়ে ফেলবো। আমার পরিবারকে নিয়ে যারা খেলছেন তারা আর খেইলেন না। সেলিম ওসমান অনেক কিছু জানে। খবর আছে, এটা মুক্তিযোদ্ধার হাত। আমরা দুই ভাই মিলে আঙুলের টোকা দিলে যাবি কইরে? ওসমান পরিবারকে নিয়ে খেলতে এসো না।

এক পর্যায়ে রাত পৌঁনে ৯টায় কর্মী সভা শেষে এমপি সেলিম ওসমান, শামীম হায়দার ওরফে পিজা শামীম, আবু জাহের চেয়ারম্যান, গোগনগরের জাতীয় পার্টি নেতা মজিবর এক সাথে বসে ছিলেন। এসময় সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাও ছিলেন। গোগনগরের জাতীয় পার্টি নেতা মজিবরের সাথে পিজা শামীমের কোনো টাকা নিয়ে কথা হচ্ছিলো। এসময় পিজা শামীম এমপি সেলিম ওসমানকে ‘দোস্ত’ সম্বোধন করে কিছু বলার চেষ্টা করেন।

এসময় হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে এমপি সেলিম ওসমান পিজা শামীমকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। উত্তেজিত অবস্থায় সাংসদ বলেন, একদম খাইয়া ফালামু। আবার গালি দিয়ে তিনি বলতে থাকেন যারা এইগুলা সৃষ্টি করছে কাউরেই... যা থানায় গিয়া জিডি কইরা রাখ আমার নামে..। আবার গালি.. আবার মাইর.. আবার গালি.. আবার মাইর.. (তুই আমারে জিগাইলি..) রঙ্গ.... কাউরেই আমি ছাড়মু না ..।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ