শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮

পূজা মন্ডপেও নিরাপদ সড়কের দাবি!

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ২১:১৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

সৌরভ হোসেন সিয়াম (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): মাত্র কয়েকদিন আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছিল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। চার-পাঁচদিনের এই আন্দোলনে পুরো দেশের টনক নাড়িয়ে দিয়েছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতোদিনের পরিবহন নৈরাজ্য সরকার ও প্রশাসনকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। তবে আন্দোলনের ফলাফল তেমন ইতিবাচক না হলেও, মানুষ কিছুটা সচেতন হতে শিখেছে। নিরাপদ সড়কের দাবির এই আন্দোলনকে সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তুলতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে নয়ামাটি নতুন সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি। ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ এই শ্লোগানকে কেন্দ্র করেই এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন তাদের।

জেলায় এবার মোট পূজা মন্ডপ হয়েছে ২০৩টি। কেবল ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেছে নয়ামাটি নতুন সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি। পূজার প্রতিটি আয়োজনেই নিরাপদ সড়কের এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে। পূজার তোরণ থেকে শুরু করে অনুদানের রশিদ, নিমন্ত্রণ পত্র, প্রসাদের টোকেনেও উল্লেখ করা হয়েছে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ শ্লোগান। আয়োজকরা বলছেন, দূর্গাপূজাতে হাজারো মানুষ আসবেন। সকলেরই নিরাপদ সড়কের প্রতি সচেতনতা থাকা উচিত। আমরা চাচ্ছি, মানুষ সচেতন হোক, সড়কের নৈরাজ্য দূর হোক আর অকালে সড়কে মানুষের প্রাণ হারানো কমুক। এই বিষয়টিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের এই আয়োজন। এই আয়োজনের মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন।

আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুধু অনুদানের রশিদ, নিমন্ত্রণ পত্র, প্রসাদের টোকেনের মধ্যেই নিরাপদ সড়কের দাবিকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তারা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দুই মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হবে এলইডি স্ক্রিনে। স্টেজে এই ভিডিওটি প্রতিনিয়ত চলতে থাকবে এলইডি স্ক্রিনে।

আয়োজন সম্পর্কে নয়ামাটি নতুন সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কমল চন্দ্র কুন্ড প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা প্রতিবারই নতুন কিছু খুজি। আয়োজনে নতুন কিছু তুলে ধরতে চাই যা অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। নিরাপদ সড়কের প্রয়োজন আছে সকলের জন্যই। আর সম্প্রতি একটা বড় আন্দোলনও হয়ে গেলো। তাই আমরা চিন্তা করেছি আমাদের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে যদি সড়ক সম্পর্কে মানুষ সচেতন হয় তাহলেই আমাদের আয়োজন স্বার্থক হবে।

পূজা মন্ডপে নিরাপদ সড়কের শ্লোগানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভিন্ন ধর্মলম্বীরাও। নগরীর হযরত মিন্নত আলী চিশতী (রহ.) জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আলী হায়দার বলেন, আমরা সবাই নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। দেশের জন্য মূলত আমরা কাজ করি না। ধর্মীয়ভাবে তারা যা করেছে এটা খুবই সুন্দর। যার যার ধর্ম তার তার কাছে। ধর্মীয়ভাবে মানুষের কল্যানের জন্য কিছু বলা বা করা হলে তা মন্দ কিছু নয়। উল্টো প্রশংসা পাবার মতো একটা জিনিস।

এদিকে জানা গেছে এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কারিগর মুসলমান। এই নারায়ণগঞ্জ নিয়ে অন্যান্য জেলার মানুষ বিভিন্ন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করলেও তারা অনেকেই জানেন না এটি একটি সম্প্রীতির শহরও বটে। যার প্রমাণ মেলে দুর্গাপূজাতে অসাম্প্রদায়িক এই কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে। কথা হয় কারিগর ইমরান হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, এটা আমার পেশা। পেশার মধ্যে আমি কোন হিন্দু-মুসলমান দেখি না। আমি মনে করি হিন্দু-মুসলমান সবাই মানুষ।

ওদিকে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে রয়েছে আলোকসজ্জা। সেখানেও রয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে তৈরি করা কিছু আলোকসজ্জা। রয়েছে গ্রাম বাংলার প্রকৃতি সম্বলিত জেলে মাছ ধরা, ফুল-ফল, কৃষকের ধান কাটা, পালকীতে নববধূর যাত্রাসহ নানা আলোক সজ্জার চিত্র। আলোকোজ্জল তোরণ করা হয়েছে তিনটি। সড়কের উপর এমন আলোকসজ্জার কারণে সন্ধ্যার পর মনে হয়, ‘পূজোর সাজে সেজেছে নগরী’।

এ বিষয়ে নয়ামাটি নতুন সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ উত্তম সাহা বলেন, এই আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে মূলত ভারতের চন্দননগরের আলোকসজ্জাকে অনুসরণ করে। এই আলোকসজ্জার কারিগরের বেশিরভাগই ভারতের। এছাড়াও বেশ কয়েকজন টেকনিশিয়ান বাংলাদেশেরও বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে আলোকসজ্জার জন্য আমরা খুবই বিখ্যাত। আমাদের আলোকসজ্জা প্রতিবারই ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

এই পূজা মন্ডপের আরো একটি বিশেষত্ব লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাদের সম্পূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বাংলার সংস্কৃতির ছোয়া। যার জন্য এবার পূজাতে কোন রকমের হিন্দি বা ইংরেজী গান বাজানো হবে না। পুরনো দিনের বাংলা গান কিংবা হালের বাংলা গান বাজানো হবে পুরো পূজা জুড়ে। এ বিষয়ে আয়োজকরা জানান, বাংলা গান দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি, হিন্দি গানকে প্রাধান্য না দিয়ে আমাদের সংস্কৃতির ছোঁয়া রাখতে। তাই এই আয়োজন আমাদের। সারাদিন ও রাতভর বাংলা গান চলবে সাউন্ড সিস্টেমে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ