শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮

শিশুর মুখে শিশু হত্যার ক্লু

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা। চার বছরের আলিফ তার আত্মীয় ফাহাদের সাথে খেলছিলো। ছয় বছরের ফাহাদ জানায়, আমাদের ঘরের সামনে আমরা খেলছিলাম। আমাদেরকে ওনি (অহিদ) ডাক দিছে। গেছি তাদের বাসায়, যাওয়ার পরে আলিফ ঘরে নিয়া গেছে আর আমারে ২০ টাকা দিয়া চকলেট আনতে বলছিল। আমি আনছি, আমারে আবার ১০ টাকা দিয়া বলছে আরও কয়টা আনতে। চকলেট নিয়া যাওয়ার পরে আমারে দুইটা দিয়া বলে আলিফ নাকি চইলা গেছে। আমি বলছি, তাইলে ওর চকলেট দেন, আমারে ধমক দিয়া বলছে, এখান থেকে যাইতে নয়তো মারব।

বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) শহরের জল্লারপাড়া আমহাট্টা এলাকায় খোকন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া অহিদ ও রিপনের ঘর থেকে শিহাব উদ্দিন আলিফের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রিপনকে পুলিশ আটক করলেও পলাতক রয়েছে অহিদ।

নিহত শিহাব উদ্দিন আলিফের আত্মীয় ফাহাদের মা পিংকি জানান, বেলা ১১টার পর থেকে আলিফ নিখোঁজ হলে তাকে পুরো এলাকায় খোঁজ নিতে থাকে আলিফের মা সালমা বেগম এবং আমি নিজেও। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করার পর বেলা তিনটার সময় রাস্তায় দেখা হয় অহিদের সাথে। অহিদকে জিজ্ঞেস করি, আলিফকে সে চকলেট কেন দিসে। অহিদ বলে, দোকানের সামনে দাঁড়ায় ছিল এজন্য দিসি। এর পরে আমাদের সাথে কিছুক্ষণ আলিফকে খোঁজার অভিনয় করে অহিদ চলে যায়। বিকালে আমার ছেলে ফাহাদের কথা শুনে আবারও অহিদের বাসায় যাই। অহিদের রুমমেট রিপনের কাছে ঘরের চাবি চাইলে রিপন বলে আমার কাছে চাবি নাই। অহিদরে ফোন দিতে বললে, বলে তার কাছে ফোন নাই। অন্যের ফোন দিয়া ফোন দিলে বলে, অহিদ নিতাইগঞ্জ আছে অয় এখন আইতে পারব না।

পরবর্তীতে পিংকি বেগম অহিদ ও রিপনের পাশের ঘরের মোকলেস হোসেনের স্ত্রী বিথী আক্তারকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, আমি কিছু দেখি নাই। আর বাচ্চা পোলারে কি আর ঘরের মধ্যে আটকায় রাখব। পরে পিংকী বেগম, আলিফের গৃহকর্মী বিলকিস, ও তার মেয়ে লামিয়া হাতুরি দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ফেলে। ঘরটি ছিল পুরোপুরি ফাঁকা। ঘরের মেঝেতে পাটি বিছানো, আর দুইটা ব্যাগ। আর কিছু কাপড়-চোপড়। ঘরের এক কোনে একটা বস্তা। ফাহাদ বলে, আম্মু এই বস্তাটাতো আগে ছিল না। সন্দেহের কারণে বস্তা খোলার চেষ্টা করে একে একে কয়েকজন। পরে পিংকী বেগম বস্তা খুলে এবং ভিতরে আরও দুইটি বস্তা দেখতে পায়। প্রথম বস্তায় ছিল বড় বড় ইটের টুকরো। ইটের বস্তার নিচে ছিল দ্বিতীয় বস্তা, যার ভেতর ছিল আলিফের লাশ। লাশ দেখার সাথে সাথেই এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী রিপনকে তার কাজের স্থল থেকে আটক করে। এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এদিকে আলিফকে নিয়ে দ্রুত ১০০ শয্যা হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার (১৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার সময় আলিফের লাশ নিয়ে তার স্বজনেরা জল্লার পাড়ে বাসায় যায়। সেখানে আলিফকে গোসল করিয়ে চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার রাজারগাঁও গ্রামের বাড়িতে কবর দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) অজয় কুমার পাল শুক্রবার দুপুরে অহিদ ও রিপনের ঘর তল্লার্শী করেছে। ঘর থেকে কিছু জিনিস ও আলামত সংগ্রহ করে। এবং পাশের ঘরের বিথী আক্তারের কাছে কিছু জানার চেষ্টা করেন। তবে বিথী জানান, তিনি এর কিছুই জানেন না। এবং কিছু দেখেননি। কোন আওয়াজও পাননি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিথী আক্তার বলেন, হেরা দেড় মাস আগে এই বাড়িত আইছে। সকালে যায়, রাইতে আয়ে। কারও লগে তেমন কথা কইত না। আমার স্বামী আর আমার সন্তান অসুস্থ। ওনাগো খাওন রানছি। আবার ঘরে কাম করছি। মাঝখানে ১১টা কি ১২ টা হইব তখন একবার আমার শাশুড়ীর লগে দেখা করতে গেছিলাম। বেশিক্ষণ না পাঁচ মিনিট হইব ছিলাম। পরে আবার ঘরে আইসা পরছি। আমি একবার শুধু ফাহাদরে দেখছিলাম আইতে। আর কিছু দেখি নাই।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) অজয় কুমার পাল বলেন, আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। হত্যার রহস্য জানা না গেলেও ঘটনাস্থল চিহ্নিত হয়েছে। আটক রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অহিদ এখনো পলাতক, তাকে পাওয়া গেলেই সব পরিস্কার হবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ