সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

না.গঞ্জে লাখো মানুষের দুর্ভোগ

শনিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:০৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে এক সড়কে যানবাহন বন্ধ অন্যান্য সড়কে যানবাহন সংকট, দুই কারণে দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে পড়েছে লাখো মানুষ। নিরুপায় হয়ে পায়ে হেটে গন্তব্যে রওয়ানা দিয়েছে অনেকেই। এসময় বৃদ্ধ-নারী ও শিশুদের ভোগান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের ভীড় থাকলেও গাড়ি নেই। কিন্তু হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান আজ শনিবার (২৭ অক্টোবর) নগরীর শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে সমাবেশের আয়োজন করেছেন। এই সমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে আসার জন্য নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রুটের বাস রিজার্ভ করে নেয়। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় প্রায় সহ¯্রাধিক যানবাহন ভাড়া করা হয়। ফলে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-চিটাগাংরোড, নারায়ণগঞ্জ-সাইনবোর্ড-চিটাগাং রোড সড়কে যানবাহন সংকট দেখা দেয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পুরাতন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে জোর করে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে মিছিলের লোকজন গাড়ি নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। একের পর এক মিছিলের কারণে সড়কগুলো শামীম ওসমানের নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়। এতে পায়ে হেটে গন্তব্যে যাওয়াও দুরুহ হয়ে পড়ে পথচারীদের। তার উপর ভুভুজেলা ও বাদ্যযন্ত্রের উচ্চ শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে উঠে পথচারী ও এলাকাবাসীর। এতে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষ। তাছাড়া রক্ষা পায়নি নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের রোগীরাও। কারণ হাসপাতাল রোডে বাদ্যযন্ত্র ও ভুভু জেলা নিয়েও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়।

সরেজমিনে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল, আদমজী ইপিজেড, সোনামিয়া বাজার, কদমতলী, নাভানা ভুইয়া সিটি, এসওরোড, বার্মাস্টার্ন, দুই নাম্বার ঢাকেশ্বরী, চৌধুরী বাড়ি, পাঠানটুলি, আইইটিস্কুল, গুদারাঘাট, কিল্লারপুল, অন্যদিকে সাইনবোর্ড, ভুইগড়, জালকুড়ি, স্টেডিয়াম, শিবু মার্কেট, জেলা পরিষদ, চাদমারি, এলাকায় যাত্রীদের পায়ে হেটেই গন্তব্যে রওয়না দিতে দেখা গেছে। দুই-চারটি যানবাহন যাও চলাচল করেছে তাতে কোন মতে বাদুর ঝোলার মত করে সাধারণরা গন্তব্যে গিয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই গন্তব্যে না গিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।

বেলা সোয়া ৩টার দিকে চিটাগাংরোড থেকে নারায়ণগঞ্জে আসার জন্য গাড়ি না পেয়ে ভোন্তিতে পড়েন জাতীয় পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলার এক সাংবাদিক। তিনি জানান, এখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি। কোন গাড়ি নেই। দু-চারটি যা আছে তাতেও যাত্রীরা উঠতে পারছে না। যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সমাবেশে যাওয়ার জন্য।

সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে এক ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে বাসায় ফিরে গেছেন ব্যবসায়ী আমির হোসেন। তিনি জানান, শুনলাম নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ। তাই সব গাড়িয়ে রিজার্ভ হয়ে গেছে। তাই গাড়ি চলছে না।

কুমিল্লা থেকে বাসযোগে এসে বেলা দেড়টায় সাইনবোর্ডে নামেন আবুল হাসেম। যাবেন নারায়ণগঞ্জের চাদমারী এলাকায়। কিন্তু কোন গাড়ি পাচ্ছে না। পরে কোনমতে দুইগুন বেশি ভাড়া দিয়ে একটি সিএনজি রিজার্ভ করে রওয়ানা হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায় শহরের হাসপাতাল রোড ও মেট্টো হলের সামনে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ নিরাপদে বসে আছেন। মেট্টো হলের সামনে দড়ি টানিয়ে চাষাড়ামুখি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে সমাবেশের গাড়ির কারণে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-পুরাতন সড়কের চাষাড়া থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত মানুষকে পায়ে হেঁটেই আসা যাওয়া করতে হয়েছে। যা ছিলো সাধারণ মানুষের জন্য সব থেকে কষ্টদায়ক এবং বিরক্তের। অন্যদিকে পঞ্চবটি থেকে কোনো ধরণের যানবাহনই প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি শহরের দিকে। মোটকথা শামীম ওসমানের এই সমাবেশকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার লাখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। তবে এই ভোগান্তি সমাবেশ শেষ হওয়ার পরও আরো কয়েকঘন্টা চলমান থাকবে। এমনটাই মনে করছেন ভুক্তভোগিরা।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ