শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮

হাসপাতাল যখন অসুস্থতার কারণ

শনিবার, ৩০ জুন ২০১৮, ২১:৩৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: অসুখে পড়ে মানুষ হাসপাতালের দরজায় পা রাখে। কিন্তু সেই হাসপাতাল যদি অসুস্থতার কারণ হয়, তবে? ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে রোগীসহ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীর সাথে থাকা স্বজনদের। রোগীকে ঠিক করতে গিয়ে অসুস্থতার সম্ভাবনা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদেরও।

নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোগীরা এ হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রতিটা রোগীর সাথেই দুই একজন স্বজন থাকে। হাসপাতাল থেকে রোগীদের খাবার দেওয়া হয়। এ নিয়ে হাসপাতালের রোগীদের কোন অভিযোগ না থাকলেও বিশুদ্ধ খাবারের পানি নিয়ে পড়তে হচ্ছে তাদের ব্যাপক সংকটে।

শনিবার (৩০ জুন) হাসপাতালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের রোগীদের পাশে পানির বোতল, কিন্তু প্রতেকটা বোতলের পানি হয়ত রোগীদের বাড়ি থেকে আনা কিংবা দোকান থেকে কেনা।

মহিলা ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোগী আক্ষেপ করে বলেন, হাসপাতালের খাবার খাইলেও পানি সবাই খায় না। কেউ বাসার থেকে আনে আর যার টাকা আছে সে বাহির থেকে কিনে আনে। এই দুইটার কোনটাই আমার জন্য না। নদীর ওইপাড় বন্দরে থাকি। বাড়ি থেকে পানি আনা যায় না। পানি কিনে খাবো এমন খরচ করতে পারলে আমার সরকারি হাসপাতালে আসতে হতো না। আমার তো উপায় নাই, তাই এখানের পানি খাই। যেদিন এসেছি ওইদিন দেখি পানিতে ময়লা পরেরদিন মেয়ে আমার বাসা থেকে ছাকনি নিয়ে এসেছে। ছাকনি দিয়ে ছ্যাকে পানি খাই।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় অপরিচ্ছন্নতার আরও কিছু দৃশ্য। যার ফলে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। হাসপাতালের শৌচাগারগুলো পুরোপুরি অপরিচ্ছন্নতায় ঘিরে আছে। শৌচাগারের পাশেই একটা ডাস্টবিন। ডাস্টবিনের সাথেই রোগীদের জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা। মহিলা ওয়ার্ডে অন্য এক রোগী বলেন, হাসপাতালে খাওন তো দেয়, তয় পানি নাই। যে পানি আছে ওই পানি খাওন যায় না। পানিতে গন্ধ। এই পানি দিয়া সবাই থালা-বাটি পরিষ্কার করেন। টুকটাক কিছু ধোওন লাগলে ধোয় সবাই। ঘরটাও পরিষ্কার থাকে না। সারাদিনে একবার পরিষ্কার করে। খাটে (রোগীর বেডে) যে অসুস্থ হেয় থাকে। আমি নিচে বিছানা পাতি। রাইতে নিচটা ময়লা হইয়া যায়। দিনে দুইবার পরিষ্কার করলে ভাল হইত কিন্তু করে না তো।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের রোগীদের মধ্যে মিশনপাড়ার বাসিন্দা অসীমের (ছদ্ম নাম) মা বলেন, পোলার কয়দিন পরপর জ্বর ওইঠা খিচুনি ওইঠা যায়। দুই দিন আগে আইছি হাসপাতালে। ডাক্তার বলছে, ভর্তি করতে। দিনে তিন বেলা খাবার দেয়। খাবার ভালাই, পানি ভালা না। পানিটা বাড়িত থিকা আইনা খাই।

গনপূর্ত বিভাগের আওতায় ২ কোটির টাকার প্রজেক্টে হাসপাতালে উন্নতির ছোয়া লাগলেও হাসপাতালে রোগীদের পূর্বের নানান সমস্যা এখনো অব্যাহত। হাসপাতালের এই পানি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. এহসানুল হকের সাথে হলে তিনি দাবি করে বলেন, হাসপাতালে পানির ব্যবস্থা আছে। রোগীরা পানি খেতে পারেন।

যদিও তার কথার সাথে হাসপাতালের পরিবেশের কোন মিল দেখা যায়নি।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ