সোমবার ২০ আগস্ট, ২০১৮

৭টি চাঞ্চল্যকর মামলা পরিচালনা করেছি, হুমকি আসতেই পারে: পিপি

শনিবার, ৩০ জুন ২০১৮, ১৯:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

সাবিত আল হাসান (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সক্রীয় রাজনৈতিক। তবে পিপি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গনেই বেশী সময় কাটে তার। দলীয় কর্মসূচিতেও সরব উপস্থিতি রয়েছে। গত তিন বছরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন ও ৫ খুন মামলাসহ ৭টি চাঞ্চল্যকর মামলা পরিচালনা করেছেন। এতে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন তেমনি হুমকি-ধামকিও পেয়েছেন। মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে বিষ খাইয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও তিনি বিচলিত নন। সাহসিকতার সহিত আগামী দিনেও মামলা পরিচালনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনি। সবশেষ গত ২৮ জুন বৃহস্পতিবার তাকে ও তার পরিবারকে হত্যা এবং আদালতপাড়া উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিযে উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় জিডিও করেছেন। প্রেস নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে (২৮ জুন) নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ওয়াজেদ আলী খোকন।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: অন্য পেশা থাকতে আইন পেশায় কেন?

ওয়াজেদ আলী খোকন: আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে আমার পিতা আইন পেশায় জড়িত ছিল। আমার পিতা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. সাদত আলী ১৯৫৩ সালে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে আইন পেশায় যোগদান করে আমার বাবা। তিনি নারায়নগঞ্জে প্রভাবশালী ও বড় মাপের একজন আইনজীবী ছিলেন। বাবার আদর্শকে ধরে রাখার জন্যেই কলেজ জীবন শেষ করেই ১৯৮৫ সালে ল` তে ভর্তি হই।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ আদালতে কিভাবে যুক্ত হলেন?

ওয়াজেদ আলী খোকন: ওয়াজেদ আলী খোকন: ১৯৮৭ সালে এলএলবি কমপ্লিট করে ১৯৯৬ সালের ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করি। এবং সেই বছরেই আমি এপিপি হিসেবে দায়িত্ব পাই। এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করি। ২০০৯ সালে প্রথমে অতিরিক্ত পিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করি। কিন্তু এক মাস পরেই ব্যস্ততার কারণে অব্যাহতি নেই। এরপর ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করি।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রাজনীতিতে প্রবেশটা কেমন ছিল?

ওয়াজেদ আলী খোকন: পারিবারিক সূত্রে আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ সমর্থক। আমার পিতা বঙ্গন্ধুর আদর্শের অনুসারী ছিলেন। তিনি বৃহত্তর নারায়ণগঞ্জ মহাকুমার (নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ) সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৮ সালে আমি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে প্রবেশ করি। ১৯৮১ সালের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের শামীম ওসমানের প্যানেলে নাট্য ও সাংস্কৃতিক পদে নির্বাচিত হই। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত রোভার স্কাউটের সদস্য ছিলাম।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বর্তমানে আওয়ামীলীগে আপনার অবস্থান কি?

ওয়াজেদ আলী খোকন: আমি মহানগর আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছি।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: পিপি হবার আগে ও পিপি হবার পরে নিজের মধ্যে কোন পরিবর্তন আছে?

ওয়াজেদ আলী খোকন: পিপি হবার পুর্বে আদালতে কর্মক্ষেত্র ছিল বিস্তৃত ও ব্যাপক। এখন একটা গন্ডির ভেতর থেকে রাষ্ট্রের মামলা পরিচালনা করতে হয়। আমার নিচে ৮১ জন অতিরিক্ত পিপি কাজ করছেন, তাদের মামলাগুলোও দেখাশোনা করতে হয়। এসব করতে করতে দিন পার হয়ে যায়। আবার রাতে নিজের মামলাগুলো নিয়ে বসতে হয়। এভাবেই দিন চলছে। আগে পরিবারকে যতটুকু সময় দিতে পারতাম এখন কাজের চাপে তা পারি না।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: পারিবারিক অবস্থাটা জানতে চাই?

ওয়াজেদ আলী খোকন: আমার মা, আমার স্ত্রী ও ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। ড় ছেলের নাম সাকিব সাদত। সে এখন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করে। ২য় মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি ইংলিশ মিডিয়াম পাশ করে ‘ল’ প্রিলিমিনরি পরীক্ষা দিয়েছে। আর ছোট ছেলে আকিব সাদত এবার ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপ্রার্থী।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আইন পেশাটা কেমন লাগে আপনার কাছে, কোন সুখ/দুঃখের স্মৃতি আছে?

ওয়াজেদ আলী খোকন: আসলে এই পেশায় সবগুলো মামলাই আমার কাছে স্মৃতিময়। পিপি হবার আগে অনেক বড় বড় মামলা লড়েছি। তবে পিপি হবার পরে আলোচিত ৭ খুন ও ৫ খুনের মামলা, সিয়াম হত্যা, হালিম হত্যার রায় আমার জন্য অনেকটা উল্লেখযোগ্য। এসব মামলার আসামীরা যখন তাদের ঘটনা বর্ণনা করে তখন অনেক হৃদয় বিদারক দৃশ্য আমাদের চোখে ভেসে উঠে। একটা সিনেমার পর্দার মত আমাদের মনের ভেতর দৃশ্যগুলো মনে পড়ে। অনেক ব্যথিত হই। আবার যখন সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে দক্ষতার সহিত মামলাটি পরিচালনা করে দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করতে পারি তখন একটু আনন্দই লাগে।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আইন পেশায় কোন বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন?

ওয়াজেদ আলী খোকন: এটি একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সত্য মিথ্যা নির্ধারনী পেশা। কাউকে অন্যায় সুবিধা না দিলে তারা বাঁধা দিবেই। তাই এ রকম হুমকি ধামকি বহু পেয়েছি। আমার নিজের মেয়েকেও হত্যা চেষ্টা করেছিল দূর্বৃত্তরা। তবুও আমি আমার অবস্থান থেকে পিছপা হইনি। যত বাঁধা বিপত্তি আসুক, আমাকে তারা ভয় ভীতি দেখাতে পারবে না।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: কোন বড় সফলতা ?

ওয়াজেদ আলী খোকন: নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনা যা দেশ পেরিয়ে বিদেশে আলোড়ন তুলেছে, সেই মামলার রায় অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমি সম্পন্ন করে দিতে পেরেছি এটি আমার অন্যতম বড় সফলতা বলে আমি মনে করি। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে তার জন্য আমি তারা হাজত থেকে যাতে বের হতে না পারে সেই ব্যাপারে আমি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছি।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: যারা এই পেশায় বা পিপির চেয়ারে বসার স্বপ্ন দেখছে তাদের উদ্দেশ্যে আপনার ম্যাসেজ কি?

ওয়াজেদ আলী খোকন: যারা এই পেশায় আসতে চায় তাদের বলব সৎ ও কর্মঠ মানসিকতা নিয়ে যাতে আসে। আর এই চেয়ারে যারা বসতে ইচ্ছুক তারা যাতে আমার চেয়ে বেশী দায়িত্বশীল ও সৎ মানসিকতা নিয়ে বসে। তবে মনে রাখতে হবে এই আসনটি ক্ষনস্থায়ী।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নিজেকে নিয়ে ভবিষ্যত কোন পরিকল্পনা ?

ওয়াজেদ আলী খোকন: আমি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত। আমি রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সাথে জড়িত ছিলাম। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থাকার ফলে সেদিকেই আমার মন বেশী টানে। যখন এই আইন পেশা থেকে অবসরে যাব আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে তখন এই সামাজিক কর্মকান্ডের সাথেই যুক্ত থাকব। পাশাপাশি রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকব। আর আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখেন তবে পবিত্র মক্কা নগরীতে গিয়ে হজ্জ পালন করার ইচ্ছে রয়েছে।

প্রেস নারায়ণগঞ্জঃ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য।

ওয়াজেদ আলী খোকন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সব খবর
সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বশেষ