শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

ডা. জাহাঙ্গীরের ভুল চিকিৎসায় ফের প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ফের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগেও একাধিকবার একই অভিযোগে গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন তিনি। তবে এবার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ৫০ হাজার টাকাও দিয়েছেন তিনি। তবে এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

জানা যায়, রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় শহরের ডনচেম্বার এলাকার সেলিনা মেমোরিয়াল হাসপাতালে খাদিজা আক্তার (২৬) নামে এক প্রসূতির প্রসব (সিজারিয়ান) করান ডা. জাহাঙ্গীর আলম। সন্তান সুস্থ থাকলেও মারা যান পশ্চিম তল্লা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী খাদিজা। জাহাঙ্গীর আলমের ভুল চিকিৎসার কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসীর। এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দেন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তল্লা এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন আমড়া বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রীতিমতো অস্বচ্ছল ও নিরীহ পরিবার তাদের। তাই তারা এ নিয়ে বেশি উচ্চবাক্য করেননি। ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তারা তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে লাশ দাফন করতে চলে যান।

মানিক নামে দেলোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ট এক প্রতিবেশী বলেন, আমাকে ডা. জাহাঙ্গীর বলেছেন ভাই আপনারে ২০ হাজার টাকা দিমু আপনি বিষয়টা মিট করে দেন। তখন আমি বলি, আমাকে কিছু দিতে হবে না। আমার ছেলে কুরআনে হাফেজ আল্লাহ যেন এই ধরনের টাকা আমাকে না খাওয়ায়। তখন তারা পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা হ্যান্ড ক্যাশ দেন। পরে পরিবারের সদস্যগণ লাশ নিয়ে পটুয়াখালি চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহত খাদিজার আরেক প্রতিবেশী জানান, খাদিজার রাত ১২টার সময় সিজার হওয়ার মাধ্যমে তার কোলে ছেলে সন্তান হয়। ভোর ৫টার সময় খাদিজার অবস্থায় খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল পাঠানো হয়। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

নাম না প্রকাশের শর্তে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, ডা. জাহাঙ্গীর হাসপাতালে রোগী না দেখে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীকে রেফার্ড করেন। সেসব হাসপাতালে তিনি রোগীদের সিজার করান। এর আগেও একাধিকবার ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। বিভিন্নভাবে তিনি সেসব ম্যানেজ করে নেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন বলেন, ‘আমাদের নিকট এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ভুক্তভোগীর মধ্যে থেকে কেউ আমাদের লিখিত অভিযোগ জানালে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, এর আগেও একাধিকবার ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি গত ৫ মে রাতে কবিতা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। কবিতার স্বজনরা ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শহরের প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্বজনরা। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক হয়েও ক্লিনিক ব্যবসা ঠিক রাখতে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে রেফর্ড করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ