শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯

৪ কারণে মৃত্যু হয়েছে ফতুল্লার গৃহবধূ খাদিজার

বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারে নিহত খাদিজার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার মৃত্যুর চার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামি খাদিজার স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছেন, গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে খাদিজাকে হত্যা করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আরিফুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘রিমান্ডের প্রথম দিন ফরহাদ তার স্ত্রী খাদিজাকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে বলেছে, সেদিন তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। এ সময় খাদিজার ওড়না দিয়েই তার গলায় চেপে ধরে ফরহাদ। এ পর্যায়ে শ্বাসরোধে মারা যায় খাদিজা।’

মৃত্যুর ৫ দিন পর ২৯ মার্চ নিহতের ময়না তদন্তের রিপোর্ট দেয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। উক্ত ময়না তদন্তের রির্পোটে উঠে আসে স্ত্রী খাদিজার সঙ্গে স্বামী ফরহাদের নির্মম আচরণের দৃশ্য। ময়না তদন্তের রিপোর্টে নিহত খাদিজার মৃত্যুর ৪টি কারণ উল্লেখ করা হয়। কারণগুলো হলো, মস্তিকে রক্তক্ষরণ, শ্বাসরোধ, বিষ ক্রিয়া ও শারীরিক নির্যাতন।

চিকিৎসক আরো জানায়, খাদিজার কণ্ঠনালির হাড়, বুকের পাজর ও কোমড়ের হাড় ভাঙ্গা ছিল।

গত ১২ মার্চ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হন সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুর হাটখোলা এলাকার গৃহবধূ খাদিজা আক্তার। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকের কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দীর্ঘ ১২দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৪ মার্চ সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে খাদিজা। সেদিন রাতেই নিহত খাদিজার খালু মো. ফারুক হোসেন বাদী হয়ে স্বামী ফরহাদসহ পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার ১২ দিনের মাথায় গত ৫ এপ্রিল (শুক্রবার) নগরীর দুটি পৃথক স্থান থেকে প্রধান অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ ও তার বড় ভাই রাব্বীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পরদিনই ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। পরবর্তীতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত স্বামী ফরহাদ।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ