শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮

৪৮ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব নগরীর কাঁচা বাজারে

সোমবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৫৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: পরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘটের কারণে নগরীর বিভিন্ন কাঁচা বাজারে প্রভাব পড়েছে। পরিবহন ধর্মঘট থাকার কারণে সড়ক পথে আসতে পারেনি কোনো সবজি। যার ফলে বাসি, মজুতকৃত সবজিই বাজারময় বিক্রি হচ্ছে। তাতেও চড়া দাম। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাছ ও মাংসের দাম।

বিক্রেতারা জানান অবরোধের কারণে বাজারে সবজি আসেনি। সবাই যার যার মজুদ করা সবজিই বিক্রি করছে। দাম তো একটু বেশি থাকবেই। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, ধর্মঘটের অজুহাতে বিক্রেতারা যার থেকে যতো পারছে হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন তারা সীমিত লাভেই বিক্রি করছেন।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) নগরীর প্রধান পাইকারি কাঁচা বাজার দিগুবাবুর বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাজার ভর্তি সবজি থাকা সত্বেও সকল সবজির দাম স্বাভাবিকের তুলনায় দাম দ্বিগুণ। মজুতকৃত সবজি যেমন আলু, পেয়াজের দামও বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৫টাকা। সবজির দাম এতো বেশি যে, অনেকেই দাম শুনেই ফিরে যাচ্ছেন।

দিগুবাবুর বাজারের শেষ তথ্য মতে, কাচা মরিচ ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০’ ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা ৫০ থেকে ১০০ টাকা আর দেশী ধনেপাতা ২৪০ টাকা, ফুলকপি, বাধাকপি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, করলা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা কেজি, জিঙ্গা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা কেজি, ধুনদল ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা কেজি, সীম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা কেজি, লাউ ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা কেজি, পেঁপেঁ ১০টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা কেজি, ভেন্ডি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা কেজি, পটল ৩০, ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা কেজি, আলু প্রতিপাল্লায় বেড়েছে ১০ টাকা।

অন্যদিকে কিছু সবজির মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। যেমন লালশাক, ডাটাশাক, ডাটা, মূলা, পালংশাক, লাউশাক ও মূলাশাক। বিক্রেতারা জানান, এ সকল সবজি মূলত পার্শ্ববর্তীজেরা মুন্সিগঞ্জ থেকে আসে। মুন্সিগঞ্জ থেকে সকালেই ইজিবাইকে সকল সবজি চলে আসায় এসকল সবজির দাম স্থিতিশীল।

শাহানাজ বেগম একজন গৃহিনী। তিনি বলেন, ‘অবরোধের কারণে বিক্রেতারা দাম অনেক হাকাচ্ছে। এদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমান সবজির থাকা সত্বেও এরা অধিক মুনাফার জন্য দাম বাড়িয়েছে। একদোকানে কাচামরিচের দাম জানতে চাইলে দোকানী বললো ১০০ টাকা কেজি। আরেকটু এগিয়ে অন্য একটি দোকানে দেখি সেই একই মরিচ ১৩০ টাকা। বিক্রেতারা যার থেকে যতো পারছে নিচ্ছে।’

আরেকজন ক্রেতা জাহিদুল হাসান বলেন, ‘সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করে ফেলেছে। প্রতিটি সবজির দাম বৃদ্ধি করে ফেলেছে। যার কোনো মানে হয় না। যে মুককোলশী পরশু ২০ টাকা দিয়ে কিনেছি আজ তার দাম ১০০টাকা। একদিনের ব্যবধানে দাম এতোটা বৃদ্ধি হয় কিভাবে? পুরোটাই সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার জন্য এছাড়া কিছু না।’

রিজবাওল রিয়াদ একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। দিন শেষে মাসিক বেতনের টাকায় পরিবারের জন্য বাজার করে নিয়ে যান। কিন্তু মাসের শেষে সবজির এমন অস্বাভাবিক দাম শুনে কিছু না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। রিজবাওল রিয়াদ বলেন, ‘মাসের শেষ, হাতে টাকা তেমন নেই। আর বাজারে সবজির যা দাম এতো দামে কিছু কেনাই সম্ভব নয়। এতো দামে সবজি কিনলে বাকি দিনগুলো পরিবারের সঙ্গে না খেয়ে থাকতে হবে।’

সবজি বিক্রেতা রফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ সকালে একটি মাত্র লাউ ভর্তি ট্রাক বাজারে এসছে। যেখানে ট্রাক ভাড়া ছিল ১০ হাজার টাকা আজ সেই ট্রাক ভাড়া দিতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। তাহলে ভেবে দেখুন সবজির দাম বাড়বে না কেন? তার উপর দেশের অন্যান্য জেলা থেকে কোনো সবজি আসেনি। যার ফলে বাজারে সবজির ঘাটতি। সবজির ঘাটতি থাকলে দাম তো একটু আধটু বাড়বেই।’

সব খবর
অর্থনীতি বিভাগের সর্বশেষ