শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯

বক্তাবলি গণহত্যা দিবস

৪৬ বছরেও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৫০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ২৯ শে নভেম্বর নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলি গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় ১৩৯ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। নামাজ আদায় করেও সেদিন জয়নাল সর্দার গুলির মুখ থেকে প্রানে বাচতে পারেনি।

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত ২০০৫ সালের ২৯ শে নভেম্বর বক্তাবলীর কানাইনগর হাই স্কুল মাঠে শহীদদের স্মৃতি রক্ষায়  মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান করলেও তাতে নেই শহীদদের নাম ফলক। অযত্নে  অবহেলায় স্মৃতিস্তম্ভটির বেহালদশা দেখে হতাশ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ নতুন প্রজন্ম।

তবে গত কয়েক বছর যাবৎ স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার কয়েকটি সামাজিক সংগঠন আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনে দিবসটি স্মরণ করছে। বিজয়ের ৪৬ বছরে মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

এ বছরও দিবসটি পালন করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসুচী হাতে নিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ২৯ শে নভেম্বর সোমবার ১৯৭১ সালের  এই  দিন অবাঙ্গালী রাজাকার গোলজারের সহায়তায় মুয়াজ্জিনের আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম শব্দে যখন বক্তাবলি পরগনার মানুষের ঘুম ভাঙ্গতে শুরু করে ঠিক সেই সময় কুয়াশা ডাকা ভোরে ধলেশ্বরী নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলে গান বোট নিয়ে হামলা চালিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ধ্বংসের তান্ডবলীলা চালিয়ে  ১৩৯ জন নিরিহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। হত্যাযজ্ঞ শেষে জ্বালিয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম,  ধ্বংস করে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এমআর আখতার মুকুলের চরম পত্রে বক্তাবলিকে মুক্তাঞ্চল হিসেবে প্রচার করে। এ খবর পেয়ে গোলজার রাজাকারের সহায়তায় পাকবাহিনী মুলত এলাকাটিতে হামলা করে।

সেদিন পাকবাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া মজিবর রহমান বলেন, গ্রাম থেকে যাদের ধরে এনেছে তাদের অনেককে মেরে কবরস্থানেই ফেলে রাখা হয়েছিল। আমাদেরকে বেঁধে উপুড় করে ফেলে রাখে এর মধ্যে পাকিস্থান  কমান্ডারের ওয়ারল্যাস বেজে উঠে, যাদের বেঁধে রাখা হয়েছে তাদেরকে খতম করার নির্দেশ।  এ কথা শুনে যখন আমাদের দু’জনকে নদীর পাড়ের দিকে নিয়ে যায় এই সময় আমি উল্টো দিকে দৌঁড়ে পালিয়ে বাঁচি।

সেখানে শাহআলম, মনির, শহীদউল্লাহ, ফারুক, সোনা মিয়া,  সুফিয়ান, হাবিজ উদ্দিন, ফজিলাতুন নেছা, আব্দুল আজিজ, মাজেদুল হক, জয়নাল আবেদিন, শহীদ উল্লাহ, অলি মিয়াসহ ১৩৯ জন কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এলাকার শহীদ পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্বাধীনতার ৪৬ বছরে মিলেনি তাদের স্বীকৃতি। কোন সরকারই শহীদ পরিবারের খোঁজ নেয়নি।

গণহত্যায় নিহত সুফিয়ান মিয়ার ছেলে আঃ আউয়াল অভিযোগ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ হাজার ৫ শ’ টাকা এবং সসপেন, মশারীসহ গৃহস্থালীর অনেক জিনিস পত্রই দেন। তারপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি।

এলাকার কয়েকটি জায়গায় হত্যাযজ্ঞ হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। লক্ষীনগর কবরস্থানে ৫ জনের মত লোককে হত্যা করলেও আজ তা বধ্যভিমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। শহীদদের স্মরনে কানাইনগর স্মৃতিস্তম্ভ ২০০৪ সালে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক সংসদ সদ্যস্য গিয়াসউদ্দিন।  নারায়নগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে স্মৃতিস্তম্ভটির কাজ শেষে ২০০৫ সালের ২৯ শে নভেম্বর উদ্বোধন করা হয়। স্মৃতিস্মম্ভ নির্মান করলে ও সেখানে রাখা হয়নি শহীদদের নাম পরিচয়ের তালিকা। স্থানীয়রা জানায়, পরবতীতে এর রক্ষানাবেক্ষনের অভাবে গোচারন ভুমিতে পরিনত হয়েছে।

২৯ নভেম্বর শহীদ বক্তাবলী দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনসমূহ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও অঙ্গসংগঠনসমূহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে।

 

সব খবর
ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের সর্বশেষ