সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

৩শ’ শয্যায় হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী চিকিৎসা পেলেন ক্লিনিকে

সোমবার, ৮ জুলাই ২০১৯, ২৩:৩১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: মুমূর্ষ মাকে নিয়ে চিকিৎসা সেবার আশায় নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ হাসপাতালে গিয়েছিলেন ফতুল্লার কাশীপুর দেওয়ান বাড়ির এলাকার মো. নয়ন। কিন্তু চিকিৎসার বদলে পেয়েছেন শুধু হয়রানি। তার উপর কোনো চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অবশেষে নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে অসুস্থ্য মায়ের চিকিৎসা করাতে বাধ্য হন তিনি।

সোমবার (৮ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে হয়রানির শিকার হন ভুক্তভোগী নয়ন ও তার মা আরজু বেগম।

ভুক্তভোগী নয়নের অভিযোগ, চিকিৎসকদের দায়িত্বহীন মনোভাব, অবহেলা ও দালাল চক্রের দৌরাত্মের কারণে তার মত অনেক রোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে।

তার ভাষ্যমতে, সকালে হাঁটতে বের অসুস্থ্য হয়ে পড়েন মা আরজু বেগম। ঘন ঘন বমি করার এক পর্যায় অজ্ঞান হয়ে পরেন। শারীরিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন স্থানীয় ডাক্তার।

সকাল ১০টায় ছেলে নয়ন ও নিকট আত্মীয়রা তাড়াহুড়া করে তাকে নিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। অসুস্থ্য মাকে নিয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন। কোথায় যাবেন, কি করবেন, কোন চিকিৎসক দেখাবেন; কোনো তথ্য বা সাহায্য পাচ্ছিলেন না তারা। অনেক ডাকডাকির পর জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আসলেও কোনো চিকিৎসা না দিয়েই রোগীকে রেফার করেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের কাছে। নয়ন মা’কে নিয়ে যান হাসপাতালের বহিঃবিভাগে। কিন্তু গিয়ে দেখেন ডাক্তার তার কক্ষে নেই। বেশ কিছুক্ষপর ডাক্তার ফিরলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের মতো তিনিও রোগীকে রেফার করেন ২২নং ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য। শেষে অসুস্থ্য মাকে নিয়ে ওয়ার্ডে নিয়ে যান নয়ন। কিন্তু এখানেও হয়রানির শিকার তারা।

ওয়ার্ডের নার্সরা জানান, ওয়ার্ডে কোনো বেড নেই। এমতাবস্থায় হতাশ হয়ে পড়েন নয়ন। করুণ গলায় নার্সকে প্রশ্ন করেন, এখন আমি কি করবো? উত্তরে নার্স বলেন, যে ডাক্তার এখানে পাঠিয়েছে তার কাছে যান। সে চিকিৎসা করলে করবে।

নার্সের এমন উত্তরে শোনার পর মাকে নিয়ে গেলেন চিকিৎসকের কাছে। হাসপাতালে বেড না থাকাতে রোগী আরজু বেগমকে ডাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন এই চিকিৎসক।

ভুক্তভোগী নয়ন অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনো ডাক্তার আমার মা’কে একবার দেখলেনও না। একবার যদি দেখতে বা একটি প্যারাসিটামলও যদি খাওয়াতেন তাহলে মনকে শান্তনা দিতে পারতাম। শুধুমাত্র বেড নেই বলে চিকিৎসা করবেন না, এ কেমন কথা। এরা নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর জন্য এবং তাদের প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী নেয়ার জন্য এমনটা করে। তারা ভাবে, এমন আচারণ করলে রোগীরা আর সরকারি হাসপাতালে আসবে না।’

এ বিষয়ে আবাসিক চিকিৎসক শামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয়ের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা কীভাবে দেবো, বেড ছাড়া চিকিৎসা কিভাবে হবে? চিকিৎসা দেয়ার জন্য তো রোগীকে ভর্তি করতে হবে। সে ভর্তি হবে, আমরা পরীক্ষা করবো তারপর তো চিকিৎসা। আমি রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করে দিয়েছি।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ