সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

২৬ মামলায় আটকে যাচ্ছে ডিএনডির উন্নয়ন প্রকল্প!

সোমবার, ১৩ আগস্ট ২০১৮, ২০:২৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনডি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি। এই প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী। তদুপরি কাজ করতে গিয়ে অবৈধ দখলদাররা একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, উচ্চ আদালত থেকে ২৪জন অবৈধ স্থাপনার মালিক হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিপিশন মামলা দায়ের করেছে। মূলত এই ২৪ জনের জন্যই এই প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। আর এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছেন ডিএনডি অভ্যন্তরের ২২ লাখ সাধারণ জনগণ। প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর (ইঞ্জিনিয়ার্স) কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। ২৪ জন অবৈধ স্থাপনার মালিকের সেই তালিকা সরবরাহ করেন। তবে অবৈধ দখলদার ২৪ জন হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২৬টি। তালিকা সূত্রে জানা যায়, একই জমি নিয়ে একাধিক মামলাসহ ২৪ জনের ২৬ মামলায় জিম্মি হয়ে আছে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের কাজ।

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের মৌজা: আটি সিএস দাগ নং-৬৯ দখল করে রাখা ব্যাক্তি চাঁন মিয়া হাইকোর্টে আপিল করে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে প্রকল্পের কাজে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ কোর্টে তার অপর একটি মামলায় আদালত স্থিতি অবস্থা জারি করেছে। হাইকোর্ট, ঢাকা জর্জ কোর্ট ও নারায়ণগঞ্জ কোর্টে দায়ের করা অন্যান্য আরও ২৪ টি মামলা হলো- আটি সিএস দাগ নং-৬৬, বাদি- বায়তুল আমান জামে মসজিদ, আটি সিএস দাগ নং-৫৮ ও ৫৯ বাদি- আব্দুল জব্বার, আটি সিএস দাগ নং-৫৪ মো. নুরুজ্জামান, আটি সিএস দাগ নং-৩০ মো. সাদেক মিয়া, আটি সিএস দাগ নং-৩২৮ মো. মোহন মিয়া, আটি সিএস দাগ নং-৩১৭ ও ৩১৯ দখল করে আছে খোরশেদ আলম, প্যারাডগার আর এস দাগ নং-২০০৬ ও ২১০৭ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, খরদ্দো ঘোষ পাড়া সিএস দাগ নং-১২৯ কাজি হারুনর রশীদ, সিদ্ধিরগঞ্জ সিএস দাগ নং-১৯৮ হাজি আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ সিএস দাগ নং ১৯৭ আতিক মুরশিদ খান।

এদিকে ফতুল্লাধীন দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৫৯ হাফিজ মোহাম্মদ রহমান, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৪২ হাজী মো. হাজি মো. হাফিজ উদ্দীন হাওলাদার ও ফারুক আহমেদ, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৫৫ হাজী মো. হাফিজ উদ্দীন হামদা, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৭৮৫ দেলোয়ার হোসেন, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৭৮৪ হারুনর রশীদ ও ঢাকা ডেমরা থানাধীন মাতুয়ায়িল সিএস দাগ নং-৫২০৯, ৪৭৮১, ৪৭৬১ মোঃ মাইদুল ইসলাম, গোগ দক্ষিণ সিএস দাগ নং-৩১১ জাহানারা বেগম, পাড়া ডগাইর সিএস দাগ নং-২২২ ফিরোজ খানের একটি মামলা ও অপর একটি লিগ্যাল নোটিশ, সিএস দাগ নং-২৯৮ ফারুক আহদেম, সিদ্ধিরগঞ্জ আটি সিএস দাগ নং-৬৯ ফিরোজ আহমেদ, সিদ্ধিরগঞ্জ আটি আরএস নং ৩০ (সিএস দাগ নং উল্লেখ করা হয় নাই) মাইনুল হোসেন।

অবৈধ দখলদারদের দায়ের করা মামলার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কি জানতে চাইলে প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটা পানি উন্নয়বোর্ডের জায়গা। আমরা উনাদের প্রজেক্টে কাজ করছি। পানি উন্নয়নবোর্ড ইতোমধ্যে আইনজীবি নিয়োগ দিয়েছেন। আইনগতভাবে উনারা এটার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে আমরা যতদুর জানতে পেরেছি এই প্রকল্পের কাজকে ডিলে করার জন্যই এই রিট পিটিশন মামলাগুলো করা হয়েছে। তাই আমরা সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা চাচ্ছি যেনো দ্রুততার সাথে এই প্রজেক্টের কাজ শেষ করা যায়।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ