সোমবার ২০ আগস্ট, ২০১৮

২৬ দিন ধরে স্কুলে যায় না প্রবীরের দুই মেয়ে

রবিবার, ১৫ জুলাই ২০১৮, ১৮:২৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: শহরের কালিরবাজারের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের হত্যার রহস্য উন্মোচিত হলেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি তার পরিবার। এমনকি নিহত প্রবীরের দুই কন্যা গত ২৬ দিন ধরে স্কুলেও যাচ্ছে না। বাবার নিখোঁজ হওয়া ও পরবর্তীতের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্বজনদের সঙ্গে তারাও মুষড়ে পড়েছে। বড় মেয়ে দিয়া (১২) বাবার শুন্যতা কিছুটা বুঝতে পারলেও ছোট মেয়ে ঐশি এখনো বুঝে উঠতে পারছে না তার বাবা আর কোন দিন ফিরে আসবে না। তাকে কোলে নিবে না। আদর করবে না। স্কুলে নিয়ে যাবে না। মায়ের কান্না দেখে সে নিজেও কেঁদেছে। কিন্তু এটাই সত্য প্রবীর কোন দিনই তার মেয়েদের কাছে ফিরে আসবে না। ঘাতক ঘনিষ্ট বন্ধু পিন্টু দেবনাথ প্রবীর ঘোষকে বাসায় ডেকে নিয়ে নৃসংশভাবে হত্যার পর লাশ ৭ টুকরো করে বাসার নিচে সেফটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। যা সে শনিবার (১৪ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের আদালতে জবানবন্দিতে বলেছে।

রোববার (১৫ জুলাই) সকালে সরেজমিনে শহরের বিবি রোডের মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের গলিতে তাদের ভাড়ায় বাসায় গিয়ে দেখা যায় সুনশান নিরবতা। ওই বাসায় যে দুটো ছোট শিশু কন্যা আছে তা টেরও পাওয়া যায়নি। শনিবার (জুলাই) প্রবীরের বৃদ্ধ-বাবা রথ যাত্রায়ও যোগ দেননি। যদিও প্রতিবছর রথ যাত্রায় তারা অংশগ্রহন করেন।

প্রবীরের বড় মেয়ে দিয়া সারাক্ষণ শুকনো মুখে ঘুরে বেড়ায়। বাবার কথা মনে করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদে। ১২ বছরের দিয়া বুঝে তারা বাবা আর কেনোদিন ফিরে আসবে না। চলে গেছে না ফেরার দেশে। দিয়া জানে তার বাবাকে পিন্টু দেবনাথ হত্যা করেছে কিন্তু তার পরিবার তাকে এখনো জানতে দেয়নি কতটা নৃশংসতার সঙ্গে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

শুধু দিয়া কিংবা ঐশীই নয় পরিবারের অন্য সব সদস্যরাও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। প্রবীরের ছোট ভাই বিপ্লব চন্দ্র ঘোষ প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমাদের পরিবারটি এখনো শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি। কথা বলতে গেলেই সব আবার মনে পড়ে যায়। বাবা, মা, বউদি, বাচ্চা দুটো সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাবা হার্টের রোগী, তিনটি ব্লক আছে। মা’র থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়বেটিকস, হাই প্রেসার, শ্বাস কষ্ট। বেশি আবেগী হয়ে পড়লে অসুস্থ হয়ে যাবেন। আমাদের যে ক্ষতিটা হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ কি কেউ দিতে পারবে? এ বাচ্চা দুটোর বাবার অভাব কি কেউ পূরণ করতে পারবে? আমরা কাকারা চেষ্টা করব কিন্তু তা কতোটা পারবো সেটাও নিশ্চিত নয়।

বিপ্লব চন্দ্র ঘোষের সঙ্গে কথপোকথনকালে পাশের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন প্রবীর ঘোষের স্ত্রী রূপা ঘোষ। মলিন চেহারা, শাড়ীর আচল মাটিতে। একদৃষ্টি তাকিয়ে আবার নিজের কক্ষে ফিরে যান। রূপা ঘোষের উদাস সেই দৃষ্টিতেও ছিল হাজারটি প্রশ্ন। স্বামী হারার বেদনা। এখনো পুরো জীবন পড়ে আছে তার। কি হবে দুটি মেয়ে ও তার নিজের ভবিষ্যতের। স্বামীর শোক তাকে নির্বাক করে তুলেছে। অনেকটা বাকরুদ্ধ। অনিশ্চিত ভবিষ্যত তাকে হাতছানি দিচ্ছে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ