বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

২০২০ সালের রনজিত পুরস্কার পেলেন সলিমুল্লাহ খান

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৪১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রবর্তিত ‘রনজিত পুরস্কার ২০২০’ (পূর্বে ‘শ্রুতি পুরস্কার’) ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২০ সালে এ পুরস্কার পেলেন লেখক, গবেষক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। শ্রুতির পরিচালক ধীমান সাহা জুয়েল লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এ পুরস্কার ঘোষণা করেন। শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমীর সভাপতি আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, নীতি নির্ধারণী সদস্য কবি কাজল কানন, এটম বিজ্ঞান কোষের উপ পরিচালক রাসেদ বাবু, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, শ্রুতির সদস্য জাহিদ অভি প্রমুখ।

এর আগে শ্রুতির পরিচালনা পরিষদ এবারের পুরস্কারের জন্য সলিমুল্লাহ খানের নাম নির্বাচন করে। অবাধ প্রাণ-প্রকৃতির লড়াইয়ে সৃজনশীল, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের তৎপরতায় সক্রিয় স্বতন্ত্রবৈশিষ্ট্য চিন্তক হিসেবে তাকে এ পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রুতি।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) স্থানীয় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানের ২৮ বছর পূর্তি ও রনজিত জন্মোৎস অনুষ্ঠানে লেখকের হাতে এ পুরস্কার (নগদ ২৫ হাজার টাকা, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট) তুলে দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পাঠিত বক্তব্যে ধীমন সাহা জুয়েল বলেন, এটি শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমীর ১৪ তম পুরস্কার। এর আগে শিল্প-সংস্কৃতিতে মূল্যবান অবদানের জন্য দেশের ১৩ জন গুণীকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। তারা হলেন- কবি শামসুর রাহমান, যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম, ঢোলবাদক বিনয়বাঁশী জলদাস, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, জ্যোতি-পদার্থবিদ ড. জামাল নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ওস্তাদ সাইমুদ আলী খান, কথাসাহিত্যিক আবদুশ শাকুর, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইন।

সলিমুল্লাহ খান ১৯৫৮ সালের ১৮ আগস্ট বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহেশখালীতে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। তারা পাঁচ ভাই তিন বোন। সলিমুল্লাহ খান চতুর্থ।

সলিমুল্লাহ খান চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পাস করেন। এরপর ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। এখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায়, ১৯৭৬ সালে লেখক আহমদ ছফার সঙ্গে সলিমুল্লাহ খানের পরিচয় হয়। আহমদ ছফার মাধ্যমে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে পরিচয় হয় সলিমুল্লাহ খানের। এ পর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হন। যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্কের দ্যা নিউ স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় তিনি দীর্ঘ কাল অধ্যয়ন ও গবেষণা করেন। এখানে তার সর্বশেষ অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিলো ‘ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং তত্ত্ব, ১৭৯৩-১৮৭৭।’ এ অভিসন্দর্ভের জন্য তাকে পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়।

১৯৮৩-৮৪ সালে সলিমুল্লাহ খান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরে ১৯৮৫-৮৬ মেয়াদে অল্প দিনের জন্য ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটতে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮৬ সালে বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান পড়াশোনা করতে। দীর্ঘকাল তিনি নিউ ইয়র্কে অবস্থান করেন। নিউ ইয়র্কের দ্যা নিউ স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় তাকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৯ সালে দেশে ফিরে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এখানে তিনি অর্থনীতি পড়াতেন। একই সঙ্গে আইন ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে তিনি কিছু দিন ঢাকা হাই কোর্টে যাতায়াত করেন। সলিমুল্লা খান ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগের একজন অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।

পরবর্তীকালে সলিমুল্লাহ খান ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ-এ অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বর্তামনে সেন্টার ফর এডভান্সড থিওরির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি তার লেখার বিষয়বস্তু। তিনি লালন শাহ, রামপ্রসাদ চন্দ্র, জসিমউদ্দীন, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, আহমদ ছফা, আবুল হাসান, চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ছাড়াও তার সমসাময়িক অনেককে নিয়ে লিখেছেন। সলিমুল্লাহ খান বাংলা ভাষাকে দাপ্তরিকভাবে ব্যবহারের পক্ষে। বাংলাদেশের উচ্চ শ্রেণির লোকদের বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগও রয়েছে তার।

তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে একজন ঔপনিবেশিকতা-বিরোধী ও গণতান্ত্রিক চিন্তালালিত কবি হিসেবে তুলে ধরেন।

বেহাত বিপ্লব ১৯৭১ বইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কৌশলগত ও রাজনৈতিক দিক বিশ্লেষণ করেছেন সলিমুল্লা খান। এটি তার খুবই গুরুত্বপূর্ণ কর্মের মধ্যে একটি। এতে মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক তিনটি নীতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে। শাহবাগ আন্দোলনের সময় সলিমুল্লাহ খান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। তিনি সব সম্প্রদায়ের নিজ নিজ ধর্ম পালনের সমান অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সময় লেখালেখি করেন। সলিমুল্লাহ খান বহুভাষী। বিভিন্ন ভাষায় তার অনূবাদ কর্ম রয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি বাংলা সাধু ভাষায় লেখালিখি করছেন।

সব খবর
শিল্প ও সাহিত্য বিভাগের সর্বশেষ