মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

১৬ জুন বোমা হামলা: বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন স্বজনরা

শনিবার, ১৫ জুন ২০১৯, ২২:২১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ২০০১ সালের ১৬ জুন। নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে এক বেদনাবিধুর দিন। সেই দিনের কথা মনে হলে আজও আঁতকে উঠেন শহরবাসী। বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে নারী পুরুষের খন্ড বিখন্ড লাশ। একে একে প্রাণ হারায় ২০ জন মানুষ। অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে। সেইদিনের আঘাতের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু নির্মম-নৃশংস এই ঘটনার বিচার ১৮ বছরেও হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ক্ষুব্দ ও হতাশ। দীর্ঘ সময়েও বিচার না হওয়াতে বিচারের আশাও ছেড়ে দিয়েছেন তারা।

সেদিনের ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত ২০ জনের মধ্যে একজন সঙ্গীত শিল্পী নজরুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।

ওইদিনের ঘটনা মনে হলেই নজরুল ইসলাম বাচ্চুর স্ত্রী হামিদা ইসলামের গলা ধরে আসে, চোখের কোণে জমতে থাকে অশ্রু। ১৮ বছর যাবৎ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির বিচারের দাবিতে কথা বলতে বলতে ক্লান্ত হামিদা ইসলাম। ছেড়ে দিয়েছেন স্বামী হত্যা বিচারের দাবি। হামিদা ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাগে ক্ষোভে প্রথমেই কথাই বলতে চাননি তিনি। এ প্রতিবেদক যখন হামিদা ইসলামের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন তখন তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। প্রতিবছর এই দিনটায় সাংবাদিকরা আমার ইন্টারভিউ নেয়, লেখালেখি করে কিন্তু এতে লাভটা কি হচ্ছে? ইন্টারভিউর জন্য আপনাদের এক ঘন্টা দেয়া মানে আমার এক ঘন্টা সময় নষ্ট করা, একটা টিউশন মিস করা। পরিশ্রম না করলে আমাকে কেউ টাকা দেবে না, আমার সংসার চলবে না। ২০০১ সালে ঘটনাটি ঘটেছিল, ১৮ বছর পার হয়ে গেল কই কোনো বিচার তো হলো না। আমি জানি আগামীতেও এর কোনো বিচার হবে না। বিচারের আশাটাও ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমার স্বামী বোমা হামলায় মারা গেলেন। তখন আমার মেয়েরা খুব ছোট ছোট। বড় মেয়ে ৮ বছরের আর ছোট মেয়ে তখন কোলে। আমার বাবা-মা নেই, আত্মীয়-স্বজন নেই। দুইটা মেয়েকে কীভাবে মানুষ করলাম কিভাবে সংসার চালাচ্ছি তার খবর কি কেউ নিয়েছে? কোথায় সরকার? কোথায় তার সহকর্মীরা?

এতক্ষণ রাগী সুরে কথাগুলো বললেও কষ্টে ধরে আসে হামিদা ইসলামের গলা। ধরা গলায় বলেন, একজন নারীর স্বামী মারা গেলে তার যে আর কিছু থাকে না।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ