সোমবার ১৪ জুন, ২০২১

হেফাজত নেতাদের সুরে সাংসদ সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে: হাফিজ

মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ ২০২১, ১২:০২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের হেফাজতের নেতারা যে সুরে কথা বলেন আমাদের দেশের ক্ষমতাসীন সেই সাংসদরা সেই একই সুরে কথা বলেন। এখন হেফাজতের লোকরা আওয়ামী লীগের লোক হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের লোক এবং হেফাজতের লোকের বক্তব্যের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। একই সুরে তারা আমাদের দেশের মানুষকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে। আমাদের দেশের অসাম্প্রদায়িক মানুষকে সাম্প্রদায়িক মানুষে পরিণত করার চেষ্টা করছেন। কে কত বড় সাম্প্রদায়িক সেটা প্রমাণ করে জনগণের ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বুধবার (২২ মার্চ) সকাল ১১টায় প্রেস ক্লাবের সামনে সকল সাম্প্রদায়িক হামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে ক্ষমতাসীনরা বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উস্কানি দিয়ে নিজেদে স্বার্থে ব্যবহার করে। এখন যারা ক্ষমতায় আছে অতীতের সকল ক্ষমতাসীনদের ছাপিয়ে তারা এখন শীর্ষে অবস্থান করছে। ইতমধ্যে আপনারা শুনেছেন সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক শাক্তিকে উস্কানি দিয়ে আমাদের দেশে যারা ক্ষমতায় অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতাদের নেতৃত্বে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়েছে। আমরা সুনামগঞ্জের যে চিত্রটি দেখেছি আপানার লক্ষ্য করেছেন, যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের বা সরকার দলীয় লোকজন এবং ক্ষমতাসীনদের অত্যন্ত ঘনিষ্ট লোকজন। আমাদের দেশে যখন জঙ্গী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নির্মূল করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। আমরা দেশের মানুষ আশায় থাকি আমাদের দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হবে। আমাদের দেশের লোকজন প্রকৃতপক্ষে অসাম্প্রদায়িক লোকজন কিন্তু যারা ক্ষমতায় ছিলো এবয় আছে তারা আমদের দেশের লোকজনদের সাম্প্রদায়িক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন আমাদের নারায়ণগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ মাহফিলের নামে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। গতকাল আমাদের নারায়ণগঞ্জের আলীরটেকে একটি ওয়াজ মাহফিল হয়েছে। বিশাল ওয়াজ মাহফিলে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত হয়েছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জের একজন সাংসদ সেখানে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বক্তব্যে বলেছেন আমাদের নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ আমাদের মেয়র নাকি নারায়ণগঞ্জের মসজিদ, মাদরাসা ভেঙ্গে দিচ্ছেন। মসজিদ, মাদরাসা ভাঙ্গার পরিণাম ভয়াবহ হবে। তিনি নাকি তার ক্ষোভ থেকে প্রতিবাদ করবেন। বরং তাদের বক্তব্য রাখা উচিত আমার মসজিদ উচ্ছেদ করা যাবে না, আমরা রিকশা উচ্ছেদ করা যাবে না, গরীব মানুষদের উচ্ছেদ করা যাবে না এবং শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা যাবে না। জনপ্রতিনিধিদের কাজ হলো সেটাই, আর আমার জনপ্রতিনিধিরা সাম্প্রদায়িক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছেন। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে হামলাকারীরা যদি আওয়ামী লীগের নেতা হোক বা যে কোন পর্যায়ের নেতা হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বকারী তরিকুল সুজন, জেলা ন্যাপের সহ সভাপতি গোবিন্দ সাহা, জেলা বাসদের ফোরাম সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লব, জেলা যুব ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শিশির চক্রবর্তী, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণের সংগঠক অমল আকাশ প্রমুখ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ