বুধবার ২১ এপ্রিল, ২০২১

হাজীগঞ্জে ঈদগাহ নিয়ে মুখোমুখি দু’পক্ষ

বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:৫১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হাজীগঞ্জ এলাকার নবুমিস্ত্রী ঈদগাহ ময়দানে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে দুই পক্ষ। একপক্ষ ঈদগাহ মাঠে ঘর নির্মাণের চরম বিরোধীতা করে আসলেও অপরপক্ষ তা নির্মাণ করতে অটল রয়েছে।

অবশ্য, ঈদগাহে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে প্রথমেই হোঁচট খেয়েছে মসজিদ কমিটি। স্থানীয় লোকজনের প্রবল বাধার কারণে নির্মাণ সামগ্রী এনেও কাজ শুরু করতে পারেনি মসজিদ কমিটি। উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে আগামী শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা মসজিদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এদিকে ঈদগাহে ঘর নির্মাণের বিরোধীতাকারীরা এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর নেওয়া শুরু করেছে। শুক্রবার তারা মানবন্ধন করবে বলেও খবর রয়েছে। যেকোনো উপায়ে ঈদগাহ মাঠ রক্ষা করতে চান তারা। তবে মসজিদ কমিটির লোকজন বলছে, ঈদগাহ মাঠ থাকবে, পাশাপাশি মসজিদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ঈদগাহ মাঠের একাংশে বসতঘর নির্মাণও হবে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হাজীগঞ্জ নবুমিস্ত্রী জামে মসজিদ। এই নামেই প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির ওপর একটি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। প্রায় আট বছর আগে একবার এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর থেকে এই ঈদগাহে ঈদের জামাত বন্ধ রয়েছে। এই ঈদগাহের পশ্চিম পাশে বেশ কয়েকটি টিনশেড ঘর করে সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং দান-অনুদানের অর্থ মিলিয়ে মসজিদের উন্নয়ন ও ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমের সম্মানী ভাতাসহ যাবতীয় ব্যয় মেটানো হয়।

গত রোববার মসজিদ কমিটি ঈদগাহ মাঠে আরও বেশ কয়েকটি ঘর নির্মাণ কাজ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাতে বাধা দেয়। এ সময় মসজিদ কমিটির সাথে নির্মাণ কাজে বাধা প্রদানকারীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠলে মসজিদ কমিটি সাময়িকের জন্য কাজ বন্ধ রাখে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ঈদগাহ মাঠ ধ্বংস করে তারা কোনো স্থাপনা চান না। মসজিদ কমিটির একরোখা সিদ্ধান্তের কারণে বেশ কয়েক বছর যাবৎ এই মাঠে ঈদের জামাত হচ্ছে না। এই জায়গাটি একসময় জলাশয় ছিল। সবার দান-অনুদানে বালু দিয়ে জলাশয় ভরাট করে ঈদগাহ মাঠের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তারপর একবার ঈদের জামাতও হয়েছিল। কিন্তু কমিটি শুধু মসজিদ নিয়ে পড়ে থাকায় পরবর্তীতে আর কখনও ঈদের জামাত হয়নি। বরং মসজিদ উন্নয়নের কথা বলে কমিটি ঈদগাহের পশ্চিম পাশে অনেকগুলো ঘর তুলে ভাড়া দিয়ে রেখেছে। এরপরও এই ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত ফিরিয়ে আনার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি বলে মসিজদ কমিটির বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা বলছেন, উল্টো মাঠটি ধংস করার লক্ষে কমিটি আবারও ঘর নির্মাণের পাঁয়তারা করছে। যা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। একটি এলাকায় অনেক মসজিদ থাকলেও ঈদগাহ ময়দান থাকে একটিই। এই ঈদগাহের কারণে ঘোপটা এলাকা সড়কের নাম পাল্টে ঈদগাহ সড়ক নামকরণ করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠ রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী এখন একজোট।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ নবুমিস্ত্রী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মোল্লা বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠে ধ্বংস করা হচ্ছে- এ কথাটি ঠিক না। মসজিদের আয় বাড়ানোর লক্ষে সার্বিক দিক বিবেচনা করে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করতেই এখানে আরও দুই লেন করে ঘর তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘর উঠানোর পরও ঈদগাহের জন্য আরও ৩০ শতাংশ জায়গা থাকবে। সেখানে সুন্দর একটি ঈদগাহ করা হবে। থাকবে অযুখানার ব্যবস্থাও। অযথা কেউ কেউ উল্টোপাল্টা কথা ছড়াচ্ছে। এই ঈদগাহ মাঠ কারও চলাচলের জন্য নয়। ঈদগাহের পবিত্রতা রক্ষা এবং মসজিদ উন্নয়নে যা করা দরকার তা-ই করা হবে।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ