সোমবার ১৪ জুন, ২০২১

হরতালে সহিংসতার দায় হেফাজতের না: মামুনুল হক

বুধবার, ৩১ মার্চ ২০২১, ১৯:৫৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ‘হরতালে সারাদেশে সহিংসতার দায় হেফাজতে ইসলাম নেবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। বুধবার (৩১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হরতাল কর্মসূচিতে সারাদেশে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গায়ের জোরে উৎখাত করার চেষ্টা করেছে যা অগণতান্ত্রিক আচরণ। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আগেও বলেছি এখনও বলবো, তারা যেন গায়ের জোরে বা বন্দুকের নলের জোরে জনগণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়।’

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল গত ২৯ মার্চ রাতে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর গতকাল দুপুরে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা শহরের ডিআইটিতে অবস্থিত রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মাওলানা আউয়ালের সাথে বৈঠকে বসেন। প্রায় আড়াই ঘন্টা স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এসে হেফাজত নেতা মামুনুল হক সাংবাদিকদের জানান, মাওলানা আব্দুল আউয়াল পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

এ সময় হরতালে সারাদেশে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও দায়িত্বরত সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়ে প্রশ্ন করলে মামুনুল হক বলেন, ‘সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা বা সহিংসতার কোনো ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেউ সম্পৃক্ত থাকতে পারে না। কারণ হেফাজতে ইসলাম আগাগোড়াই সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সাংবাদিকদের তারা মূল্যায়ন করে ও সাংবাদিকদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে হেফাজতে ইসলাম সবসময় আন্তরিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিছু ঘটনা ঘটেছে যা স্থানীয় লোকজনে ক্ষোভের কারণে হয়েছে। কেননা তাদের স্বজনরা শহীদ হয়েছেন আন্দোলনে। শহীদদের জানাজা পড়ানো ও সুন্দরভাবে দাফন করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নানা টালবাহানা করা হয়েছে ও বাধা প্রতিবন্ধকতা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সেখানে কিছু ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে এবং বাধার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংঘাত থাকতে পারে। তার জন্য হেফাজত ইসলাম দায় নিবে না।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে হেফাজতের পিকেটাররা সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে এবং কোনো সহিংসতায় জড়ায়নি বলেও দাবি করেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় এই নেতা। তবে কারা এই সহিংতা চালিয়েছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সুনির্দিষ্ট কাউকে চিহ্নিত করেননি মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘কারা সহিসংতা চালিয়ে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে বের করবে। কোথাও হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে অগ্রসর হয়ে কোনো ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আক্রমনাত্মক ঘটনা ঘটেনি। বরং আমাদের রাজপথের অবস্থানকে প্রত্যাহার ও উৎখাত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীল কর্মীদের উপর আক্রমন চালিয়েছে। সেখানে থেকে কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে কিন্তু সেটি কখনোই হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে হয়নি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীব, মুফতি নাসির উদ্দীন মনির, সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল করীম কাসেমীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার হেফাজতের ডাকা হরতালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ছিল হরতাল সমর্থকদের দখলে। তারা এই মহাসড়কে রীতিমতো তান্ডব চালায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে প্রায় ১৮টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। নির্বিচারে চলে ভাঙচুর। দফায় দফায় বিজিবি-পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক। পুরো সময়জুড়ে সাংবাদিক উপর চড়াও ছিল পিকেটাররা। তারা ১২ জন সাংবাদিককে মারধর ও দু’টি মিডিয়ার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। মহাসড়কটি ভোর থেকে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত ছিল হরতাল সমর্থকদের দখলে। পুলিশের তথ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে ১৮টি ট্রাক, বাস, কাভার্ডভ্যানে আগুন, নির্বিচারে যানবাহনে ভাঙচুর, সাংবাদিকদের মারধর করেছে হেফাজতের পিকেটাররা। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪০০০ রাউন্ড গুলি (রাবার, সিসা, চাইনিজ রাইফেল) ছুড়েছে পুলিশ। প্রায় এক থেকে দেড়শ কাঁদানে গ্যাসের শেলও নিক্ষেপ করা হয়। এই সহিংসতার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ ও র‌্যাবের করা ছয়টি মামলায় বিএনপি-জামাতের নেতা-কর্মীসহ ১৩৬ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩৭০০ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় বাদ পড়েছেন জেলা হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ