মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

হরতালের সমর্থনে সমাবেশ ও মিছিল

সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার আহ্বানে ৩০ নভেম্বর অর্ধ দিবস (৬ টা থেকে ২টা) দেশব্যাপী হরতাল সফল করার লক্ষ্যে সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চা নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বিকাল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ ও শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ফোরামের সদস্য আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ফোরামের সদস্য সেলিম মাহমুদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক শহীদুল আলম নান্নু ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল(মার্কসবাদী)’র সংগঠক রফিকুল ইসলাম রফিক।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোক্তা সংগঠন ক্যাব, বিভিন্ন বামপন্থি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, জ্বালানি বিশেষজ্ঞসহ সকল মহলের মতামত ও সমস্ত তথ্য, যুক্তি উপেক্ষা করে সরকার একগুয়েমি  করে বিদ্যুতের দাম আবারো বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছে। বর্তমান সরকার তার মেয়াদ কালে এই নিয়ে আট বার বিদ্যুতের দাম বাড়াল। সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি, অপচয়, লুটপাট, ব্যাক্তিমালিকানাধীন বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের মুনাফার জন্য দফায় দফায় বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। গত কয়েক বছরে গণশুনানিতে এ বিষয়ে বহুবার যুক্তি উত্থাপন করা হয়েছে কিন্তু গণশুনানির উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের ইচ্ছার বাস্তবায়নের লোক দেখানো আইনি পদক্ষেপ। এবারও ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানির দেয়া হিসাব এবং প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছিল বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোন যৌক্তিকতা নেই।


নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নয় জনগণের স্বার্থের কথা ভাবলে বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ানো নয় কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বিদ্যুতের কথা যুক্তি ও তথ্য উপাত্ত দিয়ে বারবার দেখানো হয়েছে। রেন্টাল এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরকার গ্যাস সরবরাহ করে এবং তাদের কাছ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনে। রেন্টাল, কুইক রেন্টালে গ্যাস সরবরাহ না করে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ালে প্রায় এক হাজার ৩০১ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। জ্বালানি দামের সমন্বয় করলে ফার্নেস ওয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুই হাজার ১১০ কোটি টাকা এবং ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। ডিজেলভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখে কম খরচের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখলে উৎপাদনে ব্যয় সাশ্রয় হতো ৭৫২ কোটি টাকা। মেঘনা ঘাট আইপিপিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি নীতি পরিবর্তন করলে প্রায় ৭ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা সাশ্রয় করা যায়। জ্বালানির দাম কমার সাথে সমন্বয় করলে ২৬৭২ কোটি টাকা উৎপাদন খরচ কমানো যায় বলে আমরা যে দাবি করেছি গণশুনানিতে বিইআরসি’র সদস্যও তা স্বীকার করে বলেছেন, অতটা নয়, তাদের হিসেবে ১৭০০ কোটি টাকা কমানো যায়। অথচ ৩৫ পয়সা প্রতি ইউনিট দাম বাড়ালে সরকারের বাড়তি আয় হবে ১৮৮৬ কোটি টাকা। আমরা বলেছিলাম, অপচয়-দুর্নীতি ও ভুলনীতির পথ পরিহার করলে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১ টাকা ৫৬ পয়সা কমানো সম্ভব।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ ব্যবসায়ী, এলএনজি ব্যবসায়ী, বিদ্যুৎ আমদানিকারকদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে সাধারণ জনগণের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হল। বিদ্যুৎ এমন একটি পরিষেবা যা অন্যান্য দ্রব্যের উৎপাদন খরচের উপর প্রভাব বিস্তার করে। কৃষি, ধান থেকে চাল উৎপাদন, গম থেকে আটা তৈরিসহ কৃষি পণ্য উৎপাদন, শিল্প পণ্য উৎপাদন, ইজি বাইকসহ যানবাহন, ওয়াসার পানি উৎপাদন সব কিছুতেই বিদ্যুতের ব্যবহার হয়। ফলে সরকার দাম বাড়িয়ে যত টাকা আয় করবে তার বহুগুণ খরচ বাড়বে সাধারণ মানুষের। এমনিতেই চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ দিশেহারা তার পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির খড়গ তাদের জীবনকে অসহনীয় করে তুলবে। নেতৃবৃন্দ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে দেশবাসীর প্রতি আগামী ৩০ নভেম্বর সকাল ৬ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল সফল করার জন্য আহ্বান জানান।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ