বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

হরতালের সমর্থনে নগরীতে সমাবেশ ও মিছিল

শনিবার, ৬ জুলাই ২০১৯, ২১:২১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমানোর দাবিতে আগামীকালের হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

শনিবার (৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে চাষাঢ়ার শহীদ মিনারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে শহরে মিছিল করেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এড. মন্টু ঘোষ, কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, জেলা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মাহমুদ হোসেন, জেলা গণসংহতি আন্দোলনের জেলা নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস প্রমুখ।

সমাবেশে হাফিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার রাতের আঁধারের ভোটে ক্ষমতায় এসে প্রথমে কৃষকদের ধ্বংস করেছে। তারা এখন সাধারণ জনগণের পকেটে হাত ঢুকাচ্ছে। গরীব সাধারণ জনগণের অর্থ লুট করছে। এই সরকার ও বিগত সরকার ১% লোককে ভালো রাখার জন্য গরীব মেহনতী মানুষদের ক্ষতি করছে। যারা মেহনতী গরীব মানুষদের পেটে লাথি মারে তারা রাষ্ট্র ও সংবিধানে লাথি মারে। গ্রামের সাধারণ জনগণের পেটে ভাত পরছে না কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলছেন দেশ উন্নয়নের পথে আগাচ্ছে। সাধারণ জনগণের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আগামীকাল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ও সংগঠিত হয়ে নিজেদের স্বার্থে আমাদের সবার হরতালে নামতে হবে।

সভাপতি নিখিল দাস বলেন, গ্যাসের দাম গড়ে ৩৩% বৃদ্ধি করা হয়েছে, সিএনজির ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৭.৫ শতাংশ, শিল্প-কারখানা ও সার কারখানাতেও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাসের দাম তখন বাড়ানো যায় যখন কোন প্রতিষ্ঠান বিআরসি কে জানায়, গ্যাসের বর্তমান দামে লোকসান হচ্ছে তাহলে তখন গ্যাসের দাম বাড়ানো যায়। কিন্তু তিতাস বা বাপেক্স কোনটিই লোকসানে নেই। তার মানে গ্যাস দাম বাড়ানো পুরোপুরি অযৌক্তিক। বাপেক্স আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব খাদ্য, পন্য-দ্রব্য, যানবাহনে আমাদের দৈনন্দিন সকল ক্ষেত্রে পড়বে। তাই আমাদের এখন এই ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে নাহলে আমাদের সাধারণ জীবনে এর বিরূপ প্রভাব পরবে।

তরিকুল সুজন বলেন, ১০ বছরে সপ্তম বারের মতো গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম কমেছে শতকরা ৫০ ভাগ। ভারত যখন গ্যাসের দাম কমিয়েছে ১০১ রুপি, তখন আমরা অবিশ্বাস্য হারে দাম বাড়াচ্ছি। সরকারের মূল এজেন্ডা হচ্ছে যে গ্যাস সঙ্কটকে একটি অজুহাত হিসেবে তৈরি করে একদিকে এলএনজি বা এলপি গ্যাসের ব্যবসা করা, অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যৌক্তিকতা তৈরি করা। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে বাংলাদেশকে আমূলে পরিবর্তন করা সম্ভব। ৭ তারিখের হরতাল হবে জীবনের ও মান-সম্মানের হরতাল। আমরা সবাইকে ৭ তারিখের হরতালে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানচ্ছি।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ