শুক্রবার ০৫ মার্চ, ২০২১

হত্যার পর লবণ মেখে স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে এসে ধরা স্বামী

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: স্ত্রীকে হত্যার পর লবণ মেখে কম্বলে জড়িয়ে লাশের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন শিক্ষক স্বামী। বিষয়টি বুঝতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে স্বামীকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

বন্দর থানা পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির নাম আমিনুল ইসলাম। সে বন্দর থানাধীন রাজবাড়ী এলাকার রফিকুল ইসলাম মিয়ার ছেলে এবং বন্দর গালর্স স্কুলের শিক্ষক। তিনি তার স্ত্রী সুলতানা আক্তার শান্তার (২২) লাশ নিয়ে এসেছিলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সুলতানা আক্তার শান্তা সোনারগাঁ উপজেলার বারদী এলাকার মো. কলিমউল্লাহর মেয়ে।

বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় এক নারীর মৃতদেহ নিয়ে আসেন এক যুবক। জানতে চাইলে ওই যুবক মৃতদেহটি তার স্ত্রীর আবার অপরিচিত রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া লাশ বলে পরিচয় দেয়। তার অসংলগ্ন কথাবার্তা শুনে এক পর্যায়ে পুলিশে খবর দিলে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে হাসপাতালের লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।’

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ওই নারীর মৃত্যু অন্তত দুই-তিনদিন পূর্বে হয়েছে বলে ধারণা করছি। মৃতের শরীরে লবণ মাখানো ছিল এবং মাথায় কাটা দাগ ছিল।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পিতা বাদী হয়ে তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগ এনে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছেন। হত্যার আসল কারণ এখনও জানা যায়নি।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ