সোমবার ২২ জুলাই, ২০১৯

হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জে ফের উত্তেজনা (ভিডিওসহ)

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯, ১৪:৪৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে গত ১৫ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করেন জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। এদিকে পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফুটপাতে বসার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে হকাররা। এই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তারা। এই হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করেই গত বছরের ১৬ জানুয়ারি শহরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আরও একবার এই হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় চাষাড়ায় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে হকাররা। জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে হকার নেতারা ছাড়াও জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, শ্রমিক নেতা এমএ শাহীন, বিমল কান্তি দাসসহ বাম জোটের বেশ কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে হকারদের বসানোর দাবি জানান। তাদের এই দাবি মেনে না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারি দেন হকার নেতারা।

সমাবেশে জেলা হকার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আসাদুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘হকারি ছাড়া আমাদের পেটে ভাত জোটে না। আমরা বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফুটপাতে বসতে চাই। এটা আমাদের নৈতিক চাওয়া। আমরা চাই না রাজপথে সংগ্রাম করতে কিন্তু দাবি আদায় না হলে আমরা রাজপথ ছাড়বো না। আমরা দিন আনি দিন খাই। আমাদের কোন পিছু টান নাই। তারপরও যদি অত্যাচারের মাত্রা বাড়ে, অত্যাচার চলতেই থাকে তাহলে আমরাও প্রশাসনকে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেবো।’

সমাবেশ শেষে কয়েকশ’ হকারের একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। পরে হকার নেতা রহিম মুন্সি, আসাদুল ইসলাম ও বাম নেতা হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে হকারদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে একই দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, জেলা পুলিশ সুপার বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি ফিরলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হকার ইস্যুতে আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। মেয়রকে সহযোগিতা করেন তৎকালীন পুলিশ সুপার মঈনুল হক। সে সময় হকাররা ফুটপাতে বসার দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপি, অনশন, বিক্ষোভ মিছিল থেকে শুরু করে নানা কর্মসূচি দিতে থাকে। এই হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করেই গত বছরের ১৬ জানুয়ারি মেয়র আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমান সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে মেয়র আইভী, সাংবাদিক, সাধারণ জনতাসহ অর্ধ শতাধিক আহত হয়। সংঘর্ষের পর কয়েকদিন ফুটপাত হকার মুক্ত থাকলেও ফের হকারদের দখলে চলে যায় বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত। বর্তমানে এসপি হারুন অর রশীদের উদ্যোগে ফের হকারমুক্ত রয়েছে ফুটপাত।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ