রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

স্বল্প জনবলে প্রসূতিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

আফসানা আক্তার (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): নারীদের মধ্যে গর্ভকালীন সময় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুকিপূর্ণ সময়টিকে আনন্দময় করে তুলেছে নগরীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। হয়ে উঠেছে প্রসূতি নারীদের আপন ঠিকানা।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রসূতি নারীর গর্ভকালীন, প্রসবপূর্ব ও প্রসব পরবর্তী সকল স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয়। গর্ভকালীন ৪ বার চেকআপ, চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রসবপূর্ব নিরীক্ষণ, প্রসূতি মায়ের জন্য ঔষধ (ভিটামিন, আয়রণ), নরমাল ডেলিভারি, সিজারিয়ান ডেলিভারি, প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্য সেবা, চেকআপ ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা থেকে শুরু করে সবকিছু এক ছাদের নিচে বিনামূল্যে হওয়ায় প্রসূতির কাছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এক নিরাপদ ঠিকানা।

মাত্র ২০ শয্যা আর দু’জন চিকিৎসক নিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রতি মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রসূতি মায়েদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই কেন্দ্রটি। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তত্বাবধানে এই কেন্দ্রটিতে বিনা মূল্যে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। এছাড়াও এখানে নারী, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু সড়কে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের পাশেই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকালে ঘুরে দেখা যায়, দ্বিতল ভবনের নিচতলায় প্রশাসনিক কক্ষ, ডিসপেনসারি আর চিকিৎসকদের কক্ষ। নিচতলায় চিকিৎসা সেবা পাবার অপেক্ষায় রোগীদের ভিড়। দুই কক্ষে চিকিৎসা, পরামর্শ দিয়ে সেবা দিচ্ছেন দুই নারী চিকিৎসক। একের পর এক সেবা প্রার্থী সেবা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয় তলায় রয়েছে পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ, লেবার রুম, অপারেশন থিয়েটার, ডিউটি রুম এবং দু’টি ওয়ার্ড। যার প্রতিটি কক্ষই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন।

দুই ওয়ার্ডে দেখা মিলল এক নবজাতকের। লেবার রুম থেকে কিছুক্ষণ আগে স্থানান্তর করা হয়েছে নবজাতক ও তার মাকে। দীর্ঘক্ষণ প্রসব যন্ত্রণায় ক্লান্ত মা ঘুমিয়ে পড়লেও নবজাতককে ঘিরে আছে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা। এ সময় কথা হয় নবজাতকের খালা সামিয়া আক্তারের সঙ্গে। সামিয়া বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই নরমালে আমার বোনের ছেলে হয়েছে। সে এখন ঘুমাচ্ছে। ডাক্তার বলেছেন, ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে আমরা বাড়ি যেতে পারবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক কোনো টাকা পয়সা দাবি করেননি। রেজিস্ট্রেশন ফিও নাই। সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই ডেলিভারি হয়েছে। তবে হ্যা, ধাই-নার্স মিষ্টি ও কিছু বকশিস চেয়েছেন।’

জানা যায়, এ কেন্দ্রে দু’জন ডাক্তার, একজন ফিমেল মেডিকেল এটেনডেন্ট, দু’জন সহকারী এটেনডেন্ট নার্স, এফডব্লিউবি ৫ জন, ধাই নার্স দু’জন ও একজন ফার্মাসিস্ট।

এই স্বল্প জনবল নিয়েই মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, গর্ভকালীন সেবা, স্বাভাবিক প্রসব সেবা, জটিল গর্ভ খালাস, সিজারিয়ান অপারেশন, গর্ভত্তোর পরিচর্যা, এমআর সেবা, সাধারণ রোগী সেবা, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সেবা, বয়ঃসন্ধিকালীন (১০ থেকে ১৯ বছর) স্বাস্থ্যসেবা, ইপিআই সেবা, প্রজননতন্ত্রের/যৌনবাহিত রোগের সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে যাচ্ছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. ফাতেমা শিরীন বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই আন্তরিকতার সঙ্গে মা ও শিশু সেবাসহ রোগীদের বিভিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। শুধু প্রসূতিদের ডেলিভারি নয়, প্রসবপূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবাও দিয়ে থাকি। গত চার বছর যাবৎ আমি এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রায় প্রতিদিনই নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে আর সিজারের প্রয়োজন হলে সেটাও বিনা মূল্যে করানো হয় এই কেন্দ্রে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিমাসে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১০০ জন। তবে আমরা ৪৫-৫০টি ডেলিভারিই করতে সক্ষম হই। গতমাসে ৪২টি ডেলিভারি এখানে হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার কম হওয়ার একটি কারণ এই প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে দালাল চক্রের দৌরাত্ম। পাশেই একটি বড় সরকারি হাসপাতাল হওয়ার কারণে সেই প্রতিষ্ঠানের দালালরা এখানেও রোগীদের প্রতারিত করে।’

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার প্রদীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘শুধু সদর উপজেলায় আমাদের ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। আর একটি মা ও শিশু কল্যাণ কল্যাণ কেন্দ্র। প্রতিদিনই এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রসূতিদের বিনা মূল্যে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। গত মাসে উপজেলার ১০টি কেন্দ্রে প্রায় ২০০ নরমাল ডেলিভারি করাতে আমরা সক্ষম হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মায়েদের নরমাল ডেলিভারিতে উৎসাহ দেই। কেননা নরমাল ডেলিভারি নারীদের সুস্থ্য জীবনযাপনে সাহয্য করে। এ লক্ষে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রমও পালন করে যাচ্ছি।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ