শুক্রবার ২৯ মে, ২০২০

সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ২১:৪৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সরকারি খাল দখল করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নিষ্কাশনের পাইপ বসাচ্ছে একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। করোনা প্রাদুর্ভাবের ছুটি কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, যেকোন মূল্যে এ পাইপ বসানো থেকে বিরত রাখতে হবে ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানকে। এ পাইপ দিয়ে একটি ইকোনোমিক জোনের প্রায় ২০টি কোম্পানির দূষিত বর্জ্য পাশ্বর্বতী মারিখালী নদীতে ফেলা হবে। এতে করে ওই এলাকায় প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হবে। এ পাইপ বসানো বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া এলাকায় ফুলবাড়িয়া খালটি দখল করে মেঘনা ইকোনোমিক জোনের প্রায় ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষিত পানি এ খাল দিয়ে পাইপের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হবে। এর আগে আরো দুটি কোম্পানির পানি এ খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হয়েছে। এতে করে এ এলাকাবাসী বায়ু ও পানি দূষণের কবলে পড়ে। ফলে এলাকায় কোন পুকুর বা জলাশয়ে মাছ নেই। এ পানি ওই খালে নিষ্কাশিত হলে মোগরাপাড়া, বাড়ি মজলিস, বাড়িচিনিস, ফুলবাড়িয়া, ডহরপাড়া, ষোলপাড়া, গোহাট্টা, দমদমাসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের পানিবাহিত রোগসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি করোনা প্রাদুর্ভাবকে কাজে লাগিয়ে জনশূন্য হয়ে পড়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান সরকারী খাল দখল করে এ পাইপের কাজ করে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চৈতি, ক্যানটাকি নামের দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠান এ খাল দিয়ে তাদের দূষিত বর্জ্য নিষ্কাশক করেছে। এ দূষিত বর্জ্যরে কারণে আমাদের বাড়িঘরে চলাফেরা দায় হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি নতুন করে এ খাল দিয়ে মেঘনা ইকোনমিক জোনের প্রায় ২০টি শিল্প কারখানার দূষিত পানি পাশ^বর্তী মারিখালী নদীতে ফেলার পায়তারা করছে। এতে করে ওই নদীতে গোসল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য পানি ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাছাড়া এ নদীতে মাছ থেকে শুরু করে দূষিত পানির প্রভাবে কীট পতঙ্গ মরে যাচ্ছে।

গোহাট্টা গ্রামের মহিউদ্দিন জানান, চৈতির পানির দুর্গন্ধের জন্য বাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। নতুন করে মেঘনা গ্রুপের ২০টি কোম্পানি পানি এ পাইপ দিয়ে নদীতে আসলে নদীটি বুড়িগঙ্গায় পরিণত হবে। কোনভাবেই এ খাল দখল করে পাইপ বসাতে দেওয়া যাবে না।

মেঘনা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার কার্তিক চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর লাইনটি কেটে দেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, কোনভাবেই সরকারী খাল দখল হতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ