বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২০

সোনারগাঁয়ে মুক্তিযোদ্ধার পাশে দাঁড়ালো মাদরাসার শিক্ষার্থীরা

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ের অলিগলিতে প্রায়ই একজন বৃদ্ধকে দেখা যায় ঔষধ ও চকলেট ফেরি করতে। ৭৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধকে সাধারণ ফেরিওয়ালা মনে হলেও বাস্তবে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার বাড়ি সোনারগাঁ পৌরসভার অর্জুন্দি গ্রামে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও স্বচ্ছলতার মুখ দেখেনি তার পরিবার।

বিজয়ের মাসে এ অসহায় মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার পাশে দাঁড়িয়েছে সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত নয়াপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে মাদরাসায় আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে সংবর্ধনা দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তাকে উপহার হিসেবে তুলে দেয় গত এক সপ্তাহের টিফিনের জমানো টাকা।

নয়াপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান জানান, এক সপ্তাহ পূর্বে তিনি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিকট বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা সম্পর্কে জানেন এবং এ বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা তার জন্য টিফিন না খেয়ে টাকা জমাতে শুরু করে।’

তিনি বলেন, ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের পাশে দাঁড়াতে পেরে শিক্ষার্থীরা আজ অনেক আনন্দ পেয়েছে। এছাড়া মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষকবৃন্দ সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই আজ আমরা অনেক আনন্দিত।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নয়াপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছে এবং তাদের সাধ্য অনুযায়ী আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমি তাদের জন্য আজীবন দোয়া করে যাবো।’

গোলাম মোস্তফা জানান, প্রতি মাসে সে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে ১২ হাজার টাকা পান। এর মধ্যে ৭ হাজার টাকা তাকে বাড়ি ভাড়া বাবদ দিতে হয়। বাকি ৫ হাজার টাকায় তার চিকিৎসা ও সংসারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। তাই জীবনের শেষ ইচ্ছা হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কয়েক শতাংশ জমি ও একটি ঘরের দাবি জানান।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ