সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯

সোনারগাঁয়ে পুলিশের মারধরে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ

শুক্রবার, ৯ আগস্ট ২০১৯, ২৩:০২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি এলাকায় সোনারগাঁ থানার দুই পুলিশ সদস্যের মারধরে আব্দুল বাদশা (৪৮) নামের এক তেল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে ওই ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে ওই দুই পুলিশ সদস্যের মারধরে আহত হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন, সোনারগাঁ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মাসুদ আলম ও কনস্টেবল তুষার।

এদিকে পুলিশের মারধরে ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী নয়াপুর-পঞ্চমীঘাট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তোজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিচার দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে মিছিল করে এলাকাবাসী। রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে ও স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল বাদশা দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন তেলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। গত সোমবার বিকেলে সোনারগাঁ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ আলম তার দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীক কাগজপত্র দেখার নাম করে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে আসে। শুক্রবার সাদা পোশাকে এএসআই মাসুদ কনস্টেবল তুষারকে নিয়ে পুনরায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিহত আব্দুল বাদশার ছেলে মিঠু দোকানে বসা ছিল। এ সময় মিঠুর কাছে এএসআই মাসুদ ও কনস্টেবল তুষার কাগজপত্র দেখতে চান। মিঠু কাগজপত্র তার বাবার কাছে রয়েছে বলে জানান। মিঠু তার বাবাকে ফোন দিলে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশার আসতে দেরি হয়। পরে ওই পুলিশ সদস্যরা পুনরায় ওই ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা ও ছেলে মিঠুকে পুলিশ সদস্যরা চড় থাপ্পর ও মারধর করে। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশার বুকে এএসআই মাসুদ ঘুষি মারলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই ব্যবসায়ী মারা যান।

নিহত ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশাহর ছেলে মিঠু অভিযোগ করে বলেন, একজন সাদা পোশাকে ও তুষার নামের একজন পোশাক পড়ে আমাদের দোকানে যান। এ সময় আমার কাছে তারা কাগজপত্র দেখতে চান। আমি কাগজপত্র বাবার কাছে রয়েছে বলে জানালে আমার কাছে টাকা চান। পরে আমি বাবাকে ফোন দিলে ওই সময়ে বাবার কাছে তারাও টাকা চাইলে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে আমাকে ও বাবাকে চড় থাপ্পর মারে। বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয় আমাদের আত্মীয় স্বজনরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এএসআই মাসুদ আলম জানান, আমি নিয়মিত ডিউটি পালনের জন্য কাঁচপুর যাওয়ার পথে নয়াপুর এলাকায় সন্দেহবশত তেলের দোকানের মালিক বাদশাকে জিজ্ঞেসাবাদ করার এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ্য বোধ করেন। পরে তাকে তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে যান। ওখানে তার সাথে আমার কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি। তবে বিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় ও পুনরায় চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন সোনারগাঁ থানা পুলিশের এই সদস্য।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ব্যবসায়ী মৃত্যুর ঘটনা শুনে সার্কেল এসপি স্যার, আমি ও ওসি তদন্ত ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের পরিবারের সাথেও কথা বলেছি। প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারি নিহত ব্যক্তি পঞ্চাশোর্ধ্ব বৃদ্ধ। এর আগেও তিনি দুই বার স্ট্রোক করেছেন। তার কাছে অবৈধ তেল মজুদ আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে কাগজপত্র দেখতে চান এএসআই মাসুদ। এ সময় তিনি বুকে ব্যাথা করছে বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান।

এএসআইয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও বিশ হাজার টাকা চাঁদা গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এমন কোন অভিযোগ পরিবারের কেউ আমাদের কাছে করেনি। এমন কোন অভিযোগ নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে করলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

তবে অবৈধ তেল মজুদ আছে এমন অপারেশনে যাওয়ার আগে এএসআই মাসুদ তাকে (ওসি) ইনফর্ম করেছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এমন কোন ইনফরমেশন আমার কাছে ছিল না। আসলে সব সময় তাৎক্ষনিক অপারেশনে যাবার পূর্বে ইনফর্ম করা হয় না।

এলাকার বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, হুজুগে কিছু লোক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে রাস্তা অবরোধ করেছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ