বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯

সোনারগাঁয়ে কায়সার-বিরু সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, প্রতিমা ভাঙচুর

বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ে সরকারি দলের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন তারা।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে পূজামন্ডপের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে উপজেলার জামপুর পাকুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৫টার দিকে ফের সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এ সময় পূজামন্ডপটিতেও ভাঙচুর চালানো হয়।

এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরকারি দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিমা ভাঙচুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হিন্দু নেতারা।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পাকুন্ডা গাবতলী পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘খ’ অঞ্চল) খোরশেদ আলম, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান, তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আহসান উল্লাহ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় লক্ষ্মীপূজার দাওয়াত পান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও কায়সার হাসনাতের সমর্থক জামপুর ইউপির সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি হুমায়ূন কবির। বুধবার দুপুরে আবু জাফর বিরু ও হুমায়ূন মেম্বার তার সমর্থকদের নিয়ে পূজামন্ডপে গেলে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোখলেছ, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ, জাহিদ, নাফিন, হুমায়ুন মেম্বারের ছেলে বড় ছেলে রোমান, শ্যালক রিপন মিয়া, রুবেল, সাজ্জাদসহ ১০ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রোমান ও মোখলেছের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।

পরে সন্ধ্যায় পূজামন্ডপে হামলা চালিয়ে ৬টি প্রতিমা ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. শামসুল ইসলাম ভূইয়া জানান, পূজা মন্ডপে পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিরুর গাড়ি বহরে হামলা ভাঙচুর করে হুমায়ূন মেম্বারের লোকজন। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুন মেম্বারের লোকজন প্রতিমা ভাংচুর করে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি হুমায়ূন কবির অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আবু জাফর বিরুর সমর্থিত লোকজনই তার লোকজনদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। হামলায় তার পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছে। বিরুর লোকজন প্রতিমা ভাংচুর করে আমাদের লোকজনকে ফাঁসাতে চাইছে।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, দুই দফায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে শুনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে দুই পক্ষেরই কেউই এখনও কোন অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার জানান, পাকুন্ডা গাবতলী পূজা মন্ডপে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ