শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সেলিম ওসমান অনুসারীদের ভাঙচুরের পর তালাবদ্ধ সেই সিএনজি পাম্প

বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট ২০১৯, ১৬:২১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়াতে বলাকে কেন্দ্র করে ফতুল্লার একটি সিএনজি পাম্পে ভাঙচুর চালিয়েছে এমপির অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতারা।

বুধবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১০টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে অবস্থিত সাহাবদ্দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত পাম্পের লোকজন পাম্পটি তালা মেরে চলে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকেই পাম্পটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সরেজমিনে পাম্পটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, চারদিকে সুনশান নিরবতা। পাম্পের কোন লোকজন নেই। পাম্পের দুই তলা ভবনের সামনে ভাঙা সিসি ক্যামেরা পড়ে আছে। ভবনের গেট ও ক্যাশ কাউন্টারে ঝুলছে তালা। ভেতরে কিংবা বাইরে কোথাও পাম্পের কোন লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাম্পটির আশেপাশের দোকানিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত রাতে সাড়ে আটটার দিকে এমপি সেলিম ওসমান গাড়ি সাহাবদ্দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আসে। এ সময় গাড়ির ভেতরেই ছিলেন এমপি। এমপির ড্রাইভার গাড়িটি লাইন অনুযায়ী না নিয়ে লাইন ভেঙ্গে যেতে চাইলে পাম্পের লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে এমপির ড্রাইভার ও পাম্পের লোকজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন এমপি সেলিম ওসমান। ওদিক থেকে পাম্পের ম্যানেজারও বেরিয়ে আসেন ভেতর থেকে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন সেলিম ওসমান। এক পর্যায়ে এমপি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। পরে রাত দশটার দিকে স্থানীয় আওয়ামী ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী এসে পাম্পে ভাঙচুর চালায়।

ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার বাসিন্দা রাসেল। সাহাবদ্দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে তার বাড়ির দূরত্ব ৫ মিনিটের। তিনি বলেন, আমি ঘটনার সময় ছিলাম না। কিন্তু পরে শুনতে পাই পাম্পে ঝামেলা হইসে। পরে আইসা দেখি হেলাল ভাই, ফায়জুল ভাইসহ আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতারা আসছে। পরে অনেক হৈ-চৈ হয়। ক্যামেরাও ভাঙচুর করে।

পাম্পের পাশেই কয়েকটি টিন শেডের ঘর। সেখানে বসবাস করেন কয়েক পরিবার। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক তারা বলেন, হৈ-চৈ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে আসি। পরে দেখি কিছু পোলাপান বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকে গেছে, ক্যামেরা ভাঙতাছে। কেউ আবার বাথরুমের পাশ দিয়ে বিল্ডিংয়ের ছাদে উইঠা যায়। ভেতর থেকে কিছু ল্যাপটপও লুটপাট চালানো হয় বলেও জানান তারা। পরে পাম্পের লোকেরা পাম্পে তালা মেরে চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চায়ের দোকানি বলেন, সবই একই দলের। পাম্পও আওয়ামী লীগ, যারা ভাঙচুর করেছে তারাও আওয়ামী লীগ। হেলাল, ফায়জুল, আজমতসহ স্থানীয় অনেক বড় বড় নেতা আইছিল। ওই ডরেই পাম্প বন্ধ কইরা সবাই গেছেগা।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা (ডিআইও-২) সাজ্জাদ রোমন বলেন, পাম্পের লোকজন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ফতুল্লা থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ