বুধবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

সেই রাতের নির্মমতার সাক্ষী হয়ে আছে ছোট্ট নিজহার

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সাড়ে চার বছর বয়সের জান্নাতুল ফেরদৌস নিজহার। যে বয়সে মায়ের আঁচল তলে পরম আদর স্নেহে কাটানোর কথা সেই বয়সেই মায়ের কোল হারাতে হয়েছে তাকে। নিজহারের পিতার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যায় মা সুমাইয়া আক্তার বর্ষা। দাবি করা যৌতুকের ৫ লক্ষ টাকা না পেয়ে গত ১৯ আগস্ট রাতে নির্মম নির্যাতনে হত্যা করা হয় বর্ষাকে। তবে সেই রাতের নির্মমতার সাক্ষী হয়ে আছে ছোট্ট নিজহার।

সে রাতের কথা জিজ্ঞাস করতে নিজহার বলে, ‘বাবা মাকে অনেক মারসে। মা কাদঁছিল। আমি সামনে যাই নাই। আমার অনেক ভয় করতাছিল।’ এখন তার মা কোথায় জানতে চাইলে সে বলে, ‘মা হাসপাতালে গেছে। কবে আসবে জানি না।’

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বন্দরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধু সুমাইয়া আক্তার বর্ষা হত্যার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন শেষে এসব কথা বলে সে। মায়ের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনে সেও দাঁড়িয়ে ছিলো নানার কোলে চড়ে।

উক্ত মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে মেয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে দুই লাইনও বলতে পারেননি কান্নায় ভেঙে পড়া নিহত বর্ষার মা শিউলী বেগম। তবে মানববন্ধন শেষে তিনি বলেন, ‘খুব ছোট বয়সে আমার মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে গিয়েছিল তারা। আমার মেয়ে চাপা স্বভাবের ছিল, সহজে কিছু বলতো না। সাজগোজের পাগল ছিল। সারাক্ষণ সেজে থাকতো। শেষবার যখন বাড়ি আসে তখন ওর শরীরে কিছু চিহ্ন দেখি জিজ্ঞাস করলে সে বলে, ও গুলো মেকআপ। আই লাইনার লেগে আছে। একদিন হঠাৎ ওর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। সেদিনই প্রথম আমাকে ওর উপর হওয়া নির্যাতনের কথা বলে। শরীরের এমন এমন জায়গায় মারতো যা কাউকে দেখানো যেত না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্ষার স্বামী ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল। আমার মেয়ে জানত এত টাকা দেবার সামর্থ আমার নেই। তাই কিছু জানায়নি চুপ করে সব সহ্য করে আসছে। সে কাঁদতে কাঁদতে বলেছে মা আর ফিরে যাবো না। আমি ওকে সান্তনা দিয়ে বলেছিলাম, তুই যা। আমরা তোর শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে কথা বলবো।’

হত্যার রাতের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে রাতে আমার মেয়ে আমাকে ফোন করেছিল। বলেছিল ‘মা আমি কাল চলে আসবো। আমি আর থাকতে পারছি না।’ আমি কিছু বলার আগেই কে যেন ফোনটা কেড়ে নিল। এরপর আর ওর সাথে কথা হয়নি, এরপর আমি আমার সন্তানের লাশ পেয়েছি।’

বর্ষার ছোট বোন সাবরিনা সুলতানা মিম বলেন, ‘বর্ষা আপুর সঙ্গে সেদিন আমার অনেকক্ষণ কথা হয়। যে বারবার কাঁদছিল।’

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলী সাহারদী এলাকার শ্বশুর বাড়িতে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের পর গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠে তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়নের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই রাতেই আসামি নয়নকে গ্রেফতার করে।
২০১৩ সালে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলী সাহারদী এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান নয়নের সাথে বিয়ে হয় সুমাইয়া আক্তার বর্ষার। তাদের নিজহার নামে সাড়ে চার বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ