বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও দুই শিশু কন্যাকে গলা কেটে হত্যা (ভিডিওসহ)

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ফ্ল্যাট থেকে মা ও দুই কন্যা শিশুসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই নিহত নারীর দুলাভাই তাকে এবং তার দুই কন্যাকে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকার ৭ তলা ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো- মা নাজনীন (২৬), শিশু কন্যা নুসরাত (৮), খাদিজা (২)। নাজনীন সিআইখোলা এলাকার বাসিন্দা সুমনের স্ত্রী। সুমন সানারপাড় জোনাকি পেট্রোল পাম্পে চাকুরি করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাজনীনের বোনের জামাই (দুলাভাই) আব্বাসের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া (১৫) ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

এদিকে অভিযুক্ত আব্বাস পলাতক রয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুকসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিল। কিছুক্ষন পর সিআইডির ঢাকার একটি টিমও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

এদিকে সাংবাদিকদের দেওয়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, এই ঘটনায় ঘাতককে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। তার নাম আব্বাস। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি সকাল ৮টায় ঘটেছে। এখানে সম্পূর্ণ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে। অর্থাৎ আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি, আব্বাস যে ঘাতক তার সাথে তার স্ত্রীর দ্বন্দ চলছিল। দ্বন্দের জের ধরে তার স্ত্রী চলে আসছে তার শালীর বাড়িতে। শালীর বাড়িতে আসার ফলে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। তার স্ত্রী গার্মেন্টেসে চলে গেছে সকালে। এই ফাঁকে সে আসছে তার শালীর সাথে কথা বলতে। এই কথা বলার ফাঁকেই বিরোধের জেরে হত্যাকান্ডটি ঘটতে পারে বলে আমরা আন্দাজ করছি। এবং সে কারনে সে শালীকে ও শালীর ২ মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। তার যে একটি প্রতিবন্ধী মেয়ে ছিল সে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি যে ঘটনা দুটো দিনের বেলা ঘটেছে এবং জানার সাথে সাথেই আমরা চেষ্টা করছি তাকে গ্রেফতার করতে। কিন্তু তাকে আমরা পাচ্ছি না। কিন্তু শীঘ্রই আমরা তাকে গ্রেফতার করবো। এই বিষয়টির রহস্য আমরা বের করছি। পারিবারিক বিরোধের কোথায় কি ঘটেছে আমরা তা বের করবো। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ঘটনাটি সম্পূর্ণ পারিবারিক বিরোধের জেরে হয়েছে। তার যে প্রতিবন্ধী মেয়ে আছে যাকে সে আহত করেছে তার বয়স প্রায় ১৫ সে সিরিয়াস আহত হয়েছে। সে এখন হাসপাতালে আছে। আমরা তার ডিক্লেয়ারেশন নেওয়ার চেষ্টা করছি। সে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ও জবাই করে হত্যা করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধটি আসলে কী কেন্দ্রিক ছিল তা আসলে আমরা তদন্ত করে জানার চেষ্টা করছি।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ