শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জে ভুয়া ডাক্তারে সয়লাব, শঙ্কায় সাধারণ মানুষ

বুধবার, ৭ আগস্ট ২০১৯, ২২:১৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের মূল শহর থেকে অদূরে সিদ্ধিরগঞ্জ। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ও শিল্প এলাকা হওয়ার কারণে এখানে মানুষের বসবাস তুলনামূলকভাবে বেশি। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া ডাক্তারে সয়লাব হয়ে গেছে। পূর্বে কাঠের ব্যবসা কিংবা পানি সাপ্লাইয়ের কাজে নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে এমবিবিএস ডাক্তার সেজে রোগী দেখছেন। সম্প্রতি র‌্যাবের চার অভিযানে গ্রেফতারকৃত চার ভুয়া ডাক্তারের চারজনই সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী দেখতেন।

এইচএসসি পাশ করে এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দিন রোগী দেখছিলেন সবুজ ইসলাম সরকার (৩৮)। এমন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। পরে এমবিবিএস ডিগ্রির কাগজপত্র দেখাতে বললে তা দেখাতে না পারাতে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, সবুজ ইসলাম সরকার নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তার দাবি করে আসছিলেন। বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক ডিগ্রী অর্জন করেছেন বলে জানালেও র‌্যাবের অভিযানে কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে ভুয়া ডাক্তার বলে স্বীকার করেন।

২০১৬ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকায় এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়ে মুক্তি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখা শুরু করেন সবুজ। পরে নিজেই হিরাঝিল এলাকার হাজী জামান মঞ্জিলের ৩য় তলায় সেবা মেডিকেল সেন্টার নামক একটি চেম্বার নিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন ২০১৮ সাল থেকে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকা থেকে আরো এক ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। নিউ মুক্তি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিজের নামের সঙ্গে মিলানো আরেক ডাক্তারের নাম ও রেজিস্ট্রেশন ন¤¦র ব্যবহার করে রোগী দেখতেন মোস্তাক আহম্মেদ করিম ওরফে এমএ করিম বশির (৪৩)।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, করিম পূর্বে একটি ফার্মেসিতে কাজ করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ফার্নিচারের ব্যবাস দেন। এই ব্যবসা বাদ দিয়ে পানি সাপ্লাইয়ের কাজও করেছেন তিনি। কিন্তু কোন কিছুতেই যখন কোন লাভ হচ্ছে না তখন সে ডাক্তার সেজে রোগী দেখা শুরু করে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মোস্তাক আহম্মেদের নাম ও বিএমএন্ডডিসি কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ১২ বছর যাবৎ রোগী দেখছিল সে। অথচ তার পড়াশোনা কেবল এইচএসসি পর্যন্ত।

গত ২৩ জুলাই এসএসসি পাশ করে নামের পাশে ডাক্তার লিখে ফার্মেসি চালানোর অপরাধে ভুঁয়া মো. ফারুক হোসেন ও তার জামাতা ইমরান হোসেনকে ১ মাসের কারাদ- ও ২০ হাজার জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাদ- প্রদান করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।

র‌্যাব জানায়, এসএসপি পাশ করে নামের পাশে ডাক্তার লিখে বহুদিন ধরেই চাঁদমারী মাউরা পট্টি এলাকায় ফার্মেসি চালিয়ে আসছিলেন ফারুক হোসেন। এর আগে তিনি ওই এলাকায় চায়ের দোকান চালাতেন। বর্তমানে তিনি একটি কোর্স করে ডাক্তার বনে গেছেন। তবে তার কোন ড্রাগ লাইসেন্স নেই। যে মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাগ লাইসেন্স ব্যবহার করা হচ্ছিল সেটিও জামাতা ইমরান হোসেনের নামে।

গত ৮ জুলাই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইলস্থ হীরাঝিলে অবস্থিত হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেট এর ৩য় তলায় পপুলার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ল্যাব পরিচালনা করে কামাল হোসেন (৪৩) ও মায়া বেগম (৩৬) দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১।

র‌্যাব জানায়, কামাল হোসেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মায়া বেগম চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় ২ বছর যাবৎ কোন সরকারি অনুমোদন না নিয়েই পপুলার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ল্যাব পরিচালনা করে আসছে। তাছাড়া তারা দীর্ঘদিন নিজেদেরকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে উক্ত হাসপাতালে নিয়মিত রোগীও দেখে এবং বিভিন্ন ডাক্তারের নামে ভুয়া প্যাথোলজিক্যাল ও আল্ট্রাসনো রিপোর্ট তৈরি করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরেও যত্রতত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জনের অনুমতিবিহীন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠেছে শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যেখানে ল্যাব পরীক্ষার নামে দিন দুপুরে চিকিৎসার নামে চলছে বাণিজ্য। ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে কর্মীরাই রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন বলেও রয়েছে অভিযোগ। স্থানীয় বেশির ভাগ বাজারে নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড টাঙিয়ে নিজেদের নামের আগে ডাক্তার উপাধি আর ডিপ্লোমা, প্যারামেডিক, এলএমএএফ, ডিএইসএস, শিশু বিশেষজ্ঞ, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শব্দ লাগিয়ে চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। রোগ মুক্তি তো দূরের কথা, এসব ভুয়া চিকিৎসকের ঔষধ খেয়ে নানা জটিলতায় ভুগছে হাজারো রোগী। এমন অবস্থায় শহরের দিকেও নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ