শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯

সিটি কর্পোরেশনের নামে সড়কে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজি

শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:০৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নামে ভুয়া টোল রশিদ তৈরি করে বন্দরের নবীগঞ্জ সড়কে প্রতি গাড়ি থেকে দৈনিক ৫০-১০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সূত্রমতে, এভাবে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয়। বেসরকারি একটি টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

নারায়ণগঞ্জ থেকে তুষার হিমু নামে এক ব্যক্তি ভুয়া রশিদের একটি ছবি তুলে জানান, প্রতিদিন এভাবে নবীগঞ্জের রাস্তায় সিটি কর্পোরেশনের নামে অবৈধভাবে টোল আদায় করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি টেলিভিশনের একটি টিম অনুসন্ধানে নামলে বেরিয়ে আসে নাসিকের নামে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজির ঘটনা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নবীগঞ্জ টেম্পু স্ট্যান্ডের জন্য প্রতি বছর ইজারা দেয়। ইজারায় সিএনজি চালিত অটো রিকশা, বেবি ট্যাক্সি এবং টেম্পুর জন্য শুধুমাত্র স্ট্যান্ডে পার্কিং বাবদ প্রতিদিন একবার ১৫ টাকা করে নেয়ার নিয়ম। কিন্তু ইজারাদার বাড়তি সুবিধার জন্য সিটি কর্পোরেশনের নামে ভুয়া রশিদ তৈরি করে এই রাস্তা ব্যবহারকারী সব ধরণের গাড়ি থেকে টোল আদায় করে। ওই রাস্তায় চলাচল করা সব ধরণের গাড়ি থেকে এই টোল আদায় করা হয়। টোল আদায়ের পরিমাণ ১৫ টাকা হলেও ভূয়া রশিদের মাধ্যমে ৫০-১০০ টাকা আদায় করা হয়। স্থানীয়দের হিসাবে এভাবে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয়। যার কোন বৈধতাই নেই। এই টাকা না দিলে গুন্ডা দিয়ে ট্রাক আটকে রেখে মালামাল রেখে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ ট্রাক চালকদের।

এক ট্রাক চালক বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে ৫০ টাকা নেয়। প্রতিদিনই এই টাকা নেয় তারা। টাকা না দিলে তো তারা যাইতে দেয় না, আটকে রাখে। ট্রাকের ওই চালক একটি রশিদও দেখান যেখানে সিটি কর্পোরেশনেরই নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নবীগঞ্জ সড়কের রাস্তায় প্রকাশ্যেই এক টোল আদায়কারীকে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজ হন না। টোলের টাকা ওঠানো ওই ব্যক্তি বলেন, কোন কিছু বলার থাকলে আমার ইজারাদারের সাথে কথা বলবেন।

ইজারাদার সোলায়মান হোসেন রানা বলেন, ১৫ টাকা করেই ওঠানো হয়। বাড়তি টাকা আদায় করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওগুলো সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সব গাড়ি থেকে টাকা নেয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু বাড়তি টাকা আদায়ের রশিদসহ প্রমানও পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, নাসিকের নামে ভুয়া রশিদ দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার অবৈধ টোল আদায় করা হয়। বছরে এর হিসাব মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ফেরিতে এক ট্রাক চালক বলেন, ৫০ টাকা করে প্রতিদিন নেয়। না দিয়ে তো ওদের সাথে পারা যাবে না। দশজনের যেই গতি আমাদেরও সেই গতি। এ সময় টাকা দেয়ার রশিদও দেখান তিনি।

আরেক ড্রাইভার বলেন, এদিকে দিছি পঞ্চাশ টাকা আবার আরেকটু পর ওইদিকে দিছি পঞ্চাশ টাকা। দুই রশিদই দেখান তিনি। দুটোতেই নাসিকের নাম লেখা। টাকা না দিলে এলাকার গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে গাড়ি আটকে মালামাল রেখে দেয় বলেও অভিযোগ করেন ওই চালক।

রশিদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজার কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামকে দেখানো হলে তিনি বলেন, আমি বেবি, টেম্পুর ইজারা দিয়েছি এবং সেখানে ১৫ টাকা করে নেয়ার নিয়ম। বাড়তি টাকা উনি (ইজারাদার) কেন নিচ্ছে সেটা উনি ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, তদন্ত করে যদি কাউকে দোষী পাওয়া যায় তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দেবো। যেহেতু আমরা জানি না কে টাকা নিচ্ছে সুতরাং আমি আমার ইজারাদারকে সতর্ক করে দিতে পারি। তাকে দোষী পাওয়া গেলে তার ইজারা বাতিল করা হবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ