সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মিলন গ্রেফতার

মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৫৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মিলন হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সাথে তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ওই নারীর গর্ভপাত ঘটানো ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আসামির বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে সোমবার রাতে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযুক্ত মিলন হোসেন সদর থানার সৈয়দপুর কড়ইতলা এলাকার মৃত আলী হোসেন বেপারীর ছেলে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, পূর্বে বিবাহিত থাকার পরেও দুইজনের সম্মতিতে গত ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল বিশ লাখ টাকা দেন মোহরে ইসলামী শরীয়ত মতে বাদী ও আসামির পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। দেনমোহর বিশ লাখ টাকা ধার্য হলেও প্রতারণার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা লিখে বাদীকে না জানিয়ে কাবিননামা তৈরি করেন আসামি মিলন হোসেন। এদিকে ২০১৭ সালে বাদী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান তার স্বামী মিলন। পরে আবারও তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে মিলন তাকে নিয়ে শহরের টোকিও প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতে থাকেন। এবারও গর্ভপাত ঘটাতে চাইলে বাদী অসম্মতি জানান এবং প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদ করলে বাদীর উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন মিলন এবং গর্ভপাত না ঘটালে তালাক দেওয়ার হুমকি দেন। পরে চলতি বছরের ১ এপ্রিল তালাকনামার একটি কপি দেখায় সেলিম এবং বলে সে বাদীকে তালাক দিয়েছেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, এমন অবস্থায় বাদী আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বাদীর বাসায় আসামি তাকে নানাভাবে ফুসলিয়ে আবারও বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। ওই রাতে বাদীর সাথে একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করেন আসামি। পরদিন হতে আবার বাদীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় আসামি। মোবাইলে যোগাযোগ করলে বাদীকে নানা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি প্রদান করেন। পরে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ, জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, আসামি মিলনের দ্বারা আরও একাধিক নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক নারীর সাথে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে তাদের বিয়ে করতে অসম্মতি জানায়। তদন্ত করে এসবের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর বলেন, সদর থানায় নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। পরে তাকে রাতে নিতাইগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ