সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯

সাদরিল নির্দোষ বলে দাবি সালমার পিতার

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ২২:৪৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

বামে সাদরিল ডানে আবদুল হাই

বামে সাদরিল ডানে আবদুল হাই

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: চাচাতো বোন সালমা বেগমের দাম্পত্য কলহের সুরাহা করতে কুমিল্লার সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ সেলিনা ইসলামকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়ে আসেন এমপির পিএস হাফেজ আহমেদ সোহেল। এ নিয়ে হৈ-চৈ শুরু হলে এলাকাবাসী জড়ো হন। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসেন নাসিক ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল। ঘটনাক্রমে সাদরিলকে এমপির গাড়ি ভাঙচুর ও এমপিকে লাঞ্চনার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। তবে সালমা বেগমের পিতা ও প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন এ ঘটনায় কাউন্সিলর সাদরিলের কোন হস্তক্ষেপ ছিল না। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়ারাও বলছেন একই কথা।

এদিকে বিগত সময়ে বিতর্ক থেকে দূরে থাকা বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের ছেলে সাদরিল হঠাৎ করেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনও করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি রয়েছেন কারাগারে।

ওই রাতের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সালমা আক্তারের পিতা মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, এমপির পিএস সোহেল আমার ভাতিজা হয়। আমার মেয়ের জামাই হাফেজ আহমেদ আমার ভাতিজার বন্ধুর ভাই। আমার মেয়ের সাথে জামাইয়ের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। এ বিষয়ে মিমাংসা করতে এমপিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আসে সোহেল। পরে সে উত্তেজিত হয়ে গিয়ে জামাইকে বিভিন্ন বিষয়ে শাসায় এবং চড়-থাপ্পর দেয়। এ ঘটনায় ভীত হয়ে আমার জামাই চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে। পরে লোকজন জড়ো হয়। এক পর্যায়ে এমপি ম্যাডাম সোহেলকে চুপ থাকতে বলে নিচে চলে যান। নিচে নেমে দেখি ম্যাডাম নাই। ওদিকে গাড়ির সামনের কাঁচ ভাঙা। পরে ম্যাডামকে নিচতলার একটি ঘরে পাই।

তিনি আরো বলেন, এমপি যে ফ্ল্যাটে ঢোকে আশ্রয় নেন আমি সেটিতে প্রবেশ করি। সামনের রুমটি ফাঁকা ভেতরের রুমে তিনি অবস্থান করছিলেন আর ফোনে কাউকে বলছিলেন এসব জামাত বিএনপির কাজ। তারা এসব করেছে। এখানকার কাউন্সিলর কোথায়, তাকে ডাকো, তাকে ডাকো বলে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে আমি আবার সামনের রুমে আসি, এসেই দেখি কাউন্সিলর সাদরিল এই রুমে। তিনি বিষয়টা কি জানতে আমাকে প্রশ্ন করেন। এর মধ্যেই থানা পুলিশ আসেন। এবং আমাদেরকে ওই রুমে আটকে রেখে এমপিকে বের করে নিয়ে যান। পরে পুলিশ আবারও এসে আমাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশও উপস্থিত হয়। পুলিশ আসার কিছুক্ষন আগে কাউন্সিলর সাদরিল আসেন। পরে পুলিশ এসে সবাইকে থানায় নিয়ে যায়। সকালে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিলেও আমার জামাই ও কাউন্সিলর সাদরিলসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, মিমাংসা করতে এসে আমার ভাতিজা আরো ঝামেলা সৃষ্টি করে দিয়ে গেলো।

এদিকে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এমপির পিএস হাফেজ আহমেদ সোহেল বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আমরা বোনের বাসায় যাই। সেখানে বোন জামাইকে বুঝিয়ে নেমে আসি। এর মধ্যে নিচে আসার পরে লোকজন আমাদের উপর হামলা করে। পরে আমি গুলশানের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছি।’

এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ্ পারভেজ জানান, এমপির গাড়ি ভাঙচুর ও তাকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে কাউন্সিলরসহ ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে এমপির পিএস বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে তাদের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়ের তদন্ত চলছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ