সোমবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

সাত মাস পর মাটি খুড়ে মিললো নিখোঁজ রং মিস্ত্রীর কঙ্কাল

শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সাত মাস পর খোঁজ মিললো লিটন মিয়া (৪৫) নামে এক রং মিস্ত্রীর। তবে জলজ্যান্ত নয়, মিললো তার কঙ্কাল। এমনই ঘটনা ঘটেছে রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকায়।

নিখোঁজের সাত মাস পর রঙ মিস্ত্রী লিটন মিয়ার কঙ্কাল উদ্ধার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চনপাড়া এলাকার সিটি গ্রুপের বালুর মাঠে বালু খুড়ে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

নিহত লিটন মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া গ্রামের সাহেদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় পুর্বগ্রাম এলাকায় ডকইয়ার্ডে রংমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করে করতেন।

রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দিন জানান, গত সাত মাস আগে লিটন মিয়া নিখোঁজ হয়েছে বলে একটি সাধারন ডায়েরি করেন লিটনের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার মুন্নি। পরে পুলিশ সন্দেহজনক ভাবে নিখোঁজ লিটনের শ্যালক শাকিল, মিলন, আলাউদ্দিন, তার সহযোগী রংয়ের ঠিকাদার মুসাসহ ছয় জনকে আটক করে। পরে আটকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে লিটন হত্যাকান্ডের রহস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। আর তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সন্ধ্যায় চনপাড়া এলাকার সিটি গ্রুপের বালুর মাঠে বালু খুড়ে কঙ্কাল উদ্ধার করে। তবে, হত্যাকান্ডের বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলেও জানান এসআই নাজিম।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লিটন মিয়া প্রায় এক যুগ পুর্বে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের সামসু মিয়ার মেয়ে রোকেয়া আক্তার মুন্নিকে বিয়ে করেন। লিটন মিয়ার শশুর সামসুর চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে একটি প্লট ছিলো। ওই প্লটের পাশেই খালি জমি ছিলো। জমি গুলো গভীর গর্ত ছিলো। ধীরে ধীরে গর্তগুলো বালু দিয়ে ভরাট করে চারটি প্লট নির্মাণ করে লিটন। প্রতিটি প্লট ১৮/২৪ ফুট প্রশস্থ। ডেমরা এলাকার কাইল্লা সিরাজ হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এই লিটন মিয়া। ওই মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ লিটনকে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এ সুযোগে লিটনের শ্বশুরসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন লিটনের ওই চারটি প্লট দখলে নিয়ে নেয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে লিটন তার চারটি প্লট শ্বশুরসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছে ফেরত চায় কিন্তু প্লট ফেরত না দিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করতে শুরু করে। ওই সময় লিটন ডকইয়ার্ডে রং মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করা শুরু করে। গত সাত মাস আগে লিটন মিয়া নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর লিটনের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার মুন্নি বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় সাধারন ডায়েরি করেন।

পরিবারের দাবি, প্লট দখলকে কেন্দ্র করেই শ্বশুরসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন লিটন মিয়াকে হত্যার পর গুম করে।

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, আটকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও খুজে বের করা হচ্ছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ