বুধবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

সাংবাদিক শুভ্র হত্যার দুই বছরেও থামেনি স্বজনদের কান্না

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: প্রিয় বন্ধুর নিরাপত্তার কথা ভেবে গভীর রাতে সেদিন বাসা থেকে বের হয়েছিলেন শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র। সে ভাবতেই পারেনি তার চিরচেনা এই শহরে প্রতিনিয়ত সমাজের ‘শুভ ভবিষ্যৎ’ কেড়ে নিতে ওৎ পেতে থাকে ‘অশুভ’ কিছু মানুষ। সেই মানুষগুলোর আঘাতেই দুই বছর আগে পৃথিবী ছাড়তে হয়েছিল শুভ্রকে। তার সেই প্রিয় বন্ধু এখনও বাস করেন ঢাকায়। উপর থেকে হয়তো শুভ্র সব দেখতে পায়। সেখান থেকে বন্ধুকে জানিয়ে দেয় কোন পথ মন্দ আর কোনটা শুভ।

২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লার লালপুরের বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয় শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র। সে সরকারি তোলারাম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও দৈনিক যুগের চিন্তার সংবাদ কর্মী ছিল। তার এক বন্ধু ঈদের ছুটি শেষে পার্বত্য এলাকা থেকে ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন ওই রাতে। শেষ রাতে কাক ডাকা ভোরে বন্ধুটি রাজধানীতে পৌছে নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারবেন কিনা, এই ভাবনায় পেয়েছিলো শুভ্রকে। তার উপর বন্ধুটি তরুণী হওয়ায় নানা আশঙ্কা ছিল তার মনে। প্রিয়বন্ধু যাতে কোন বিপদে না পড়ে সেজন্যই সেই রাতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সে। সাইনবোর্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিবু মার্কেট থেকে একটি সিএনজিতে উঠেছিল সে।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভুঁইগড়ের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর জামা কাপড় দেখে লাশটি শাহরিয়াজের বলে শনাক্ত করে তার বাবা মা।

দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুটি বছর। এখনো শুভ্র’র স্মৃতি হাতরে বেড়ায় তার প্রিয়জন। শুভ্রর বাবা-মার স্বপ্ন জোড়া চোখে এখন শুধু অশ্রু। আদরের ছোট ভাই শাফিন এখনো গভির রাতে বিছানা হাতড়ে বেড়ায় শুভ্র’র খোজে। ভাই পাগলি বোনটিও তার কথা ভেবে প্রায়ই মুখ লুকায় আচলে।

হত্যাকান্ডে জড়িত ৪ জন গ্রেপ্তার

এদিকে শুভ্র হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১২ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ইয়ামিন ওরফে আল আমিন, জালাল, জুয়েল ও রবিন। এই সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটো রিকশা, দুইটি ছুরি ও চারটি মোবাইল ফোন, শুভ্রর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

কেন ও কিভাবে হত্যা করা হয় শুভ্রকে

শুভ্র শুক্রবার ভোর রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট থেকে একটি সিএনজি চালিত অটো রিকশা যোগে রাজধানীর মিরপুরে যাচ্ছিলো। এ সময় ছিনতাইকারীরা যাত্রীবেশে ওই সিএনজিতে উঠে চলন্ত অবস্থায় শাহরিয়ারকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা শাহরিয়ারের হাত পা বেঁধে ও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে ভূঁইগড় এলাকায় রাস্তার পাশে খাদে ফেলে দেয়।

মামলার সর্বশেষ অবস্থা

শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র হত্যা ঘটনায় মামলা দায়েরের তিনদিন পর হত্যার সাথে জড়িত ৪ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুভ্র হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়ার আগেই মামলার আসামী আল আমিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জেল হাজতে মৃত্যুবরণ করে।

এ বছর ২৩ জুন (বুধবার) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ান মোহাম্মদ সফিউল্লাহর আদালতে শাহরিয়া শুভ্র হত্যার মামলার সাক্ষী গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে হত্যা মামলার বাদি শুভ্রর বাবা কামাল সিদ্দিকী আংশিক সাক্ষ্য প্রদান করা হয়।

শুভ্র হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জেলা আদালতের পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, ‘এই হত্যা মামলার আসামী ৩ জনই বর্তমানে হাজতে রয়েছে। হত্যার ২ বছর পর চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অগ্রগতি বলতে সাক্ষী গ্রহণ চলছে।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ