সোমবার ২০ আগস্ট, ২০১৮

সরেজমিন চারারগোপ: আম ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি নেই

শুক্রবার, ১৩ জুলাই ২০১৮, ১৯:০৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: লক্ষ্মণভোগ, আরাজনমা, আশ্বিনা, রূপালি, হাঁড়িভাঙ্গা, ফজলি, ফলি ফজলি, ল্যাংড়া, তোতামুখী, মোহনভোগ, দুধসড়, হিমসাগর, কোহিতুর, কৃষাণভোগ, গোবিন্দভোগ, রানী প্রসাধ নানা প্রজাতির আম। শহরের কালিবাজারের চারারগোপ ফলের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, নানা জাতের আমের বাহার। আমের ঘ্রানে চারদিক মৌ মৌ করছে। তবে এত আম থাকলেও ফল ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি নেই।

বাবুল খলিফা। চারারগোপের দীর্ঘদিনের আম ব্যবসায়ী। রাজশাহীর বাগা এলাকায় ১২ হাজার গাছের একটি বাগান কিনেছেন তিনি। তিনি প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এ বছরের জন্য ২৪ লক্ষ টাকা দিয়া বাগানটা কিনছি। চালানডাও মনে হয় উঠব না, যে অবস্থা। আমের ফলন তো অনেক ভালো হইছে, লাভ কি। আমের তো দাম নাই। গত বছর যে দামে বেচছি তার অর্ধেক দামে এবার বেচতাছি।

গতবছর ও এবছর আমের পাইকারী মূল্যের সাথে তুলনা করে দেখা যায় লক্ষণভোগ আমের পূর্ব মূল্য ৮০-৯০ টাকা কেজি যা এবার ২৫- ৩০ টাকা, আরাজনমা আমের পূর্ব মূল্য ৫০-৬০ টাকা কেজি যা এবার ৩০-৩৫ টাকা, রূপালি আমের পূর্ব মূল্য ৭০ টাকা কেজি যা এবার ৫০ টাকা, হাঁড়িভাঙ্গা আমের পূর্ব মূল্য ৭০ টাকা কেজি যা এবার ৫০ টাকা কেজি, ফজলি আমের পূর্ব মূল্য ৫০ টাকা কেজি যা এবার ৩০ টাকা, ফলি ফজলি আমের পূর্ব মূল্য ৪০টাকা কেজি, ল্যাংড়া আমের পূর্ব মূল্য ৫০-৬০ টাকা কেজি যা এবার ৩০-৩৫ টাকা, হিমসাগর আমের পূর্ব মূল্য ৫০ টাকা কেজি যা এবার ৪৫ টাকা, কোহিতুর আমের পূর্ব মূল্য ৮০-৯০ টাকা কেজি যা এবার ২০-২৫ টাকা। আবার কিছু জাতের আমের মূল্যে গত বছরের তুলনায় তেমন একটা পার্থক্য দেখা যায় না। তার মধ্যে রয়েছে গোবিন্দভোগ আম ৪০ টাকা কেজি , তোতামুখী আম ৩৫ টাকা কেজি, কৃষাণভোগ আম ৩০ টাকা কেজি , আশ্বিনা আম ১৮ কেজি , রানী প্রসাধ আম ৫০- ৬০ টাকা কেজি, মোহনভোগ আম ৩০ টাকা কেজি ও দুধসড় আম ৩০ টাকা কেজি। ফল ব্যবসায়ীরা জানান এই আমগুলোর বর্তমান মূল্যের সঙ্গে গত বছরের মূল্যের তেমন একটা পার্থক্য নেই।

অড়তের হৃদয় এন্টারপ্রাইজের মালিক আশিষ সাহা বলেন, ফলের বেপারীদের কাছে ভাড়া দেই দোকান। বেপারীরা তাদের লাভের উপর ১০% কমিশন দেয় আমারে। তাদেরই যেই বিক্রির অবস্থা আমারই এবার ২৪-২৫ লাখ টেকার লোকসান হইব।

রাজশাহী অঞ্চলের আমের বেপারী নজরুল ইসলাম। চারারগোপ ফলের আড়তে ভাড়া নিয়ে আম বিক্রি করছেন। আমের লোকসানের কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছর আমের ফলন হইছে অনেক। কিন্তু সরকার যে সময়ে আম পাড়ার কথা বলছে, ওই টাইমে (সময়ে) একবারে বেশিরভাগ আম বাজারে আসছে। আবার পাকা আম বেচতে না পাইরা নষ্ট হইয়া যাইতাছে। বাজারে কম দামেই আম ছাইড়া দিতাছে। এই কারণেরই আমের বাজারে পানির দাম চলতাছে। কিছু আমের বেচা শেষ। হিমসাগর, কৈতর, কৃষানভোগ, গোবিন্দভোগ, রানীপ্রসাদ এই আমগুলা মার্কেট থিকা আউট হইয়া গেছে।

সব খবর
অর্থনীতি বিভাগের সর্বশেষ