মঙ্গলবার ১৮ জুন, ২০১৯

সবজির দাম কমায় স্বস্তিতে নগরবাসী, কমেনি মাংসের দাম

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯, ১৮:৪১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ঈদ উপলক্ষে সকল নিত্য পণ্যের সাথে সবজিরও দাম বেড়ে যাওয়াতে অস্বস্তিতে ছিল নগরবাসী। তবে ঈদের পরপরই কমেছে মাছ, সবজিসহ নিত্য পণ্যের দাম। এতে স্বস্তি ফিরেছে বাজারে। কিন্তু এখনো মাংসের দাম রয়েছে বাড়তি। পূর্বের ন্যায় গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকা কেজিতে।

বুধবার (১২ জুন) নগরীর প্রধান কাঁচাবাজার দিগুবাবুর বাজার সরেজমিনে দেখা যায়, সবজিতে ভরপুর পুরো বাজার। পাওয়া যাচ্ছে প্রায় সকল সবজি। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর সকল সবজি ভালো সরবরাহ হয়েছে। ফলে বাজারে সবজির মজুদ রয়েছে বেশি। তাই দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে। তবে ঈদের এতদিনেও পুরোপুরি জমে উঠেনি বাজার। ক্রেতাদের অনুপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। যার ফলে অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায় বাজার এলাকা।

সবজির বাজারের শেষ তথ্য অনুযায়ী, সবুজ সবজির অধিকাংশই বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। আলু, পটল, কহি, লতি, ধূন্দল, শশা ও পেঁপে ২০ টাকা কেজি ও শাকের মধ্যে পুইশাক, লাল শাক ও লাউশাক ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাট শাক ১০ টাকা আটি, লেবু ১০ টাকা হালি, লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ভেন্ডি ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, ঝিঙা ৩০ টাকা কেজি।

অন্যদিকে দেশী পেয়াজ ১৫০ টাকা পাল্লা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা কেজি, ধনেপাতা ১৫০ টাকা কেজি, কাকরোল ৪০ টাকা কেজি, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুণ ৪০ টাকা ও গোল বেগুন ৫০ টাকা কেজি, কড়লা ৫০ টাকা কেজি এবং সাজনা ১০০ টাকা কেজি।

সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, ‘ঈদের দু’দিনের মাথায় দেশের অধিকাংশ জেলা থেকে সবজির ট্রাক আসে, ঈদের কারণে যে ট্রাকগুলো আটকে ছিল। ফলে সবজির মজুদ চাহিদার তুলনায় বেড়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে দাম কমে আসে।’

কমেছে মাছের দামও। সকল প্রকার মাছে কমেছে ৫০ থেকে ১শ’ টাকা। মাছের বাজারের শেষ তথ্যমতে, এক কেজির বড় ইলিশ ১৪শ’ টাকা, মাঝারি ইলিশ ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা, রুই মাছ ২২০ টাকা, আইড় ৬০০ টাকা, বড় পাবদা ৬০০ টাকা, ছোট পাবদা ৪০০ টাকা কেজি, কাতল ৪৫০ টাকা, দেশী কই ১ হাজার ৫শ টাকা কেজি, চাষের কই ৮০০ টাকা কেজি, নলা ২০০ টাকা কেজি, বড় চিংড়ি ১ হাজার ও ছোট চিংড়ি ১০০ টাকা ভাগা এবং গুড়া মাছ ১০০ টাকা ভাগা বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা মঙ্গল বর্মণ বলেন, ‘ঈদের পরপর সকল মাছের দাম কমে গেছে। ইলিশের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি। কেজি প্রতি কমেছে ৩০০ থেকে ৪ ০০ টাকা। অন্যান্য মাছের মূল্যও একইভাবে কমে এসছে তবে এখনো জমে উঠেনি বাজার। ক্রেতার সংখ্য তুলনামূলক কম।’

স্বর্ণা চাল ৩৩ টাকা কেজি, লতা চাল ৩৬ টাকা কেজি, মিনিকেট ৪৮ টাকা কেজি ও নাজিরসর ৫২ টাকা কেজি। দেশি মুসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি, ইন্ডিয়ান মুসুর ডাল ৬৫ টাকা কেজি এবং বিদেশী উন্নত জাতের মুসুর ডাল ১১২ টাকা কেজি, খেসারি ৫২ টাকা ও মুগ ডাল ১১৫ টাকা কেজি।

ঈদ চলে গেলেও কমেনি গরুর মাংসের দাম। ঈদের মতো এখনো ৬০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে বাকি মাংসের দাম। লেয়ার মুরগি ১৪০ টাকা কেজি, বয়লা মুরগি ১৩০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি মুরগি ২২০ টাকা কেজি। খাসি ৭৫০ টাকা কেজি, বরকি ৬০০ টাকা কেজি।

মাংস বিক্রেতারা মূল্য বেশির রাখার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, মাংসের দাম আগের মতই রয়েছে। গরুর মাংসের মূল্য ৬০০ টাকা রাখার কথা স্বীকার না করলেও ৫৫০ টাকা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন অনেকে। তবে ক্রেতারা বলছেন, কেজিতে ৬০০ টাকাই রাখা হচ্ছে।

সব খবর
অর্থনীতি বিভাগের সর্বশেষ