মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯

সন্তান নিখোঁজ, মামলা করে ঘরছাড়া বাদীর পরিবার

বুধবার, ১০ জুলাই ২০১৯, ১২:৩০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে নিখোঁজ সন্তানের সন্ধানে আদালতের দারস্থ হয়ে এখন হুমকির মুখে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা। গেলো জুন মাসের ২ তারিখে আড়াইহাজারের স্থানীয় গির্দা এলাকায় উপর্যুপরি মারধর করে আল-আমিন নামে এক যুবককে রাতের আঁধারে সিএনজিতে কোথায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি।

ঘটনার পর এক মাসেরও বেশী সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশও তার কোনো সন্ধান দিতে পারছে না। এ ঘটনায় ওই যুবকের মা মমতাজ বেগমের অভিযোগ থানায় গ্রহণ না করায় তিনি শেষ পর্যন্ত আদালতের দারস্থ হয়েছেন। বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ‘গ’ অঞ্চল আদালতে একটি মামলা করেছেন।

মামলায় স্থানীয় গির্দা এলাকার মৃত ফজলুল হকের ছেলে আ. রব ও মোশারফসহ ১০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সিআর নং- ১৪৮/১৯ইং। তদন্তে দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই আতাউর রহমানকে। তবে মামলার আসামি পক্ষ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক হওয়ায় মামলার তদন্ত নানাভাবে বাধার সম্মুখিন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মামলার তদন্তে অগ্রগতি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে মামলার বাদী।

অভিযোগ উঠেছে আসামি পক্ষের হুকমী-ধমকির কারণে এরই মধ্যে বাড়ি থেকে বাদী স্বপরিবারে অন্যত্র চলে গেছেন। তার ৯ শতাংশের বসত ভিটায় ঝুলছে তালা। স্থানীয়দের মধ্যেও কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হচ্ছে না। ওই রাতের ঘটনার পর থেকে এলাকায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে। কেউ কারোর সঙ্গে কথা বলছে না।

নিখোঁজ আল-আমিনের স্ত্রী মাসুদা মুঠোফোনে বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমার স্বামী আল-আমিনকে হত্যা করে গুম করা হয়েছে। এখন পুলিশই আমাদের শেষ ভরসা।

মাসুদা বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতে বাড়িতে একটি কক্ষে আগুন দিয়ে ঘরের লেপতোষকসহ আসবাবপত্র পুড়িয়ে দিয়েছে। প্রাণ ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

এ ব্যাপারে কেউ কথা বলতে কেউ সাহস পাচ্ছে না। মামলার বিবরণ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, জুন মাসের ২ তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় গির্দা এলাকার মিজানের ছেলে আল-আমিন বাড়ির বাইরে বের হয়। আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা মামলার বিবাদীগংয়েরা তাকে উপর্যুপরি মারধর করে। পরে বাদীর ঘর তালা বদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে আল-আমিনকে তারা একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। পরে সে আর বাড়িতে ফিরেনি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদিপক্ষের সঙ্গে আসামিদের বসত ভিটা নিয়ে আগে থেকেই তার বিরোধ চলে আসছিল। সে দীর্ঘদিন ধরেই এটি বেদখলের চেষ্টা করে আসছিল। তারা বিভিন্ন সময় খুন ও গুমের হুমকিও দিয়ে আসছিল। মাঝে মধ্যে তারা অস্ত্র নিয়ে বাড়ির আশপাশে মহড়াও দিতো।

এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার এসআই আতাউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাগ্যে কি ঘটেছে এখানো তা বলা যাচ্ছে না।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ