সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯

সন্তানকে বাঁচাতে এক বৃদ্ধ মায়ের আর্তনাদ

রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ১৩:৫৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

মাঈসা খানম দিয়া: একটা পরিচিত মুখ, হাস্যোজ্জ্বল একটা মানুষ। গ্রামে তার ৫ বছর বয়সের ছোট্ট ছেলে বাচ্চাটিকে কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে মেঠো পথে। বাবার কাঁধে চড়ে বেড়ানো এই বাচ্চাটি পিতৃহীন হয়ে বেচেঁ থাকতে হবে কিনা তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। মায়ের মন যে মানে না। অভাগিনী বৃদ্ধ মাকে ছেলের লাশ দেখে বাকী জীবনটা চোখের জলে ভাসাতে হবে কিনা তাও জানেন মহান আল্লাহপাক। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান তারিফ চৌধুরী। পিতা মৃত অহিদ চৌধুরী। বিক্রমপুরের রক্ষিত পাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি।

গত ১০ মে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিক্সার দূর্ঘটনায় তার জীবনের গল্পটা শেষ হবার পথে। মারাত্মকভাবে আহত হয়ে সে এখন সাইনবোর্ড এলাকার প্রো একটিভ মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার বৃদ্ধ মায়ের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় এ পর্যন্ত তার চিকিৎসা ব্যয় চলছে। কিন্তু স্বজনদের দেয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতাতেও তার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এক বৃদ্ধ অসহায় মায়ের আর্তনাদে প্রতিদিনই প্রো একটিভ মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। একজন অসহায় মা তার একমাত্র পূত্র সন্তানকে বাঁচাতে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করছেন।

একটি দূর্ঘটনা যেন একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না না হয়ে থাকে সেজন্য পবিত্র এই রমজান সবাই একটু দোয়া করি। এমতাবস্থায়ে আসুন একজন মায়ের বুক ফাটা আর্তনাদকে সম্মান জানিয়ে আমরা যে যা পারি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসি।

আপনাদের সাহায্য বাঁচাতে পারে একটি ছেলেকে। থামাতে পারে একজন অসহায় বৃদ্ধ মায়ের অবিরাম কান্না। সবার সহযোগিতায় একজন মায়ের বুকে ফিরে আসতে পারে একজন মুর্মুর্ষ ছেলে। হয়তো ৫ বছর বয়সের বাচ্চাটি ফিরে পেতে পারে তার বাবাকে। সকলের কাছে বিনীত আবেদন তারিফ চৌধুরীকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। যার যা সামর্থ আছে তা দিয়েই সাহায্য করুন। যাকাতের একটা অংশও দিতে পারেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে আহত স্ত্রী শীলা বেগমের একটি বিকাশ নাম্বার দেয়া হয়েছে। আপনারা এই বিকাশ নাম্বারে (০১৭২০৩৩৯৩৮০) আপনাদের সামথ্য অনুযায়ী অর্থ পাঠাতে পারেন। অথবা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডট নেট এর প্রকাশক ও সম্পাদক আবু সাউদ মাসুদের মোবাইল (০১৭১১৫৩৬৯৬৬) ফোনে যোগাযোগ করে পরিবারের কাছে সরাসরি আপনার অর্থ দান করতে পারেন। সকলকে এ মানবতার আবেদনে সাড়া দেবার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

মুর্মূর্ষ তারিফ চৌধুরী ভালবেসে বিয়ে করেছেন শীলা বেগমকে। ইতোমধ্যে তার একটি ছেলে সন্তান তাসরিফ চৌধুরী জন্মেছে। তার বয়স ৫ বছর। প্রো একটিভ মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে সাংবাদিকদের সংগে আলাপকালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্ত্রী শীলা।
শীলা কাঁদতে কাঁদতে সংবাদকর্মীদের অনেকেরই পায়ে লুটে পড়ছেন আর শুধু সাহায্য চাইছেন। প্রেম করে বিয়ে করা অসহায় এই গৃহবধুর ভালবাসার মানুষটিকে বাঁচাতে চান তিনি। তারিফের বিদ্ধা মা দোলনা বেগমও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পাগলিনী মা দোলনার কান্নায় হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে উঠে। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরাও তাদের অনবরত কান্নায় আবেগাপ্লুত হয়ে উঠেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ