বুধবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

সদর উপজেলা: ঘুরছে ফ্যান, বাজছে টেলিফোন, নেই কর্মকর্তা

বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর রয়েছে। দপ্তরগুলোতে কাজ চলার কথা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা। কিন্তু দুপুর ২টার মধ্যেই উপজেলার শিক্ষা দপ্তর ,স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর, কৃষি দপ্তর, মৎস দপ্তর, প্রানী সম্পদ দপ্তর , যুব উন্নয়ন দপ্তর এই ৬টি গুরুত্বপূর্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তাদের চেয়ার ফাঁকা হয়ে যায়। কোন কর্মকর্তার কক্ষে তালা, আবার কারো ফাঁকা কক্ষে চলছে ফ্যান, বাজছে টেলিফোন।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। আরো দেখা যায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মনিরুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ চৌধুরী মোহাম্মদ ইকবাল বাহার, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল গাফফার, উপজেলার মৎস অফিসার মোহাম্মদ মামুন অর রশিদ চৌধুরী, উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নারায়ণ চন্দ্র সরকার, উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই ৬টি পদের প্রধান কর্মকর্তারা অফিসে নেই। সকলের অফিস কক্ষেই তাদের সিট খালি। ঘড়ির কাটায় তখন ১টা। কর্মকর্তারা নামাজ পরার জন্য মসজিদে যান। আধাঘন্টা পর দেড়টা বাজার সাথে সাথেই যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহন শুরু। ২টার পরেই এক এক করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা শুরু হন। কর্মকর্তাদের যাওয়ার কিছুক্ষন পরেই এক এক করেই কর্মচারীদের যাওয়া শুরু হয়। তবে কয়েকটা বিভাগে কিছু কর্মচারী বসে থাকে সময় শেষ হওয়ার অপেক্ষায়। সময়ের পূর্বেই সদর উপজেলা কার্যালয়ে সেবা প্রদানের সেবার সীমা শেষ।

ব্যাতিক্রম দেখা যায় তথ্য প্রযুক্তি কার্যালয় ও উপজেলার টিকাদান কেন্দ্রে। জেলার তথ্য প্রযুক্তি কার্যালয় পুরোপুরি বন্ধ। সকালেও বন্ধ দেখা যায়। এছাড়া টিকা কেন্দ্রের কার্যক্রম ১টার পরেই শেষ। পুরোপরি ফাঁকা টীকা কেন্দ্র।

সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সাহায্য সহযোগিতার জন্য আসে। কিন্তু সময়ের পূর্বে সেবা বন্ধ হওয়ার কারণে উপজেলাবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হন। নয়ত পড়তে হয় ভোগান্তিতে। এরূপই ভোগান্তির শিকার ৫৫ বছর বয়সী নারী আলেয়া বানু। শিবু মার্কেট সস্তাপুর এলাকাবাসী। চোখে ছানি পড়েছে তার। এলাকায় মাইকিং এ শুনেছেন। উপজেলায় ভাল ডাক্তার বসবে। ডাক্তার কখন, কোথায় বসবেন এইসকল বিষয় সম্পর্কে জানতে এসেছেন। কিন্তু এসে দেখেন স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের সকল কক্ষ বন্ধ। অন্য বিভাগের একজন কর্মীকে প্রশ্ন করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, কথা বলতে সকালে আসবেন। ১টার আগে আসবেন। আলেয়া বানুর যাওয়ার সময় প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলায় ভাল ডাক্তার বসব শুনছি, মাইকিং করছিল আমাগো এলাকায়। ভাল ডাক্তার, ফ্রিতে দেখাইবো। এই চিন্তা কইরা সবকিছু জানতে আইছিলাম।

উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, সামনে নির্বাচন তাই নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ চলছে। এই মুহুর্তে অনেক কাজ। তবে অনেক কাজ থাকার পরেও অফিসাররা অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই উধাও।

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা বেগমের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে এই বছর ৩১ মে একই ঘটনায় তিনি প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেছিলেন, আমি এ বিষয়ে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করব। সময়ের আগে একজন অফিসার কখনোই না বলে যাওয়ার অধিকার রাখে না। এর উপর অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবং পরবর্তীতে এ ধরনের কিছু হলে আমি লিখিতভাবে তাদের নির্দেশনা দিব। আমি নিজেও ডিসি সাহেবের অনুমতি ছাড়া সময়ের পূর্বে অফিস থেকে বের হই না। নিয়ম সবার জন্য সমান। এ বিষয়ে আমি দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহন করব।

কিন্তু এর পরেও উপজেলার অফিসারদের অফিস সময়ে হয়নি কোন ধরনের পরিবর্তন। উপজেলার অফিসারদের নিয়ম বহিভূত অফিসে আসা যাওয়াই হয়ে দাড়িয়েছে এখন নিয়ম।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ