মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯

সংস্কারবাদীদের ষড়যন্ত্রে অসময়ে চলে গেছেন জাহাঙ্গীর ভাই: খোরশেদ

রবিবার, ৯ জুন ২০১৯, ১৬:০১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বিএনপিতে আমার দুই যুগের রাজনৈতিক জীবনের অভিভাবক ও শিক্ষকের নাম মরহুম আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম। ১০ জুন তার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী অবস্থায় সংবাদ পাই জাহাঙ্গীর ভাই ইন্তেকাল করেছেনে। গত এক যুগে যার সর্ব কাজে সঙ্গী ছিলাম, তার শেষ বিদায়ে উপস্থিত হতে না পারার কষ্ট এখনো আমাকে পীড়িত করে। জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মৃত্যুর প্রায় এক মাস পরে কারামুক্ত হয়ে তার কবর জেয়ারত ও তার বাসায় গিয়ে পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করি। 

আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম ভাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক থাকাকালীন সময়ে আমাকে যুবদলের একজন কর্মী হিসাবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক সুযোগ করে দেন। তখন থেকে ভাইয়ের সাথে ছায়াসঙ্গী হয়ে পথ চলা শুরু। পর্যায়ক্রমে তার সাথে সখ্যতা ও গুরু শিষ্যের সর্ম্পক। তথাকথিত ১/১১ এর সময় বৈরি রাজনৈতিক সময়ে জাহাঙ্গীর ভাইকে সভাপতি ও আমাকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

জাহাঙ্গীর ভাই ছিলেন কর্মী বান্ধব ও সংগঠন প্রিয় নেতা। আমার প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস, ভালোবাসা ও প্রেরণায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলকে সারাদেশের মধ্যে আলোচিত অঙ্গসংগঠনে পরিনত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে আমি নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদ্য সভাপতি নির্বাচিত হতে পেরেছি। জাহাঙ্গীর ভাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি থাকাকালীনই ২০১০ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জাহাঙ্গীর ভাইকে দূর থেকে অনেক রাগী ও মেজাজী মানুষ মনে হলেও তিনি ছিলেন কোমল হৃদয়ের অধিকারী। তিনি ছিলেন কর্মী বান্ধব ও সংগঠন প্রিয় মানুষ। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে দামী পোশাক ও খাবারের প্রতি দূর্বল ছিলেন। জাহাঙ্গীর ভাইয়ের সাথে আমি ঢাকার অনেক নামী-দামী হোটেলে ও অনেক জায়গায় ঘুরেছি। ঢাকা শহরে তার অনেক নামী-দামী বন্ধু বান্ধব দেখেছি। তার সবচেয়ে ভাল যে গুনটি আমাকে বেশি মোহিত করেছে তা তার সময়ানুবর্তিতা। তিনি যে কোন কর্মসূচির ঘোষিত সময়ের আধা ঘন্টা পূর্বে চলে আসতেন। কোনদিন কোথাও ৫ মিনিট দেরি করতে দেখি নাই। রাজনৈতিক জীবনের বাইরেও তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও বাংলাদেশের গুরুপূর্ণ ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের কয়েকবারের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

আমি অনেক সময় ব্যয়বহুল ও ঝুকিপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করলে অনেক সিনিয়র নেতারাই দ্বিমত পোষন করলেও জাহাঙ্গীর ভাই কোনদিন না করতেন না। তিনি জানে-মালে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। শুধু যুবদল বা বিএনপিই নয়, প্রত্যেকটি অঙ্গসংগঠনের জন্যই তিনি ছিলেন অভিভাবক। বিশেষ করে শ্রমিকদল ও মহিলাদলের সকল কর্মকান্ড ছিল তাকে ঘিরেই। তার আরেকটি বিষয় আমাকে শিক্ষা দিয়েছে যাকে মানবে তাকে সব দিয়ে মানতে হবে। তিনি তৈমূর আলমের প্রতি কতটুকু অনুগত ছিলেন তা লিখে বুঝানো সম্ভব নয়।

দুই.

২০১৫ সালের ১৫ই অক্টোবর ১৩টি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে জাহাঙ্গীর ভাই ও আমিসহ ১২ জন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মী নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পন করে কারাগারে যাই। কারাগারে প্রায় তিন মাস আমরা একসাথে ছিলাম। কারাগারে থাকাকালীন সময়ে তিনি ডায়বেটিকস, কিডনি, হার্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে খুবই অসুস্থ হয়ে পরেন। তখন তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মাধ্যমে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিলো। এরপর আর তিনি পুরোপুরি সুস্থ হন নাই। 

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে একমাত্র অঙ্গসংগঠন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল যার প্রত্যেকটি ওয়ার্ড-ইউনিয়নের কমিটি সম্মেলন বা কর্মী সভার মাধ্যমে গঠন করেছিলেন জাহাঙ্গীর ভাই। যার ধারাবাহিকতা এখনো চালু রাখতে পেরেছি তার শিষ্য হিসাবে।

সরকারের রোষানলে পরে বারবার কারাবরণ ও নিজ দলের কিছু সুবিধাবাদী তথাকথিত ক্লিনম্যান খ্যাত সংস্কারবাদীদের সাংগঠনিক ষড়যন্ত্রের ফলে মন পীড়াই তার অসুস্থ্যতা ও অসময়ে চলে যাওয়ার প্রধান কারণ। এর আগেও সুবিধাবাদী তথাকথিত ক্লিনম্যান খ্যাত সংস্কারবাদীদের সাংগঠনিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম কমিশনার। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তাকে প্রশাসন নানাভাবে অপদস্থ করেও দল বিমুখ করতে পারেনি। বিনা কারণে তার বসতবাড়ি কয়েকদফা ভাঙচুর করেও তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। পেশী শক্তির মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এশোসিয়েশন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিলো।

জাহাঙ্গীর ভাই সরকারের রোষানলে ও নিজ দলের কিছু সুবিধাবাদী তথাকথিত ক্লিনম্যান খ্যাত সংস্কারবাদীদের সাংগঠনিক ষড়যন্ত্র কষ্ট বুকে নিয়ে চলে গেছেন অসময়ে। তার এই চলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে কোনদিন পূরণ হবে না। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা, বিশেষ করে আমি হারিয়েছি আমার প্রিয় অভিভাবক। যার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আমার এতদূর পথ চলা। যতদিন বেচে থাকি, যতদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকি, ততদিন জাহাঙ্গীর ভাইয়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে কর্মী বান্ধব রাজনীতি করবো ইনশাল্লাহ।

মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে কামনা করি আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাত দান করেন।

লেখক- মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল

সব খবর
মতামত বিভাগের সর্বশেষ