রবিবার ১৯ মে, ২০১৯

সংঘর্ষের ঘটনায় কাউন্সিলর কবিরের সংবাদ সম্মেলন

মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সম্প্রতি নিতাইগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাসিক ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর সমর্থকদের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাউন্সিলর কবির হোসাইন।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৭টায় নিতাইগঞ্জের নিজ বাসায় এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার কাছে দক্ষিন নলুয়াপাড়া জামে মসজিদ ও দক্ষিন নলুয়াপাড়া ইসলামিয়া সুন্নি মাদরাসার আয় ব্যয়ের হিসেব চেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসাইন।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলর কবির বলেন, আমার এবং আমার লোকেদের উপর হামলা করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে কিন্তু এর বিচার আমি চাই না। আমি কেবল মসজিদ ও মাদরাসার আয় ব্যয়ের হিসেব চাই। গত তিন বছরে সাংসদ সেলিম ওসমান, অন্যান্য দাতা ও এলাকাবাসীর দানে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকা জমা পড়েছে মসজিদের ফান্ডে। কিন্তু তার কোন হিসেব দিতে রাজি নন সাবেক কাউন্সিলর ও জোর করে মসজিদ কমিটির সভাপতির পদে থাকা কামরুল হাসান মুন্না। আমি আমার এলাকার সাংসদ সেলিম ওসমান, দলীয় সাংসদ শামীম ওসমান, জেলার এসপি ও ডিসির হস্তক্ষেপে এই মসজিদ ও মাদরাসা কমিটির আয় ব্যয়ের হিসাব দাবি করছি।

সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগে বেশ কয়েকবার সাবেক কাউন্সিলরের কাছে মসজিদের হিসাব চাওয়া হয়েছে কিন্তু সে হিসাব দেয় নাই। পরে মসজিদ কমিটি ঘটনার দিন মসজিদের ভেতর মিটিং ডাকে। মসজিদের কমিটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী ফালু এলাকার কাউন্সিলর হিসেবে আমাকে মসজিদে উপস্থিত থাকতে বলেন। তার অনুরোধে আমি উপস্থিত ছিলাম। মূলত ওই হিসাব চাওয়ার জের ধরেই এই হামলা চালিয়েছে কামরুল হাসান মুন্না।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কলটি বারবার কেটে দেন।

প্রসঙ্গত, রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিতাইগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার কামরুল হাসান মুন্না ও বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে গভীর রাতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় এশার নামাজের পর শহরের নলুয়া এলাকার জামে মসজিদে উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার কামরুল হাসান মুন্নার সভাপতিত্বে মসজিদ কমিটির মিটিং চলাকালীন সময় জনৈক টিপু (৩৫) কাউন্সিলের নিকট মসজিদের হিসাব নিকাশ চাইলে কাউন্সিলর উত্তেজিত হয়ে অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় টিপুকে ঘাড় ধরে মসজিদ থেকে বের করে দেয়।

টিপু মসজিদের বাহিরে এসে তার পক্ষের লোকজনদের একত্রিত করে এবং কাউন্সিলর কবির হোসেনকে সংবাদ দেয়। এমতাবস্থায় মুন্না কমিশনারের ভাই রাজিবুল হাসান রানা (৩৮) তার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। তাৎক্ষণিকভাবে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এর জের ধরে রাত অনুমান ১টায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয়পক্ষে অর্থাৎ কমিশনার কামরুল হাসান মুন্না ও কাউন্সিলর কবির হোসেনের সমর্থিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর হামলা করে।

এ ঘটনায় সদর থানা পুলিশ সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায়। পরে দুই পক্ষই আদালতে আপোষ আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরসহ ২২ জন জামিনে মুক্ত হয়ে আসেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ