বুধবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

‘শিল্পী অমল আকাশ আমার কাছে অনেক বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক’

রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:৫৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: “অমল আকাশের মধ্যে একধরণের অস্থিরতা আছে। সেই অস্থিরতার ব্যক্তি অমলকে ছাড়িয়ে, একজন শিল্পী অমল আকাশ আমার কাছে অনেক বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক। শিল্পীর এই অস্থিরতা অনেক চ্যালেঞ্জিং, অমল সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে জানে। আর নিতে জানে বলেই- ওকে পাওয়া যায় শিল্পের নানান মাধ্যমে।

অমল গান লেখে, সুর করে, গায়, অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলেও ধারণা করি- সমগীত বেঁচে থাকবে এই গানের প্রাণ ভোমরাকে ধারণ করেই।”

সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী অমল আকাশের জন্মদিনে এভাবেই নিজের ফেইসবুক ওয়ালে লিখেছেন ছাড়াকার আহমেদ বাবলু।

২৮ অক্টোবর শিল্পী অমল আকাশের ৪৩ তম জন্মদিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলার ২নং ঢাকেশ্বরীতে জন্মগ্রহণ করেন গুনী এই শিল্পী। সেখানে শৈশব কাটলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ শহরে। বাবা হরিদাস দাস ছিলেন পেশায় অলঙ্কার শিল্পী। মা মায়ারানী দাস। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের মনসা পুরাণ পাঠের বয়োজেষ্ঠ্য শিল্পী।

বাবা মায়ের শৈল্পিক গুণের ধারা তার মধ্যে বহমান। সেই ধারাকে তিনি তার চিন্তা চেতনা দিয়ে কাজে লাগিয়েছেন সমাজের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সংগ্রামের পক্ষে- গান- নাটক- চিত্রকর্ম ইত্যাদির মাধ্যমে।

ছেলেবেলো থেকে বই প্রেমী এই শিল্পী কেবল বই পাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। কঠিন অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে একাধারে হয়ে উঠেছেন সুরকার, গীতিকার, গায়ক, সংগঠক, অভিনেতা, চিত্রশিল্পী ও গল্পকার।

অন্যান্য শিল্পীদের থেকে তিনি আলাদা তার রাজনৈতিক সচেতনতা ও গণমানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতার কারনে। তিনি বাংলা গণসংগীতের ধারায় যুক্ত করেছেন বর্তমান সময়ের বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুর বিভিন্ন ঘটনার প্রতিক্রিয়া। তৈরি করেছেন অসংখ্য গান। যা মানুষের লড়াই সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনের রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা।

এছাড়াও যৌন নির্যাতন বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধীতা আন্দোলনসহ সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এদেশের প্রতিটি গণ আন্দোলনে তিনি তার শিল্পকর্ম নিয়ে সক্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

চিত্রশিল্পী হিসেবেও রয়েছে তার পরিচিতি। অমল আকাশের চিত্র শিল্প নিয়ে আহমেদ বাবলু লিখেছেন, “চিত্রশিল্পে অমল আকাশের একটা সিগনেচার টোন আছে। ছবি দেখলেই বোঝা যাবে এটা এই শিল্পীর আঁকা। ছবি ভালো বা খারাপের আলাপ জারি রেখেও বলা যায় এটা অনেক বড় শিল্পীর কাজ। শিল্পে নিজস্বতার দাগ রেখে যাওয়া। ছবি আঁকতে আঁকতে অমলের ভেতরে বাস করা শিল্পীর অস্থিরতা কখনো কখনো হাত বাড়ায় ভাস্কর্যের দিকেও। ওর বাড়িতে গেলে মাঝেই মাঝেই হাতুড়ী বাটালির ঠুক ঠাক শব্দ শিল্পীর অস্থিরতাকে অনুবাদ করতে থাকে “

২০০২ সালে তিনি সহ কয়েকজন বন্ধু মিলে গড়ে তোলেন ‘সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাছাড়াও এই শিল্পী শহরের বেইলী স্কুল এ শিক্ষকতা এবং চেঞ্জেস স্কুলের সাংস্কৃতিক বিভাগের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন দাগ আর্ট স্টেশনের । তার আগে সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ।

এই শিল্পীর অসংখ্য কর্মের মধ্যে অন্যতম তার গান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলো-‘হাওয়া এসে দোলে দোলে যায়, ফুলবাড়ি, গো ব্যাক গেট আউট ইন্ডিয়া, ছিঃ ছিঃ আমেরিকা, বন্ধুগো ডাকছি তোমায়, ক্রসফায়ার, এই বুটের লাথি আর উচানো লাঠি কিংবা বুলেটের নিশানা, ঝর্ণার ছন্দে, ঘুম ভাঙ্গার গান, বাংলা আমার মা, রোদের হাট, টিটিটি টিয়া, জলপবনের নাও ইত্যাদি।

অমল আকাশকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে  শিল্পী কফিল আহমেদ লেখেন, জন্মদিনের শুভেচ্ছা অমল! দিনটাতে বিশেষ করে আমাদের মাসি মা, আপনার মায়ের কথাটা আরো বেশি করে মনে আসছে Amal Akash. আমাদের এই গানের জীবনে কতো নিবিড়ভাবেই না আজোবধি জড়িয়ে আছেন তিনি!
আপনার জন্মদিনে আমাদের প্রিয় মাসিমাকে শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা এবং ভালবাসা অন্তরের! আরো অনেকদিন যেনো আমাদের মাঝে পাই মাসিমাকে!

সব খবর
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের সর্বশেষ