বুধবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

শিক্ষা দিবসে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মিছিল ও সমাবেশ

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ ও নারায়ণগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সমাবশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শহিদ মিনারে বেলা ১১ টায় শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ছাত্র ফ্রন্টের এই সমাবেশ ও শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের পূর্বে ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলার সহ সভাপতি জেসমিন আক্তার, অর্থ সম্পাদক মুন্নি সরদার, নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার আহ্বায়ক রায়হান শরীফ, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ শাখার সভাপতি সানজিদা শান্তসহ নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দরা বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষার সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছিল মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ নাম না জানা আরও অনেকে। সেই থেকে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ এই দিনটাকে শিক্ষা দিবস হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে। ১৯৬২ থেকে ২০১৯ সাল। সময় গড়িয়েছে ৫৭ বছর। কিন্তু স্বাধীনদেশের শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষাসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গী বদলায়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রণীত বিভিন্ন সময়ে শিক্ষানীতি পর্যলোচনা করলে এ চিত্র দেখা যাবে।

তারা আরও বলেন, ১৯৭২ সালের ড. কুদরত-ই খুদার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। শিক্ষানীতির শুরুতে কিছু ভালো কথা থাকলেও শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি একই থেকে যায়। সেখানেও শিক্ষা সম্পর্কিত বক্তব্য ছিল- ’শিল্পে মূলধন বিনিয়োগকে আমরা যে নজরে দেখি অনেকটা সেই নজরে শিক্ষা বাবদ অর্থ ব্যয়কে দেখার যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয়। মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষা সম্পর্কে আমরা সুপারিশ করি যে, এর ব্যয়ের শতকরা ৫০ ভাগ ছাত্র বেতন হতে আদায় করা হোক এবং অন্যান্য উৎস থেকে যা পাওয়া যাবে তা সহ সরকার বাকি ৫০ ভাগ বহন করুক।’ অর্থাৎ শিক্ষাকে ক্রমাগত ব্যয় বহুল ও সংকুচিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই শিক্ষানীতি তৈরী করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা সংকোচনের এই দৃষ্টিভঙ্গীতেই শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হয়, যার ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান। এর সাথে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে শিক্ষা বাণিজ্যের নতুন নতুন নমুনা। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সকল ক্ষেত্রেই চলছে কোচিং এর রমরমা ব্যবসা। স্কুল যেন সাইনবোর্ড, কোচিং হচ্ছে পাঠদানের প্রধান ক্ষেত্র। কোচিং ব্যবসা, গাইড বই, ডোনেশন-ভর্তি বাণিজ্য, প্রশ্নফাঁসে বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশের উচ্চ শিক্ষার প্রধান স্তর- মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং এমনকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার খরচ বেড়েই চলেছে। যেখানে সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর। এখানে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু এখানে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি। নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি করেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ