মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর, ২০১৯

শামীম ওসমান ও আইভী বিরোধ: নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি

বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৪৮

বিভুরঞ্জন সরকার

নারায়্ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সুস্থ হয়ে এখন তিনি তার প্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে ফিরে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি বিশেষ অবস্থা বিরাজ করছে। সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীকে ঘিরে আওয়ামী লীগের যে দু’টি বলয় তৈরি হয়েছে, তারা মাঝে-মধ্যেই শক্তি পরীক্ষায় নেমে দলের ও ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের মুখে কালি লেপে দিচ্ছে। গত ১৬ জানুয়ারি হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এমপি ও মেয়র সমর্থকদের সংঘর্ষে মেয়রসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। এই ঘটনার পরদিনই নিজ অফিসে কর্মরত অবস্থায় মেয়র আইভী অসুস্থবোধ করেন। নারায়ণগঞ্জে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

দেশের কয়েকটি অঞ্চলের নাম এক সময় সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে সারাদেশের মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছিল। গডফাদার হিসেবে কয়েকটি নামও বেশ আলোচনায় ছিল। ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গফরগাঁও জায়গা হিসেবে; আর জয়নাল হাজারী, আবু তাহের, শামীম ওসমান, আলতাফ গোলন্দাজ নাম হিসেবে অনেকের কাছেই পরিচিত হয়ে উঠেছিল।

এটা গত শতকের নব্বই দশকের শেষ দিকের কথা। তখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক-সাংগঠনিক বিপর্যয় কাটিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল। শেখ হাসিনার সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। দেশে এতদিন সামরিক কিংবা বেসামরিক যে গণবিরোধী শাসন চলছিল, তার অবসান ঘটে শাসনধারায় নতুন অধ্যায়ের শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

মানুষের ওপর ক্ষমতাসীনদের জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, বেআইনি কাজকর্ম কমবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে, মানুষ ন্যায়বিচার পাবে, ঘুষ-দুর্নীতি কমবে, দলবাজি বন্ধ হবে– এ রকম অনেক ভালো কিছুর প্রত্যাশা মানুষ করছিল। মানুষের প্রত্যাশা পূরণের পথেই হাঁটছিল শেখ হাসিনার সরকার। তবে কাজটি সহজ ছিল না। প্রায় দুই যুগের জঞ্জাল এক ফুঁ দিয়ে সাফ করতে হলে যে জাদুর কাঠি হাতে থাকা দরকার, সেটা শেখ হাসিনার ছিল না। তারপরও তিনি এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অতীতের সরকারগুলো থেকে শেখ হাসিনার সরকারের পার্থক্য অনেকের চোখেই ধরা পড়ছিল।

দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কিছু করার উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন। জাতীয় জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করার মতো বেশকিছু কাজ পাঁচ বছরেই শেখ হাসিনার প্রথম সরকার করেছিল। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন থেকে যে অশান্তি বিরাজ করছিল, তার অবসান ঘটাতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল পার্বত্য শান্তিচুক্তি। ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পানিচুক্তিও সই হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বঘোষিত ঘাতকদের বিচারের পথ বন্ধ করে খন্দকার মোশতাক-জিয়া চক্র যে ইনডেমনিটি জারি করেছিল, তা রহিত করে খুনিদের বিচারের আওতায় আনা ছিল শেখ হাসিনা সরকারের একটি যুগান্তকারী সাফল্য। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এটা ছিল অসামান্য অগ্রগতি। আগেই বলেছি, এ কাজগুলো করা খুব সহজ ছিল না। পরিস্থিতিও সম্পূর্ণ অনুকূলে ছিল না। ষড়যন্ত্র ছিল নানামুখী। শেখ হাসিনার দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণেই এ সাফল্যগুলো অর্জন সম্ভব হয়েছিল।

বাইরের শত্রুর চেনা যায়। তাদের থেকে সাবধান হওয়া সহজ। কিন্তু ঘর শত্রু বিভীষণ। তাকে চেনা ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ততটা সহজ হয় না। অনেকেই আওয়ামী লীগ করেন। কিন্তু সবাই নীতি-আদর্শ মেনে দল করেন না। এক দলের কর্মী-সমর্থক হয়েও সবাই এক মত-পথের অনুসারী হয় না। আওয়ামী লীগ যারা করেন, তারা সবাই ত্যাগের রাজনীতি করেন, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে সবাই অবিচল ও নিষ্ঠাবান, সে রকম মনে করার কোনও কারণ নেই।

আওয়ামী লীগ ধনী-গরিব সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলনের একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম। কাজেই স্বার্থের দ্বন্দ্ব আওয়ামী লীগে আছে। শাসক আওয়ামী লীগের বড় চ্যালেঞ্জ ক্ষমতার দম্ভ দেখানো বা ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা। দলীয় পরিচয় দিয়ে কিংবা দলের নাম ভাঙিয়ে যারা গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের বদনাম করে, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে; তাদের দমন করতে না পারলে সেটা কার্যত মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

তাছাড়া বিশেষ পরিস্থিতির বিষয়টিও এই আলোচনায় বিবেচনায় নিতে হবে। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে হয়েছে এক বিরুদ্ধ পরিবেশে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা আওয়ামী লীগকে ‘নির্মূল’ করার লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিল। অস্ত্র শক্তি, পেশি শক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগকে দাবিয়ে রাখার যে অপতৎপরতা, তা রুখতে আওয়ামী লীগের কোনও কোনও সমর্থকও শক্তির পথ অনুসরণের দিকেই ঝুঁকেছিল। পথটি ভুল ছিল অবশ্যই। কিন্তু সাময়িক সুবিধার আশায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ওই ‘ভুল’ পথ অনুসরণকারীদের নিবৃত্ত না করে প্রশ্রয় দিয়েছে। দল ক্ষমতায় আসার পর ওই শক্তিধরেরা সুদ ও আসলে পাওনা আদায়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এরাই জয়নাল হাজারী, আবু তাহের, শামীম ওসমান, আলতাফ গোলন্দাজ অথবা এরকম আরও কেউ। এদের দৌরাত্ম্য এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে যে দেশজুড়েই সরকারের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষের মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে পরাজিত হলো, তার পেছনে অন্য কারণের সঙ্গে এই ‘দুর্বৃত্ত’ নেতাদের অপকর্মের অবদানও কম নয়। এদের বাড়াবাড়ি যদি কঠোর হাতে দমন করা হতো, তাহলে শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের সমর্থন-সহানুভূতি কমত না।

এখন ফেনীতে জয়নাল হাজারী নেই। তাকে ক্ষমতার বলয় থেকে দূরে রাখা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের আবু তাহের আছেন, তবে অঘটন ঘটানো থেকে মনে হয় একটু বিরত আছেন। আলতাফ গোলন্দাজ বেঁচে নেই। কিন্তু এখনও দাপটের সঙ্গে অতীত ঐতিহ্য আঁকড়ে আছেন নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান। তিনি এখন আবার একা নন। ভাই-ভাতিজারাও তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাঝে-মধ্যেই খবরের জন্ম দিচ্ছেন। এই খবরগুলো নেতিবাচক, সরকারের জন্য বিব্রতকর। খুন-খারাপির সঙ্গে ওসমান পরিবারের নাম জড়িয়ে গেলেও আইন তাদের স্পর্শ করতে পারে না।

একসময় শামীম ওসমানদের পরিবার নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের ঠিকানা ছিল। তার দাদা-বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগের বড় সম্পদ। সে জন্য এই পরিবারের প্রতি শেখ হাসিনারও রয়েছে মানবিক দুর্বলতা। আর এটা জেনে তার পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছেন বর্তমান ‘ওসমানেরা’। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ওসমান পরিবার এখন আর নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্য সম্পদ নয়, বোঝায় পরিণত হয়েছে। এই পরিবারকে ক্ষমতার ছায়াদান বন্ধ না করলে তার খেসারত সারাদেশেই দিতে হবে আওয়ামী লীগকে। আওয়ামী লীগের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীরাও এখন আর শামীম ওসমান ও তার পরিবারের আরও দু’চার সদস্যের অন্যায় দাপট মেনে নিতে পারছেন না।

এক পরিবারে একাধিক দল করে ওই পরিবার নারায়ণগঞ্জে এক ধরনের পারিবারিক জমিদারি কায়েম করতে চায়। শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তার ভাই নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য। স্বভাব-চরিত্রে ভাইয়ে ভাইয়ে দারুণ মিল। এক ভাতিজাও তাদের মতোই হয়ে উঠছেন; ত্বকী হত্যায় তার নাম এসেছে বিশ্বাসযোগ্যভাবেই। ভাতিজা কি বিএনপিতে নাম লেখাবে? তাহলে ষোল কলা পূর্ণ হয়। ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দলই এক বাড়িতে থাকলে আর পায় কে!

এই পরিবারের সদস্যরা খবর হতে পছন্দ করেন এবং সে খবরটা অবশ্যই নেতিবাচক। তারা কোনও কিছুরই পরোয়া করেন না। ১৬ জানুয়ারি হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকরাই আইভীর ওপর এই হামলা চালিয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে।
শামীম-আইভী দ্বন্দ্ব নতুন নয়। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহমেদ চুনকাও ছিলেন একজন জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা। চুনকা হলেন আইভীর বাবা। চুনকার সঙ্গে শামীম ওসমান পরিবারের সুসম্পর্ক ছিল না। আইভী রাজনীতি নামলে স্বাভাবিকভাবেই শামীম ওসমানরা খুশি হননি। আইভী যে ওসমান পরিবারের জন্য শক্ত চ্যালেঞ্জ হয়েই মাঠে নামছেন, সেটা শামীম ওসমানরা বুঝতে ভুল করেননি। তাই শুরুতেই তাকে রাজনীতি থেকে ‘উচ্ছেদ’ করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কারণ আইভীর শেকড়টা দুর্বল ছিল না। তার বাবার প্রতি নারায়ণগঞ্জবাসীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আইভীর দিকে গড়িয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচনে শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। অথচ অফিশিয়ালি আওয়ামী লীগের সমর্থন ছিল শামীম ওসমানের প্রতি। আইভী মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় কার্যত নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেতৃত্ব বের হয়ে আসে। আওয়ামী লীগের উচিত ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর সেন্টিমেন্ট অনুধাবন করা। শামীম ওসমানের কিছু সমর্থক নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু তারা মূলত ভয়ে তাকে সমর্থন করেন। আর আইভীকে মানুষ গ্রহণ করেছেন ভালোবেসে। আইভী যেন নির্বিঘ্নে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা সরকার ও দলকেই নিশ্চিত করা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আইভীর পথের কাঁটা হয়ে রয়েছেন শামীম ওসমান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

আইভীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শামীম ওসমানের জয়লাভের কোনও সম্ভাবনা নেই জেনেও পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করা থেকে দূরে থাকতে চাইছেন না শামীম ওসমান। শামীমকে নিবৃত্ত করার জন্য দলের পক্ষ থেকে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে যে রকম দৃঢ় অবস্থান নেওয়া দরকার ছিল, তা নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্টো দু’জনকেই সমর্থন দেওয়ায় দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। শামীম ওসমানের সঙ্গে দুষ্ট বুদ্ধিতে আইভীর পেরে ওঠার কথা নয়। আর শামীম এমন মানসিকতার মানুষ যে তিনি কিছুতেই আইভীর কাছে পরাজয় মেনে নেবেন না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দু’জনকে মিলেমিশে কাজ করার যত পরামর্শই দিক না কেন, তা ফলপ্রসূ হওয়ার নয়। তেলেজলে মেলে না। এর আগে স্বয়ং শেখ হাসিনা দু’জনকে তার সামনে ডেকে বুঝিয়েছেন, শাসিয়েছেন; কিন্তু ফলাফল শূন্য।

গত ১৬ জানুয়ারি শামীম-আইভীর দ্বন্দ্বের পরিণতিতে যে সংঘর্ষ প্রকাশ্যে হয়েছে, তাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাবশালী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত বলে বর্ণনা করেছেন। একে তিনি খুব খারাপ কাজ এবং দল ও সরকারের জন্য ক্ষতিকরও বলেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এগুলো পছন্দ করছেন না। সংবাদপত্রে এ খবরও প্রকাশিত হয়েছে যে, মেয়র আইভী ও সংসদ সদস্য শামীমের বিরোধ যেন আর না বাড়তে পারে, সেটাই এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। এ জন্য কার দোষ বেশি, কার কম— তা নিয়ে আর জল ঘোলা না করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এটাই যদি হয় আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত দলীয় অবস্থান, তাহলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে বলে মনে হয় না। পরস্পর বিপরীত দুই ধারার রাজনীতির দুই প্রতিনিধিকে সমন্বয় করে চলতে বললে তা যে কাজ করে না, সে পরীক্ষা তো আগে একাধিকবার হয়েছে। আবার সেটা করলে কালক্ষেপণ হবে, সুফল মিলবে না। এক সঙ্গে দুই জনকে তুষ্ট করার নীতি শুধু নারায়ণগঞ্জে নয়, দেশের অন্য কোথাও কাজ করবে বলেও মনে হয় না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সংঘর্ষের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য যা দরকার, সেটা আমরা করছি। যারা অস্ত্র দেখিয়েছে, যারা নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সব কথা আপ্ত বাক্যের মতো শোনায়। ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’— বললে এখন মানুষ মনে করে, কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। মানুষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কথা শুনতে চায় না, কাজ দেখতে চায়। অস্ত্র উঁচিয়ে যে মহড়া দিলো, গণমাধ্যমে যার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ পেলো, তাকে পুলিশ কেন ধরতে পারল না? নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছেন মেয়র নিজেই। এই পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের ব্যাপারে সরকারের মনোভাব কী?

২০১৮ সালকে বলা হচ্ছে নির্বাচনের বছর। আর নির্বাচন মানে মানুষের মুখোমুখি হওয়া। তাই এ বছর এমন কিছু করা ঠিক হবে না যা মানুষের মনকে বিগড়ে দেবে। মানুষের মুখোমুখি হওয়ার আগে গতরের ময়লা সাফ করে নেওয়া দরকার।

লেখক: কলামিস্ট

সব খবর
মতামত বিভাগের সর্বশেষ